নতুন ঝুঁকিতে সুন্দরবন

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রবল প্রতিবাদ, আপত্তি সত্ত্বেও সুন্দরবন-সংলগ্ন স্থানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি সরকার। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটি লিটারের বিল রিজার্ভার নির্মাণ করা হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাউদার্ন পাওয়ার নামের একটি কোম্পানি সুন্দরবনের পাশে মোংলায় ১৫০ মেগাওয়াটের একটি ফার্নেসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত শ্যালা নদীতে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেলবাহী জাহাজ ডুবে গেলে সুন্দরবনের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, মাছ ও পশু-পাখির প্রচুর ক্ষতি হয়। ফার্নেসভিত্তিক প্ল্যান্টের জন্য আড়াই কোটি মিটারের রিজার্ভার নির্মাণ করতে হবে। ফার্নেস অয়েল পরিবহন করা হবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদী দিয়ে। রামপালে কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলেছে। এসব প্রকল্প সুন্দরবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা তীব্র প্রতিবাদ, আন্দোলন সংগঠিত করেন। নতুন করে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনসহ দেশের পরিবেশবিজ্ঞানীরা এর বিপক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। সরকার রামপালে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা কিছুদিন স্থগিত রেখে পরে আবার বাস্তবায়ন কাজ শুরু করে। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের অপর প্রকল্পটি দীর্ঘ মেয়াদে চেপে রাখা হয়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আশঙ্কায় পরিবেশবিজ্ঞানীরা এর বিপক্ষে রাস্তায় নামেন। ফার্নেল অয়েলভিত্তিক প্রকল্পের জন্য দৈনিক ১২ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল লাগবে এবং এই তেল সুন্দরবন দিয়ে পরিবাহিত হবে। ইতিপূর্বে সংঘটিত ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফার্নেল অয়েলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সুন্দরবন, নদী, সাগর, জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিবেশবিজ্ঞানীরা এ প্রকল্পের প্রতিবাদে সোচ্চার হন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিশাল ফার্নেস অয়েলের মজুদ গড়ে তোলা হলে তা সুন্দরবনকে অধিকতর ঝুঁকিতে ফেলবে বলেই তাদের আপত্তি তীব্রতর হয়। তাদের আন্দোলনের মুখে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়েছিল। ইদানীং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাটি নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে। পিডিবি সূত্রে জানা যায়, এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
জানা যায়, কৌশলগত কারণ ছাড়াও কিছু বাস্তব প্রতিকূলতার কারণেও প্রকল্পটি ফেলে রাখা হয়। কিন্তু তা পরিত্যাগ করা হয়নি। নীতিগতভাবে অনুমোদন নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটির পেছনে খুলনার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একজন এমপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নৌপথ ব্যাপকভাবে খনন করা হচ্ছে। আরো দুই বছর খননকাজ চলবে। এতে করে ফার্নেস অয়েলসহ জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার সুন্দরবনের নদীপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে বলে সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।