নাসাউ কলোসিয়াম ফোবানার তিন দিন

‘আওয়ার চিল্ড্রেন আওয়ার প্রাইড’

নিউইয়র্ক : মিস ফোবানার মুকুট পরিয়ে দিচ্ছেন নার্গিস আহমেদ। পাশে প্রধান অতিথি মাহতাবুর রহমান (ডান থেকে দ্বিতীয়)। ছবি-ঠিকানা।

ঠিকানা রিপোর্ট : প্রতিবারের মতো এবারও বাঙালি সংস্কৃতির জয়গান, নতুন প্রজন্মকে বাঙালির শিকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা, মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করা এবং প্রবাসে শত বাধা-বিপত্তি ঠেলে বাঙালি কমিউনিটির উন্নতি, সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে বিভক্ত দুটি ফোবানা কনভেনশন শেষ হয়েছে। দুটি কনভেনশনেরই উদ্বোধন হয় গত ৩০ আগস্ট, শুক্রবার, রাত ৮টায়। ড্রামা সার্কলের আয়োজনে ৩৩তম কনভেনশনের উদ্বোধন হয় লং আইল্যান্ডে ম্যারিয়ট হোটেলের মিলনায়তনে। বাংলাদেশি-আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি অব নিউইয়র্কের আয়োজনে ৩৩তম ফোবানা উদ্বোধন হয় লাগোয়ার্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলের অডিটরিয়ামে। লং আইল্যান্ডের অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ফাতেমা শাহাব রুমা।
ড্রামা সার্কলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ৩৩তম ফোবানার কনভেনর নার্গিস আহমদের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় তিন দেশ- আমেরিকা, বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। ‘বিপা’ ও ‘বাফা’ শিল্পীদের দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা পরিবেশনা, পর্দায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের উজ্জীবনী ভাষণ এবং এখানে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা ছেলেমেয়েদের অর্কেস্ট্রায় দেশাত্মবোধক গান সত্যিই ছিল প্রশংসনীয়। ‘আওয়ার চিলড্রেন আওয়ার প্রাইড’ প্রতিপাদ্য প্রকৃত অর্থেই তাৎপর্যময় হয়ে ওঠে এসবের সঙ্গে এ প্রজন্মের দুজন কৃতী ছাত্র- বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্কের তৌহিদ প্রান্ত এবং মারফত রহমানের যৌথভাবে ইংরেজি-বাংলায় উদ্বোধন ঘোষণার মধ্য দিয়ে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুবাইভিত্তিক বিশ^বিখ্যাত সুগন্ধি প্রতিষ্ঠান আল হারমাইনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মাহাতুবুর রহমান ফোবানার মতো বাঙালিদের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ফোবানার মতো অনুষ্ঠান আয়োজন করে আমরা আমাদের বাঙালি কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তুলে ধরতে পারছি। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারছি। তিনি বলেন, আমরা যেখানেই থাকি- আমাদের কর্মের মাধ্যমে যেন বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়ে গর্ব অনুভব করতে পারি। তিনি নিজের উদাহরণ টেনে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান রাখার আহ্বান জানান।

নিউইয়র্ক : ১২জন আইকনকে ক্রেস্ট প্রদান। ছবি-ঠিকানা।

নাসাউ কাউন্টি নির্বাহী প্রধান লরা বলেন, নাসাউ কাউন্টিতে বিপুল সংখ্যক বাঙালি বসবাস করছেন। ফোবানার মতো একটি কনভেনশন আয়োজনে নাসাউ কলোসিয়ামকে বেছে নেওয়ার জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
যখন পর্দায় বারবার ভেসে ওঠে ‘নতুনের সজীবতায় ভরে উঠুক প্রকৃতি ও জীবন’ তখন উপস্থিত হাজারখানেক দর্শক-অতিথির মনটাও সত্যি সত্যি সবুজ হয়ে ওঠে। ভিজে ওঠে স্বদেশ স্মৃতিকাতরতায়।
হোস্ট কমিটির সদস্যসচিব আবীর আলমগীরের উপস্থাপনায় আয়োজক কর্মকর্তাদের ভাষণ ও আইকন স্পন্সরদের ক্রেস্ট ও উত্তরীয় প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট কমিটির সভাপতি ড. দেলোয়ার হোসেন। মঞ্চে আসন নেন হোস্ট কমিটির কনভেনর নার্গিস আহমেদ, ফোবানা নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মীর চৌধুরী, সদস্যসচিব জাকারিয়া চৌধুরী, প্রধান অতিথি মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ আমিনুল্লাহ, চিফ কনসালট্যান্ট বেদারুল ইসলাম বাবলা, আইকন রায়হান জামান, রাহাত মুক্তাদির, জন ফাহিম, কবির পাটোয়ারি, তানভির পাটোয়ারি, গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, আব্দুল হাই জিয়া, এলিসিয়া হ্যানসেন, বিআই রাসেল প্রমুখ।
