নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে পাস হলো মার্কিন বাজেট

ঠিকানা ডেস্ক : নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পাস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিবার্ষিক বাজেট। এর আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিনেটে বাজেট বিল পাস না হওয়ার কারণে কয়েক ঘণ্টা অচল ছিল মার্কিন সরকার। সিনেটে বাজেট পাস হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে রিপাবলিকান র্যান্ড পল সামরিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আইন প্রণেতাদের। বিস্তর যুক্তি-তর্কের পর সিনেটে ৭১ সদস্যের সমর্থনে বাজেট পাস হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিনিধি পরিষদে ২৪০ সদস্যের সমর্থন নিয়ে পাস হয় যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিবার্ষিক বাজেট।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করার পরই তা কার্যকর হবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ান বলেন, নতুন বিল আমাদের জন্য বড় বিজয়। কেননা এতে সেনাবাহিনীকে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এতে কোন পক্ষের চাওয়াই পুরোপুরি পূরণ হয়নি। কিন্তু আমরা আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও মঙ্গলকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্মত হয়েছি। এর আগে শুক্রবার বছরে দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম। কংগ্রেস থেকে নিন্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন বাজেট পাস না হওয়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ থেকে প্রস্তাবিত বিল পাস না হওয়ার কারণে সাময়িকভাবে অচলাবস্থার শিকার হয় ট্রাম্প প্রশাসন। প্রসঙ্গত, ১৯শে জানুয়ারি সরকারের বাজেট বৃদ্ধি নিয়ে সিনেটে মতবিরোধ দেখা দিলে বছরে প্রথমবারের মতো বন্ধ হয় সরকারি কার্যক্রম। পরবর্তীকালে তিন দিন অচলাবস্থা বিদ্যমান থাকার পর একটি সাময়িক চুক্তিতে পৌঁছান ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান সিনেটররা।বিবিসি’র খবরে বলা হয়, সিনেট থেকে পাস হওয়া ৬০০ পৃষ্ঠার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুসারে, প্রতিরক্ষা ও দেশীয় সেবায় সরকারি বাজেট বৃদ্ধি পাবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার। এই বিল পাসের বিষয়ে শেষ মুহূর্তে অভিযোগ করে বসেন রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল। তার অভিযোগ সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয় আইন প্রণেতাদের। স্থানীয় সময় অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে গত মধ্যরাতেই বাজেট পাসের সময়সীমা শেষ হয়। আর তখন থেকেই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় সরকারি কার্যক্রম।বাজেট নিয়ে র্যান্ড পলের অভিযোগ: সিনেট থেকে পাস হওয়া বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ খুশি হলেও এজন্য দেশের ঋণ বৃদ্ধি পাবে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এদের মধ্যে একজন হচ্ছেন র্যান্ড পল। সতীর্থ রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে আর্থিক অপব্যয়িতার অভিযোগ আনেন পল। তিনি বলেন, আমার নির্বাচনে লড়ার পেছনে কারণ ছিল আমি ওবামা’র লাখ কোটি ডলার ঘাটতি থাকার বিষয়টি পছন্দ করিনি। আর এখন আমাদের অনেক রিপাবলিকানরা ডেমোক্রেটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আবার ওই লাখ কোটি ডলার ঘাটতির প্রস্তাব দিচ্ছেন। আমি আমার সমপূর্ণ সততা ও বিশ্বাসের সঙ্গে এ বিষয় থেকে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারবো না। যখন আমার দল এমন দুষ্কর্মে জড়িত। সেটা হবে পুরোপুরি ভ-ামি।ডেমোক্রেটদের অসন্তুষ্টির কারণ: সিনেট নেতা চাক শুমারের সমর্থন থাকা সত্তেও কয়েকজন ডেমোক্রেটের অভিযোগ, বিলটিতে অভিবাসনের বিষয়টিকে গুরত্ব দেয়া হয়নি। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেট প্রধান ন্যান্সি পেলোশি বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি নতুন বাজেট পরিকল্পনার বিরোধী। তবে এজন্য ডেমোক্রেটদের এর বিরুদ্ধে ভোট দিতে নিন্দেশ দিবেন না পেলোসি। তিনি, বিলটিতে ‘ড্রিমারসদের’ রক্ষার জন্য একটি বিধান অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ উপায়ে নিয়ে আসা হয়েছে এমন তরুণ অভিবাসীরা ‘ড্রিমারস’ হিসেবে পরিচিত। ওবামা প্রশাসন এসব অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দিয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সে অনুমোদন বাতিল করে দেয়। আগামী মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি হারাবে তারা।