নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ প্রসঙ্গে-

মোহাম্মদ এন মজুমদার

কোভিড-১৯ মহামারীর ধ্বংসযজ্ঞদের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী, মহামারী, অর্থনৈতিক মন্দা ইত্যাদি সত্ত্বেও পৃথিবীর ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আজও অনেক লোভনীয় এবং স্বপ্নের দেশ। সব পেশার মানুষ এবং সবদেশের মানুষেরই শেষ ইচ্ছা ও ভরসাস্থল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তাই এখানে আসার জন্য সবাই উদগ্রীব। আসুন তাহলে দেখে নিই, ভ্রমণ ভিসার জন্য কি কি করা দরকার, কি কি কাগজপত্র ও প্রস্তুতি থাকা দরকার।

১. ফিরে যাবার নিশ্চয়তা : ভ্রমণকারী বিজনেস অথবা আনন্দ ভ্রমণ যে কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে আসুক না কেন, তাদেরকে সর্বপ্রথম প্রমাণ করতে হবে যে, ভ্রমণ শেষে তারা নিজ দেশে তথা বাংলাদেশে ফেরত যাবেন।

২. ভ্রমণের সামর্থ্য : ভ্রমণকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে, তার পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য আছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় জনগণের বোঝা হবেন না। এই জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকালে ইন্স্যুরেন্স যেন থাকে, এই মর্মে নিশ্চয়তা ও প্রমাণাদি থাকতে হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বোঝা যাতে ভ্রমণকারী এবং অন্যান্য ভিসায় আগতরা না হয়, তা একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হয়ে আছে।

৩. ভ্যাকসিন : কোভিড মহামারী সারাবিশ্বের জন্যই একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে আছে। ফলে, রোগ প্রতিরোধ ও সংক্রমণের হার হ্রাসের জন্য ভ্রমণকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে, তারা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন।

৪. আবেদনকারীর যোগ্যতা : যদিও সব মানুষেই ভ্রমণ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন, তবে, যাদের স্বদেশে তথা পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বন্ধন রয়েছে, তারাই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের প্রাথমিক যোগ্যতা রাখেন। সংক্ষেপে বলা হয়, অর্থনৈতিকভাবে মোটামুটি স্বচ্ছল একজন কর্মজীবী, পেশাজীবী, চাকুরিজীবী এবং ব্যবসায়ীÑ যার সুদীর্ঘকাল কোন পেশা বা কর্মে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনি সপরিবারে আবেদন করলে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে অবিবাহিত, অপেক্ষাকৃত তরুণ ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পেলে ফেরত না যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, তারা হয়তো ভিসা নাও পেতে পারেন।

৫. ভ্রমণ পরিকল্পনা বা IIENARY : ভ্রমণকারী অথবা বিজনেস ভিসা প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের যাবতীয় পরিকল্পনা তথা কবে, কোথায়, কি কি কারণে আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্র আসতে চান, কতদিন থাকতে চান, ভ্রমণের বা টুরের ব্যয় কে বহন করবেন, ব্যবসাসংক্রান্ত কাজে আসলে কোথায়, কার সাথে, কি কারণে মিটিং হবে, কি বিষয়ে মিটিং হবে, অগ্রিম Invitation ইত্যাদি থাকতে হবে।

৬. ইতিপূর্বেকার ভ্রমণ : একজন ভিসাপ্রার্থী আবেদনের পূর্বে যদি দেখাতে পারেন যে, তিনি একজন ভ্রমণপিপাসু এবং আর্থিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং ইতিপূর্বে পৃথিবীর বহুদেশ বা কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন, সেই ক্ষেত্রে তার নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। একজন কনস্যুলার অফিসার ভিসা ইস্যুর পূর্বে যাচাই করবেনÑ আবেদনকারী যোগ্য কিনা, ভ্রমণ শেষে স্বদেশে ফেরত যাবেন কিনা, আর্থিক সামর্থ্য, বয়স, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন, চাকুরি-পেশা ইত্যাদি বিবেচনায় একজন ভিসাপ্রার্থীকে ভিসা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।