নার্গিস আহমেদ ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সভাপতি ড. দেলওয়ার হোসেন, প্রধান অতিথি বিশ্ববিখ্যাত সুগন্ধি ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান, জন ফাহিম, রাহাত মুক্তাদির, মীর চৌধুরী, জাকারিয়া চৌধুরী প্রমুখ।
নার্গিস আহমেদ উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে এবং আইকন, টাইটেল স্পন্সরদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সব বাধা-বিপত্তি ঠেলে আজ আমরা সবার আন্তরিক সহযোগিতায় সাফল্যের দ্বারে এসে দাঁড়িয়েছি। তবে কিছু মানুষের অসহযোগিতা ছিল সত্যি দুঃখজনক। শুভকাজে অশুভ শক্তি বাধা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আগামী ২ দিন নাসাউ কলোসিয়ামে ফোবানা অনুষ্ঠান উপভোগের আমন্ত্রণ জানান।
এরপর গভীর রাত পর্যন্ত গান পরিবেশন চলে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আরো একটি দিক উল্লেখ না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তা হলো আবীর আলমগীর রচিত এবং বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ নাদিম আহমেদ সুরারোপিত ফোবানা সংগীত। সত্যি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল ‘ফোবানা ফোবানা’ সংগীতটি।

ফোবানা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন
ড্রামা সার্কল আয়োজিত ফোবানা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম কাব্য জলসা, কবি সমাবেশ, বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চ ও বিষয়ভিত্তিক সেমিনারের মাধ্যমে শুরু হয় দুপুরে লং আইল্যান্ডের মেরিয়ট হোটেলে এবং সন্ধ্যায় নাসাও কলোসিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। বিজনেস নেটওয়ার্র্কিং লাঞ্চ ও কবি সমাবেশ এবং কাব্য জলসা ছিল সফল অনুষ্ঠান। তবে সেমিনারে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চে প্রধান অতিথি আল হারামাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান নাসির, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু, ফোবানার আহ্বায়ক নার্গিস আহমেদ, প্রেসিডেন্ট ড. দেলোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব আবীর আলমগীর, ফোবানার ১২ জন আইকনসহ দেশের ও প্রবাসের ব্যবসায়ীরা। নাসাও কলসিয়ামের এক্সপো সেন্টারে চলে মেলা। মেলায় ৬০টির মতো স্টল ছিল।
জন ল্যু বলেন, আমি সব সময় বাংলাদেশিদের পাশে রয়েছি। প্রবাসের বিশেষ করে নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। তারা আমেরিকার অর্থনীতিতে বিরাট ভ‚মিকা রাখছে। অন্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। সেই সাথে সরকারও বিনিয়োগবন্ধব। তাই সবার বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা উচিত।
প্রবাসের বিশিষ্ট আবৃত্তিকার গোপন সাহার পরিচালনায় কাব্য জলসা এবং কবি সমাবেশে প্রবাসের প্রায় ৬০ জনের অধিক কবি এবং আবৃত্তিকার অংশগ্রহণ করেন। তাদের কেউ নিজের এবং কেউ অন্যের কবিতা আবৃত্তি করেন। অংশগ্রহণকারী কবি এবং আবৃত্তিকাররা হলেন, কবি শামস আল মমীন, মিথুন আহমেদ, শায়লা চৌধুরী, কবির কিরণ, এলিনা হাওলাদার রোজারিও, মোহাম্মদ আলী বাবুল, তিতাস মাহমুদ, তারিক বাবু, হাসু রহমান, হিরা চৌধুরী, বসুনিয়া সুমন, তাহরিন প্রীতি, মিহির চৌধুরী, তন্ময় মজুমদার, মনিজা রহমান, নজরুল ইসলাম, এজাজ আলম, ম্যাক আজাদ, ফারজানা করিম, শম্পা শ্রী, শান্তা শ্রাবণী, ফারুক আহমেদ, গুঞ্জরী সাহা, আনোয়ারুল হক লাবলু, মুন জাবিন হাই, রুবি হোসেন, কবির কাব্য, ক্রিস্টিনা রোজারিও, আহকাম উল্লাহ, নাহরীন ইসলাম, বিলকিস রহমান দোলা, তামান্না সারওয়ার নিপা, তাসিয়া রুবাইয়াত, নিউনা মুহিত, বশির আতাহার, আবিবা ইমাম দ্যুতি, পারভীন সুলতানা, সুস্বনা চৌধুরী, মেহের নিগার শাকিল, ক্লারা রোজারিও, ফারুক আজম, লায়লা ফারজানা মুনমুন, হোসনে আরা জেমি, জারিন মাইসা, বাহাউদ্দিন পিয়াল, নাসিমা আক্তার, সুলতানা বাসিত মুন্না, মৃদুল আহমেদ, সাবিনা শারমিন নিহার, ফারজানা করিম, জান্নাত আরা জলি প্রমুখ।
