দ. আফ্রিকায় বাংলাদেশিরা আতঙ্কে

ঢাকা : দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি নাগরিকরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশি এক নাগরিককে একদল কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী কুপিয়ে হত্যার পর থেকেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশি ওই নাগরিকের দোকানে চাঁদা চাইতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তেমন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বহু এলাকায় এখন বাংলাদেশি নাগরিকেরা ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের ভয়ে।

আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ফেনীর এক ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন টেলিফোনে জানান, তারা খুব জটিল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। গত ২০ বছরে কৃষ্ণাঙ্গরা এমন হিংস্র হয়ে ওঠেনি।

তারা এবার বাংলাদেশি নাগরিক দেখলেই মারমুখী হয়ে উঠছে। কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে কৃষ্ণাঙ্গরা চাঁদা চাইলে বাংলাদেশিসহ অন্য দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিয়ে দিত।

এবার চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এক বাংলাদেশিকে দোকানের মধ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। খুন হওয়া ওই নাগরিক চার বছরের বেশি সময় ধরে দেশটিতে অবস্থান করছে। সেখানে তিনি চাল ডালের দোকান করেন। আফ্রিকানরা যখন খুশি তখনই দোকান থেকে চাঁদা নিয়ে যেত। এবার তিনি প্রতিবাদ করায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার ঘটনাটি স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে কালো সন্ত্রাসীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এখন আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে বর্তমানে বাংলাদেশের ৫ থেকে ৬ লাখ নাগরিক বসবাস করছেন। তারা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ অন্যান্য কাজ করেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আফ্রিকায় বসবাস করা নাগরিকরা দেশে বড় অঙকের রেমিট্যান্সও পাঠিয়ে আসছেন।

প্রায়ই দেশটিতে বাংলাদেশি, ভারতীয়, নেপালিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকরা কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হন।