নানা আয়োজনে নতুন বছরকে স্বাগত জানাল বিশ্ববাসী

কালের গহ্বরে হারিয়ে গেল আরও একটি ইংরেজি বর্ষ। বিশ্ববাসী পেল নতুন বছর ২০১৮। নানা আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববাসী। ফেলে আসা বছরের ব্যর্থতাগুলোকে উৎরে ওঠার প্রত্যয় বুকে নিয়ে নতুনকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। নানা রঙের আতশবাজির খেলায় এদিন রঙিন হয়ে ওঠে আকাশ।

বিশ্বের কোনো বড় শহর হিসেবে সবার আগে ২০১৮ সালকে বরণ করে নিল নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড। শহরের কেন্দ্রস্থলের এক হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতার স্কাই টাওয়ারে বর্ণিল আলোকচ্ছটার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। এখানে আয়োজন করা হয় দৃষ্টিনন্দন আতশবাজি ও লেজার শোর। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় এ বছর আতশবাজি ও লেজার শো প্রত্যক্ষ করতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ সমবেত হয় ।

অস্ট্রেলিয়ার অনেক এলাকায় গ্রিনিচ মান সময় ১৩টায় বর্ষবরণ শুরু হয়। এ সময় সিডনি হারবারে শুরু হয় দৃষ্টিনন্দন আতশবাজি। স্থানীয় সময় রাত ৯টায় একটি প্রাক্-শো অনুষ্ঠিত হয়। মূল অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করে ১০ লাখের মতো মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, নিউইয়র্কসহ দেশটির বড় বড় শহর বর্ণিল আলোকচ্ছটায় সেজে ওঠে। বরাবরের মতোই সিডনি, সিঙ্গাপুর, প্যারিস, লন্ডনসহ বড় বড় শহরগুলো রীতিমতো নেমে পড়ে প্রতিযোগিতায়, কার চেয়ে কে বেশি বর্ণিল সজ্জায় ছাপিয়ে যাবে। প্রতিবারের মতো দুবাইয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থাপনা বুর্জ খলিফায় অনন্য দৃষ্টিনন্দন আতশবাজির আয়োজন করা হয়।

আতশবাজির খেলা দেখতে কয়েক ঘণ্টা আগেই সিডনি হারবারের আশপাশে অবস্থান নেয় দর্শনার্থীরা।

 

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে, স্পেনের মাদ্রিদের পুয়েত্রা ডেল সোল স্কয়ারে, প্যারিস, লন্ডনে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে আতশবাজি পুড়িয়ে ও আলোর ঝলকানির মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে উদযাপনের আয়োজন করা হয়।

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ঐতিহ্যগতভাবে স্থানীয় সময় রাত ১২ বাজতে এক মিনিট আগে (বাংলাদেশ সময় পরদিন বেলা ১০টা ৫৯ মিনিট) চোখ ধাঁধানো ওয়াটারফোর্ড ক্রিস্টাল (Waterford crystal) বল ড্রপ-এর মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় আমেরিকাবাসী।

নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ এর অনলাইনে বলা হয়েছে, এ বছর ইংরেজি বছরকে বরণ করে নিতে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। তীব্র ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে তারা নতুন বছরকে বরণ করতে সেখানে উপস্থিত হয়।

 

আমেরিকার গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে উপস্থিত সব বয়সী মানুষের শরীরে ভারি গরমের পোশাক। তবে চোখে মুখে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

খবরে আরও বলা হয়, বর্ষবরণের জন্য মার্কিনিরা সন্ধ্যা থেকে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়। এ সময় তাদের বিনোদিত করার জন্য সন্ধ্যা থেকে রাত ১২.১৫ মিনিট পর্যন্ত চলে জনপ্রিয় শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা।

 

দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় নতুন বছরকে বরণ

এশিয়ার বিভিন্ন শহর যেমন হংকং, সিঙ্গাপুর, বেইজিং এবং অন্যান্য দেশের শহরগুলোয় নিজস্ব নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবারে বর্ষবরণ উদযাপন করতে দিন থেকেই জড়ো হতে থাকে মানুষ। অনেককেই দেখা যায় তাবু, বিছানার চাঁদর, বালিশ নিয়ে আশপাশের খোলা জায়গায় অবস্থান নিতে।

সিডনিতে আতশবাজির খেলা

আন্তর্জাতিক মান সময়ের তারতম্যের কারণে নতুন বছরকে আগে বরণ করার সুযোগ পায় এমন দেশগুলোর একটি নিউ জিল্যান্ড। নতুন বছরকে আমন্ত্রণ জানানোর উৎসবে মেতে ওঠার ক্ষেত্রে বড় শহরগুলোর মধ্যে অকল্যান্ডের সুযোগ আসে সবার আগে। তবে বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে নববর্ষ শুরু হয় সামোয়াতে। দেশটি নিউ জিল্যান্ডের কাছাকাছি অবস্থিত।