নারীর অগ্রগতিতে বিডলস্ এর কার্যক্রম

নাহিদ নজরুল: জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা! নারী শক্তিকে আরো এগিয়ে নিতে গত ১ মার্চ থেকে চার মার্চ তিন দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হলো নারী জাগরণ সেমিনার। সংহতি আমাদের জয়, এই স্লোগানকে ধারণ করে শেষ হলো উইমেন্স ডেমক্রেটিক পার্টিসিপেশন। মার্কিন দূতাবাস এই কর্মশালাটির আয়োজন করে।

নারীর গণতান্ত্রিক অধিকারের সমর্থনে মার্কিন দূতাবাস নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, হিংসা, বিদ্বেষ আর সংঘাতের বিরুদ্ধে অবস্থান, প্রতিবেশীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নিজের পরিবার এবং সমাজকে সহনশীল হতে উদ্যোগী হওয়া, আন্তঃর্ধম সংলাপের মাধ্যমে দেশকে শান্তির পথে এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা পালন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সচেষ্ট।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ এলায়েন্স ফর উইমেন্স লিডারশীপ (বিডলস) কর্মশালার উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী এবং অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনা করেন বিডলসের পরিচালক সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস। পুরো সেমিনারটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি মেলায় এক সঙ্গে একযোগে প্রদর্শন করা হয়। মূল কর্মশালাটি ফেনী জেলায় অনুষ্ঠিত হলেও কুমিল্লা, বগুড়া ও সিলেটে অবস্থানরত সদস্যরা সমানভাবে অংশগ্রহণ করেন।

“বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।” এই মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নারী উন্নয়নের এই প্রশিক্ষণে নারীর পাশাপাশি পুরুষ সদস্যরাও সমানভাবে অংশগ্রহণ করেন। নারী পুরুষের সমান প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন সমাজ, তাইতো বিডলসের পুরুষ সদস্যরা সবসময় নারীর এগিয়ে চলার পথে বাধা না হয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন নির্দ্বিধায়।

চারটি জেলায় নারী পুরুষ মিলিয়ে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সদস্য সংখ্যা ছিল মোট ১৬০ জন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একই সাথে চারটি মেলায় বিডলস সদস্যরা একসঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের ভিডিও কনফারেন্সের দায়িত্বে ছিলেন সাকিব চৌধুরী। তিনি জানান তার আইটি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টেকনোলজি লিমিটেড এই প্রথম বাংলাদেশে একযোগে চারটি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছে।

বিগত দশ বছর ধরে বিডলস নারীর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে।

এই প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে- পূর্ণবয়স্ক নারীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলা, নারীর আত্মবিশ্বাস ও যোগ্যতা প্রদানের উপর কর্মশালা।

এছাড়া এই প্রতিষ্ঠান মনে করে একটি সুখি ও পুষ্টি সমৃদ্ধ পরিবার সমাজ ও জাতি নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এই কারণে শুরু থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নারী ও পুরুষকে পুষ্টি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও এই বিষয়ে কর্মশালা পরিচালনা করে আসছে। নারী পুরুষের মধ্যে সমতা এবং রাজনীতিতে নারীর অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি প্রকল্পে প্রশিক্ষণ দান।

দেশের সকল নারীকে জীবনের সকল পর্যায়ে সমান অধিকার পাওয়ার জন্য নেতৃস্থানীয় নারীকে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে উৎসাহ প্রদান।

বিডলসের অপর নীতিমালা ব্যক্তিগত স্টেটমেন্ট, যা নারী পুরুষ নির্বিশেষে তাদের লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করে। যেমন:- ব্যক্তিগত মিশন স্টেটমেন্ট আপনার ভাবনার ব্যাখ্যা করে। একটি মিশন স্টেটমেন্ট আপনার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ। আপন মূল্যবোধগুলো কীভাবে কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত করবেন তা জানা যায়।

বিডলস-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে- দলমত নির্বিশেষে দেশের নারী অগ্রগতি এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সংঘবদ্ধ ভাবে কাজ করা। ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী নেতৃত্ব গঠনে সহায়তা করা।

সংবিধানের অধ্যায় সংশোধনের মাধ্যমে সংসদে নারীর সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি করা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদেরকে আরো আত্মবিশ্বাসী এবং দক্ষ করে গড়ে তোলা।
বিডলসের প্রতিষ্ঠাতা ভূতপূর্ব রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের সুশিক্ষার এহেন কার্যক্রম প্রশংসা এবং বাহবা পাওয়ার যোগ্য।