নতুন দাদাগিরি

স্পোর্টস ডেস্ক : আমার প্রথম কাজ হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের দিকে নজর দেওয়া। এর আগে এই ব্যাপারে সিওএ-কে অনুরোধও করেছিলাম। কিন্তু ওরা শোনেনি। রঞ্জি ট্রফির দিকেও ফোকাস থাকবে। ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বার্থের ব্যাপারটা দেখতে হবে ‘দাদার কীর্তি’ না বলে বলা ভালো ‘মহাকীর্তি’। গত ১৩ অক্টোবর মধ্যরাতের দাদাগিরির পর আর্থিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। যদিও আনুষ্ঠানিকতা একটু বাকি। ২৩ অক্টোবর নির্বাচন। সেদিনই শীর্ষ পদে বসবেন তিনি।


মুম্বাইয়ে বোর্ড সভায় সর্বসম্মতভাবে ৪৭ বছর বয়সী সৌরভকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে তৈরি হয় মহানাটকীয় পরিস্থিতি। শীর্ষ পদের জন্য সাবেক ক্রিকেটার ব্রিজেশ প্যাটেলের নামও উঠে আসে সৌরভের পাশাপাশি। কিন্তু বোর্ডের কিছু সদস্য তাকে সমর্থন না করায় শেষ পর্যন্ত সৌরভকে সর্বসম্মতভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনীত করা হয়। ভারতীয় ক্রিকেটের বড় দুঃসময়ে অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে সফল হয়েছিলেন সৌরভ। এবার বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও সফল হওয়ার সুযোগ তার সামনে। দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ভারতীয় বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন সৌরভ। ১৯৫৪ থেকে ৫৬ পর্যন্ত ভারতীয় বোর্ডের প্রথম ক্রিকেটার সভাপতি ছিলেন মহারাজা ভিজিয়ানাগ্রাম। ১৯৩৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। তবে শিবলাল যাদব এবং সুনিল গাভাস্কারও বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তবে অনির্বাচিত তারা, অন্তর্বর্তী হিসেবে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবর, বিসিসিআইয়ের রাজ্য সংস্থাগুলোর বেসরকারি বৈঠকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি শ্রীনিবাসন এবং অনুরাগ ঠাকুর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করেছিলেন শ্রীনির প্রার্থী ব্রিজেশ প্যাটেলকে প্রেসিডেন্ট করা হবে। আর সেক্রেটারি করা হবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলে জয় শাহকে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল সিএবির প্রেসিডেন্ট সৌরভকে দেওয়া হবে আইপিএলের চেয়ারম্যান হওয়ার প্রস্তাব। কিন্তু ১১৩ টেস্ট ও ৩১১ ওয়ানডে খেলা সৌরভ সেই প্রস্তাব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেন- হলে তিনি প্রেসিডেন্টই হবেন। বৈঠক ছেড়ে বেরিয়েও যান তিনি। এরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠ বোর্ড প্রতিনিধিরা বিদ্রোহ করেন শ্রীনির প্রার্থী ব্রিজেশের বিরুদ্ধে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধিরাই মূলত শ্রীনি-বিরোধী বিদ্রোহে অংশ নেন। ফলে আবার উঠে আসে সৌরভের নাম। তা ছাড়া ব্রিজেশের তুলনায় সৌরভের অভিজ্ঞতাও তাকে এগিয়ে রাখে। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি সিএবি প্রশাসনে দায়িত্ব সামলেছেন। পরিস্থিতি বিচেনায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধিদের আবেগকে সম্মান জানাতে শেষ পর্যন্ত সৌরভকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। সৌরভ যদিও এত নাটকের কথা জানতেনই না। সুখবর পাওয়ার পর তিনি সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, ‘বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এই সময়ে প্রেসিডেন্ট হতে পারায় খুশি। কিছু করার জন্য দারুণ সুযোগ পেয়েছি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হোক বা অন্য ভাবেই হোক, এটা মস্ত বড় দায়িত্ব। কারণ, বিসিসিআই বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সংস্থা। ভারত হলো ক্রিকেটের পাওয়ার হাউজ। এই দায়িত্ব তাই রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং।

গত ১৪ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন সৌরভ। নাটকীয়তার রেশ নিয়ে বলেন, ‘দেশের অধিনায়ক হওয়ার ব্যাপারই আলাদা। সেটার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। তবে আমি কখনো ভাবিনি বোর্ড প্রেসিডেন্ট হতে পারব।’ উল্লেখ্য, লোঢা সংস্কার অনুসারে বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১০ মাস সময় পাবেন সৌরভ। সিএবিতে গত পাঁচ বছর পদাধিকারী থাকায় আগামী জুলাইয়ে ক্রিকেট প্রশাসন থেকে তিন বছরের জন্য বাধ্যতামূলক ‘কুলিং অফে’ যেতে হবে সৌরভকে। ‘এটাই নিয়ম। আমাদের তা মেনে নিয়েই চলতে হবে। আমার প্রথম কাজ হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের দিকে নজর দেওয়া। এর আগে এই ব্যাপারে সিওএ-কে অনুরোধও করেছিলাম। কিন্তু ওরা শোনেনি। রঞ্জি ট্রফির দিকেও ফোকাস থাকবে। ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বার্থের ব্যাপারটা দেখতে হবে’ বলেছেন তিনি। বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় সৌরভ অভিনন্দন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘বোর্ড প্রেসিডেন্ট পদে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হওয়ায় সৌরভকে অভিনন্দন। অজস্র শুভেচ্ছা রইল। তুমি ভারত ও বাংলাকে গর্বিত করেছ। সিএবি প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তোমার কাজে গর্বিত। একটা দুর্দান্ত ইনিংসের অপেক্ষায় থাকলাম।’