দ্বিতীয় পর্বে উঠে এলো বিজেপি-মুসলিম সম্পর্ক

মোদিকে নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্র

ঠিকানা অনলাইন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ইন্ডিয়া: দ্য মোদি কোয়েশ্চেন নামের এ তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্বে ভারতের মুসলিমদের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক কেমন, তা উঠে এসেছে।

বিবিসির তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশের পর আবার তোলপাড় শুরু হয়েছে ভারতে। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় ২৪ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এটি প্রচার করা হয়। এরপরই এ নিয়ে সরব হয় ভারতীয় গণমাধ্যম। ২৫ জানুয়ারি (বুধবার) ভারতের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত তথ্যচিত্রে ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ের পর মোদি সরকারের সঙ্গে মুসলিমদের সম্পর্ক কেমন ছিল এবং দেশটিতে সাম্প্রদায়িক পরিবেশ কী অবস্থায় ছিল তা উঠে এসেছে।

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি মোদিকে নিয়ে তথ্যচিত্রের প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয়। সেখানে মোদি ও দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ পায়। পাশাপাশি ২০০২ সালে গুজরাটের দাঙ্গায় মোদির ভূমিকা নিয়েও রয়েছে অনুসন্ধান।

২০০২ সালে গুজরাটের ভয়াবহ দাঙ্গার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। বর্তমানে সেই মোদিই ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট দাঙ্গার অভিযোগ থেকে মোদিকে মুক্তি দিলেও সেই সময় তার ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা ছিল প্রথম তথ্যচিত্রে।

প্রথম তথ্যচিত্র প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ জানায় নয়াদিল্লি। দুই পর্বের এই ধারাবাহিককে প্রোপাগান্ডা হিসেবে অভিহিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছিলেন, তথ্যচিত্রে পক্ষপাতিত্ব ও বস্তুনিষ্ঠতার চরম অভাব রয়েছে। ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া এ তথ্যচিত্র প্রচার বন্ধে ইউটিউব-টুইটারকে নির্দেশ দেয় সরকার।

এদিকে তথ্যচিত্রের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর তা বিভিন্ন রাজ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেয় বিরোধী দলের নেতারা। সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দক্ষিণের রাজ্য কেরালার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে তথ্যচিত্রটি প্রদর্শন করেছে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই। বিবিসি তথ্যচিত্রটি ভারতে রিলিজ করেনি। বিবিসিটু চ্যানেলে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বহু দেশে রিলিজ করা হয়েছে। ইন্টারনেটের উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতে অনেকেই ইউটিউবে তথ্যচিত্রটি দেখছেন।

ঠিকানা/এসআর