বাংলাদেশে বন্যাবিষয়ক সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. সুফিয়ান খন্দকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তিনটি নদী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার নিচে। যে কারণেই বাংলাদেশ বন্যার কবলে পড়ে। এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষসৃষ্ট সমস্যার কারণে বাংলাদেশে বন্যা হয়। সেই সাথে সিজনাল বৃষ্টি তো রয়েছেই। তিনি বলেন, বন্যা বাংলাদেশের জন্য একধরনের আশীর্বাদ এবং আরেক ধরনের অভিশাপ। স্বল্প বন্যার ফলে বাংলাদেশের মাটি উর্বর হয় এবং অধিক বন্যায় বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তিনি বন্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন পরামর্শ উপস্থাপন করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বক্তব্য দেন ড. রুহুল আবিদ ও সাদেক চৌধুরী। তিনি বলেন, মানবতার দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ সরকার কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেন। কিন্তু এটা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নয়। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হলে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। সেমিনারগুলোতে আরো বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. ফাইজুল ইসলাম, রেদওয়ান চৌধুরী, ফারহানাজ কিবরিয়া, আমেনা শাহীন, বদরুল খান, এম জি কিবরিয়া, ড. গোলাম মাতব্বর, ড. হালিদা আক্তার, বীরু পল, মোহাম্মদ সাদেক, মিজান চৌধুরী, জাহাঙ্গীর দেওয়ান, গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ শাহাদাত, লুৎফর খন্দকার, বেলাল হোসেন, মোহাম্মদ আনোয়ার, মাহির মহিউদ্দিন প্রমুখ।
ফোবানার মূল অনুষ্ঠান নাসাও কলসিয়ামে শুরু হয় সন্ধ্যায় ৬টা ১৯ মিনিটে। শারমিন রেজা ইভা, মৃদুল আহমেদ, সাবিনা শারমিন নিহার, আশরাফুল হাবিব মির এবং আদিবা জহিরের উপস্থাপনায় শুরুতেই ছিল প্রবাসে জন্ম নেওয়া এবং বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের উপস্থাপনা। কালার অব এ ফ্ল্যাগ এ। তারা বিভিন্ন যন্ত্রে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস এবং ভাষা আন্দোলনের সংগ্রাম তুলে ধরে। এই অনুষ্ঠানটি ছিল দেখার মতো। সবাই তাদের উপস্থাপনার প্রশংসা করেন। এর পরপর বিভিন্ন স্টেটের বিভিন্ন সংগঠন এবং দেশের ও প্রবাসের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে দেওয়া হয় ফোবানার ১২ জন আইকন, অতিথি এবং বিভিন্ন সহযোগিতাকারী সংগঠনকে ক্রেস্ট। নির্বাচিত করা হয় মিস ফোবানা এবং পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ফোবানার এক্সিকিউটিভ কমিটিকে। স্কলারশিপ তুলে দেওয়া হয় মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে। বিভিন্ন স্টেটের সংগঠনের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজার্সি। কবি ফারুক আজমের নেতৃত্বে তাদের পরিবেশনা ছিল স্মৃতিপটে বঙ্গবন্ধু। কবিতা ও গানে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ওম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব টেক্সাসের ওয়াফি আলম সংগীত পরিবেশন করেন। কবি কিরণ কবিরের নেতৃত্বে কবিতা, নৃত্যে ও গানে শতদল উপস্থাপনা করে সুর তুলে আজো মনকে ঘিরে। ভার্জিনিয়া ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির ছিল নৃত্য পরিবেশনা। টেক্সাস বাঙালি অ্যালায়েন্সের পরিবেশনা ছিল নৃত্য ও গান। পরিবেশন করেন রিয়ানা, হাসান ও মোমিন। সুর ছন্দের একঝাঁক শিল্পী পরিবেশন করে চমৎকার নৃত্য। স্বাগতিক সংগঠন ড্রামের সার্কেলের পরিবেশনা ছিল নৃত্য। বিপা ও বাফা শিল্পীদের সমন্বয়ে এবং এ্যানি ফেরদৌস ও অনুপ কুমারের নেতৃত্বে এই নৃত্য ছিল মনে রাখার মতো। চমৎকার ও নয়নাভিরাম এই পরিবেশনা দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়পটে থাকবে। তাদের এই পরিবেশনা সবার প্রশংসা অর্জন করে।
সদস্যসচিব আবীর আলমগীরের পরিচালনায় ফোবানার ১২ জন আইকন নওশাদ চৌধুরী, মোহাম্মদ জন ফাহিম, কবীর পাটোয়ারি, পারভীন পাটোয়ারি, গোলাম ফারুক ভুইয়া, নাহিদ এ চৌধুরী, আলী এ শিকদার, আশরাফ আহমেদ আশরাফ, আব্দুল হাই জিয়া, মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী, জি আই রাসেল, আফার বক্সকে ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধান অতিথি মাহতাবুর রহমান নাসির, ফোবানার আহ্বায়ক নার্গিস আহমেদ, প্রেসিডেন্ট ড. দেলোয়ার হোসেন, চিফ অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ আমিনুল্লাহ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাহাত মুক্তাদির। আরো সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় এ্যানি ফোরদৌস, অনুপ কুমার, নাদিম আহমেদ, মানিকগঞ্জ সমিতি ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব লস অ্যাঞ্জেলেসের কর্মকর্তাদের হাতে।
ক্রেস্ট বিতরণের পর ভার্জিনিয়ার প্রিয়বাংলা শিল্পী সংগীত পরিবেশন করেন। আটলান্টা কালচারাল সোসাইটির হয়ে সংগীত পরিবেশন করেন অহিন দাস। ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক ফকির সেলিমের নেতৃত্বে নাটিকা উপস্থাপন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার পরিবেশনার সাথে সাথেই আটলান্টার শিল্পী নাজনী বাংলাদেশের জনপ্রিয় সিনেমার গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন। মঞ্চ আলোকিত করে আসেন বাংলাদেশের সংগীতের স্তম্ভ সৈয়দ আব্দুল হাদি। প্রথমেই বললেন, আমি অভিভ‚ত বিদেশে বাংলাদেশিদের আয়োজনে এই ধরনের অনুষ্ঠানে। সাথে ডেকে নিলেন কন্যা তনিমা হাদিকে। দুজনের দুটো গান গেয়েই সমাপ্তি টানলেন সময়ের স্বল্পতার কারণে। শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদিকে ফোবানা সম্মেলনের পক্ষ থেকে সম্মাননা জানিয়ে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।
ফোবানা এক্সিকিউটিভ কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি জাকারিয়া চৌধুরী ফোবানার এক্সিকিউটিভ কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেন। কমিটির সদস্যরা হলেন চেয়ারম্যান মীর চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ হালিম, মেম্বার সেক্রেটারি জাকারিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সদস্যসচিব ড. রফিক খান, কোষাধ্যক্ষ মাসুদ চৌধুরী, সদস্য আতিকুর রহমান, নাহিদুল খান, ডিউক খান, রেহান রেজা, রবিউল করিম, বেদারুল ইসলাম বাবলা, হাসমত বখতসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
বক্তব্য দেন মীর চৌধুরী ও নার্গিস আহমেদ। মীর চৌধুরী বলেন, ১৯৮৭ সালে ফোবানার শুরু। সে থেকেই আমরা এই সংগঠনের সাথে জড়িত। এই সংগঠন এখন প্রবাসে বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী বছরের সম্মেলন হবে ডালাসে। সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
নার্গিস আহমেদ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশপ্রেমিক। আপনারা সেই দেশপ্রেম ধরে রাখবেন। প্রবাসে ফোবানা আমাদের ঐক্যের সংগঠন। আপনারা সব সময় ফোবানার সাথে থাকবেন, আমাদের সাথে থাকবেন। আমরা দেশ এবং প্রবাস কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে চাই।
