নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প

ঢাকা : দেশের সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। চাকরি থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্রই তাদের অবাধ বিচরণ অনেক বেড়েছে। উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিও করছেন তারা। আর এমন নারী উদ্যোক্তাদের জন্যই রাজধানী ঢাকায় হচ্ছে ১২তলা আলাদা ভবন। এ ভবনে হবে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন জয়িতা ফাউন্ডেশনের স্থায়ী ও প্রধান কার্যালয়।
১৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এ ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য গত গ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তোলা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুমোদন পেলে ধানমন্ডিতে জয়িতা ফাউন্ডেশনের নিজস্ব এক বিঘা জমিতে এ ভবন নির্মাণ করা হবে।
২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে জয়িতা ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুবিধার জন্য ২০১১ সালে সরকারি উদ্যোগে ঢাকায় জয়িতা নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। পরবর্তী সময়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠন করা জয়িতা ফাউন্ডেশন। সময়ের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির আওতা ও পরিধি বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য ১২ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। যার নাম হবে ‘জয়িতা টাওয়ার’।
সূত্র জানায়, মোট ব্যয় ১৫৪ কোটি ২৫ লাখ টাকার পুরোটাই আসবে সরকারি কোষাগার থেকে। এর আগে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এর বিস্তারিত বিভিন্ন দিক আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে তা একনেকে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক বিভাগের সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে অবকাঠামোসহ জয়িতা ফাউন্ডেশনের সদর দপ্তর (প্রধান কার্যালয়) নির্মাণ করা হবে। এর ফলে দেশের আগ্রহী নারী সমাজ বিভিন্ন ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তা ছাড়া তাদের পণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়ার সুযোগও বাড়বে। এসব বিষয় বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। আর সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকল্পটি সম্পর্কে তাদের মতামতে বলছেন, সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নারী-পুরুষের সমান অধিকারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়বে। এ বিবেচনায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারী-পুরুষ সবার উন্নয়ন নিশ্চিত হলে দেশের সার্বিক উন্নতি হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংস্থা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত করতে ২০১১ সালে নারী উদ্যোক্তা প্রয়াস শীর্ষক তিন বছরের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এর আওতায় দেশের পল্লী অঞ্চলের নারীর উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনের লক্ষ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ছাড়া অনুমোদনহীন প্রকল্পের তালিকায় যোগ করা রয়েছে। এর আওতায় এ অর্থবছরে ১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দও রয়েছে। আগামী অর্থবছর বরাদ্দ থাকবে ৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছর ৫৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ও শেষ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা খরচ করে প্রকল্পের কাজ তথা ভবন নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।