নাম ভুল : আমেরিকায় আসতে পারছেন না গ্রিনকার্ডধারী সুরাইয়া

চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের তেলেসমাতি

ঠিকানা রিপোর্ট: সুরাইয়া বেগম। একজন বয়স্ক বাংলাদেশী। আমেরিকান গ্রীন কার্ড হোল্ডার। তাকে এখন চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশে গিয়ে ডিজিটাল পাসপোর্ট করতে দিয়ে এখন মহা সংকটে পড়েছেন। আসতে পারছেন না আমেরিকায়। আমেরিকায় যদি আসতে না পারেন তাহলে তার গ্রীনকার্ডই নষ্ট হতে যেতে পারে। সুরাইয়া বেগেমের ছেলে ফখরুল ইসলাম মাসুম ঠিকানাকে জানান, তার মা সুরাইয়া বেগম আমেরিকান গ্রীনকার্ড হোল্ডার। তিনি গ্রীনকার্ড নিয়েই আমেরিকা এবং বাংলাদেশে আসা যাওয়া করেন। সমস্যায় পড়েন ২০১৭ সালে। ঐ সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী তাকে আমেরিকায় আসতে হলে বা বিদেশে ভ্রমণ করতে হলে ডিজিটাল পাসপোর্ট করতে হবে। ডিজিটাল পাসপোর্ট করার জন্য তিনি পুরানো পাসপোর্টসহ চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পাসপোর্ট তুলে দেখতে পান যে নতুন ডিজিটাল পাসপোর্টে তার নাম এবং জন্ম তারিখ ভুল। যদিও নতুন পাসপোর্টে পুরাতন পাসপোর্ট নম্বর দেয়া হয়েছে এবং তার গ্রীনকার্ডেও পুরাতন নাম রয়েছে। নাম এবং জন্ম তারিখ ভুলের কারণে তিনি এখন মহা সংকটে পড়েছেন। কোনভাবেই নাম এবং জন্ম তারিখ ঠিক করতে পারছেন না। একটি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নতুন আইন অনুযায়ী এখন পাসপোর্টের নাম এবং জন্ম তারিখ ঠিক বা সংশোধন করার কোন বিধান নেই। সুরাইয়া বেগমের পাসপোর্টে নাম এবং জন্ম তারিখ যদি সংশোধন বা ঠিক করা না যায় তাহলে তিনি আমেরিকায় আসতে পারবেন না। আমেরিকায় আসতে না পারলে তার গ্রীনকার্ড নষ্ট হয়ে যাবে। স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় আর আসতে পারবেন না।
ফখরুল ইসলাম মাসুম বলেন, আমার মার পুরতান পাসপোর্ট নম্বর হচ্ছে- এক্স ০১০২১৫৪। নাম হচ্ছে- ঝটজঅওণঅ ইঊএটগ, জন্ম তারিখ- ৩০-০৬-১৯৪২। নতুন পাসপোর্টে নাম দেয়া হয়েছে- ঝটজজণঅ ইঊএটগ, জন্ম তারিখ দেয়া হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৫। নতুন পাসপোর্ট নম্বর বিএন০৫০৪৯৫৬। পাসপোর্টটি ইস্যু করা হয় ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। ঠিকানার এক প্রশ্নের জবাবে জনাব মাসুম বলেন, চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিস কেন এই ভুল করলো তা আমার বোধগম্য নয়। তাদের ভুলের কারণেই আমাদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। তাদের ভুলের দায় আমাকে কেন নিতে হবে। আমার মা আমেরিকা আসতে না পারলে এর দায়- দায়িত্ব কে নেবে? আপনার মায়ের নতুন পাসপোর্টে কীভাবে ভুল হলো- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারাই জানেন। দুটো পাসপোর্টেই জন্ম নিবন্ধন নম্বর ঠিক রয়েছে। তবে যখন জাতীয় পরিচয় পত্র করা হয় তখন আমার মায়ের নাম- ঝটজজণঅ ইঊএটগ লেখা হয়েছে এবং জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ০৩/০২/ ১৯৪৫। যখন এই পরিচয় পত্র বানানো হয় তখন কোন কর্মকর্তা আমার মার কাছে যাননি। তাকে তার নাম এবং জন্ম তারিখ সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞেস করেননি। ঐ অফিসার আমার মার কাছে না গিয়ে অন্য কারো কাছ থেকে ইনফরমেশন নিয়ে এই কাজটি করেছেন। যা সাধারণত বাংলাদেশে হয়ে থাকে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যখন তার কাছে পুরানো পাসপোর্ট আছে, সেটি সে কেন ফলো করেনি? অথবা কোন সমস্যা বা তথ্যে কোন সমস্যা থাকলে চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিস থেকে আমাদের জানানো উচিত ছিলো। তিনি বলেন, তাদের ভুলের খেসরাত আমাকে দিতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে আমরা চাঁদপুর আদালতেও যাই। সেখান থেকে সত্যায়ন করা মেজিস্ট্রেটের সই করা একটি কাগজও দিই কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশন থেকে আগে জাতীয় পরিচয় পত্রে নাম ঠিক করতে হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে গিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। যেমন আমার নানী মারা গিয়েছেন আজ থেকে ৪০ বছর আগে। তারা এখন আমার নানীর কাগজপত্র চাচ্ছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে আমি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেট অফিসেও গিয়েছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তারা জানিয়েছে, নতুন আইন হচ্ছে ডিজিটাল পাসপোর্ট সংশোধন করা যাবে না। পাসপোর্টে নাম ঠিক করতে হলে বা পাসপোর্ট সংশোধন করতে হলে নতুন আইন করতে হবে। নতুন আইন না করলে বা সরকার নির্দেশ না দিলে আমার মার পাসপোর্ট ঠিক বা সংশোধন করা যাবে না। তিনি বলেন, এই অবস্থায় আমি কী করবো? চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে আমার মার জীবন কি নষ্ট হয়ে যাবে? তার গ্রীনকার্ড কি শেষ হয়ে যাবে? এই কোন অদ্ভূত দেশে আমাদের বসবাস? পৃথিবীতে এমন কোন দেশ আছে কি- যেখানে পাসপোর্টে নাম ভুল হলে তা ঠিক করা যায় না? কী অদ্ভূত নিয়ম? আর কোন দেশে কি এমন নিয়ম আছে? পাসপোর্ট সংশোধন করার বিধানটি পুনবর্হাল করা প্রয়োজন। আমরা প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের উন্নয়নে কাজ করছি, আর আমাদের এভাবে হয়রানি কেন করা হচ্ছে? এই আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। প্রবাসীদের হয়রানিও বন্ধ করা দরকার। আমার মা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আসতে না পারেন তাহলে আমি আইনী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।