প্রথমবারের মতো মিস ফোবানা নির্বাচন করা হয়। প্রবাসে জন্ম নেওয়া এবং বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের ১০ জন কিশোরী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ফাতেমা সাহাব রুমার সঞ্চালনায় এই ১০ জন প্রতিযোগী একে একে মঞ্চে আসেন এবং একটি করে প্রশ্নের উত্তর দেন। সেই সাথে তারা নিজেদের উপস্থাপন করেন। তিনজন বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয় মিস ফোবানা ২০১৯। মিস ফোবানা নির্বাচিত হয়েছেন জান্নাতুল বাকি। প্রথম রানারআপ হয়েছেন আফরোজা নিশি এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন লিউনা মুহিত। এ ছাড়া মুনিরা, সারা আমিন, দ্রুতবা, তাসফিয়া, মালিহা রহমান, অনামিকাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। মিস ফোবানার মুকুট পরিয়ে দেন প্রধান অতিথি, আহ্বায়ক এবং রাহাত মুক্তাদির।
এ ছাড়া কমিউনিটিতে এবং ফোবানার বিশেষভাবে সহযোগিতা করার জন্য আজিজুল ইসলাম, সালেহ আহমেদ, শরাফত হোসেন বাবু, হাসান ইমাম, ওয়াহেদ হোসেনী, ইকবাল বাহার চৌধুরীকে বিশেষ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। রাহাত মুক্তাদির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় নজরুল সংগীতজ্ঞ লিনা তাপসীর সংগীত পরিবেশনের পর উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বিভিন্ন স্কুলের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৮ জনকে ৮ হাজার ডলার স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। রেহান রেজার পরিচালনায় যারা স্কলারশিপের অর্থ দিয়েছেন, তারাই ছাত্রছাত্রীদের হাতে সার্টিফিকেট এবং অর্থ তুলে দেন। স্কলারশিপপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা হচ্ছেন সাবিয়া রহমান, রেজওয়ান ইসলাম, সাদমান আলমগীর, সাদিয়া চৌধুরী, ফিজা ফজিলাতুন, রিশান ইসলাম, সামিতা ইসলাম ও ইরতিজা সাকিফ। রাতের শেষ অংশের পরিবেশনায় ছিলেন মাইস, গালিব আজিজ, তমাল, আনন্দধ্বনি এবং জর্জিয়া বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। সময় সংকটের কারণে কয়েকটি সংগঠন এবং বেবী নাজনীন ও শুভ্রদেব দ্বিতীয় দিনে সংগীত পরিবেশন করতে পারেননি। তবে মাইলসের গানে সবাই ছিলেন আবেগাপ্লুত। সবাই তাদের গানের সাথে তাল মিলিয়েছেন, নৃত্য পরিবেশন করেছেন। মাইলসের গানের সাথে সাথে শেষ হয় দ্বিতীয় দিনের আয়োজন।

ফোবানার তৃতীয় এবং শেষ দিন
ড্রামা সার্কলের তৃতীয় দিনের ফোবানার কর্মকাণ্ড শুরু হয় সেমিনারের মাধ্যমে। সেমিনারগুলো অনুষ্ঠিত হয় লং আইল্যান্ডের মেরিয়ট হোটেলে। সন্ধ্যায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় নাসাও কলসিয়ামে। সেমিনার ছাড়াও ছিল নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে ইয়ুথ ফোরাম এবং কবি সমাবেশ। প্রথম দিনের সেমিনারগুলোতে দর্শকখরা থাকলেও তৃতীয় দিনের সেমিনারগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় প্রতিটি সেমিনারে ছিল অডিটরিয়াম ভর্তি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ইয়ুথ ফোরামের অনুষ্ঠানে অডিটরিয়ামে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
নাসাও কলসিয়ামের মূল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে। প্রথমেই ড্রামা সার্কলের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। যার মধ্যে ছিল লেমন চৌধুরী, শারমিন মহসীন। এই সময় অডিটরিয়ামে দর্শক ছিল হাতে গোনা কয়েকজন। কিন্তু বেলা গড়ানোর সাথে সাথেই লোকজনের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একসময় দর্শক সমাগম হলেও তা ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কম। অন্যদিকে এক্সপো সেন্টারের দোকানদাররা একসময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। তারা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার শরণাপন্ন হয়ে বলতে থাকেন তাদের বলা হয়েছিল এখানে ১০ থেকে ১২ হাজার লোক হবে। কিন্তু সেই তুলনায় লোকজন নেই। তারা যে অর্থ দিয়েছেন, তাও তুলতে পারেননি। সব ভেন্ডার জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে একজন কর্মকর্তার সাথে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। পরে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দ্বিতীয় দিনের মতো তৃতীয় দিনেও বিভিন্ন স্টেট থেকে আসা সংগঠনগুলো অংশগ্রহণ করে। কোনো কোনো সংগঠনের পক্ষে সংগীত আবার কোনো কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। তবে আয়োজক সংগঠনের উচিত যেসব সংগঠন অংশগ্রহণ করে তাদের গানের মান কতটুকু তা পরখ করে নেওয়া। একজন বা একদল বেসুরো শিল্পীকে ১০ মিনিট সময় দিয়ে গঙ্গায় অর্থ বিসর্জনের চেয়ে জাতীয় শিল্পীদের অধিক সময় দেওয়া উচিত। এমন এমন শিল্পী সংগীত পরিবেশন করতে এসেছেন তাদের সংগীতজ্ঞান আছে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে আয়োজকদের। আর তার মাশুল গুনতে হয়েছে দশর্কদের।
বর্তমান সময়ের ক্রেজ কলকাতার জনপ্রিয় শিল্পী ইমন চক্রবর্তী কয়েকটি গান পরিবেশন করেছেন। আয়োজকেরা বলেছিলেন, বাংলা ছাড়া অন্য কোনো সংগীত নয়। কিন্তু তিনি আয়োজকদের সেই কথার প্রতিবাদে শুধু হিন্দি নয়, গুজরাটি ভাষার সংগীতও পরিবেশন করেছেন। তিনি আমাজনের উদাহরণ টানলেন কিন্তু কাশ্মীর ও আসামের কথা কিছুই বললেন না। তিনি মানবতা দেখলেন শুধু আমাজনে! দর্শক সারি থেকে কেউ কেউ তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করলেন। তবে বিতর্কে জড়াতে চাইলেন না।
চমৎকার উপস্থাপনা ছিল ভার্জিানিয়ার প্রিয় বাংলার। তারা বাংলাদেশসহ বিশ্বের শিশু ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশসহ বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান। ‘বিবর্ণ সমাজ’ ১০ মিনিটের ছোট্ট একটি নাটকে তারা বাংলাদেশের পুরো চিত্র তুলে ধরেছেন। বিচারহীনতার কথা বলেছেন। তাদের এই পরিবেশনা অনেকেরই হৃদয় স্পর্শ করেছে।
প্রয়াত কথাসাহিত্যিক মমতাজ উদ্দিনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে তার উপন্যাস এবং কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন তাজুল ইমাম, ফারুক আজম, নিহার, তিতাসসহ আরো কয়েকজন। এই পরিবেশনাও ছিল স্মরণে রাখার মতো।
তৃতীয় দিনে ফোবানা আইডল নির্বাচিত করা হয়। উপস্থাপক আবীর আলমগীর জানালেন, অনেকের মধ্য থেকে বাছাই করে চ‚ড়ান্ত পর্বের জন্য ৫ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। এই ৫ জন ছিলেন শতাব্দী সরকার উপমা, ঋত্তিকা ব্যানার্জি, রুদ্ধশীল দাস, ত্রিনিয়া হাসান ও ফারজানা। তারা প্রত্যেকে একটি করে সংগীত পরিবেশন করলেন। বিচারক নাদিম আহমেদ এবং তাজুল ইমাম বাছাই করলেন ফোবানা আইডল। এবার ফোবানা আইডল হয়েছেন ঋত্তিকা ব্যানার্জি। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন রায়হান জামান।
এ ছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেসব সংগঠন অংশগ্রহণ করে সেগুলো হচ্ছে বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার নেশভিল, ভার্জিনিয়ার ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি, আমেরিকা-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস, বৈশাখী মেলা, লং আইল্যান্ডের নাট্য সংগঠন শিল্পাঙ্গন। তাদের দুটো পরিবেশনাও ছিল প্রশংসিত। টরেন্টো থেকে আগত বাসনিকের আবৃত্তি শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে এসেছেন ধর্ষিতা নুসরাতসহ অনেকের কথা। তাদের পরিবেশনা দর্শকদের ভালো লেগেছে। ইউএসএ বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টারের পরিবেশনার পর ফিডব্যাকের রোমেল খান সংগীত পরিবেশন করেন। লং আইল্যান্ডের বাকলির চমৎকার পরিবেশনায় তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতাযুদ্ধকে। শিল্পী আনোয়ারার সংগীত সবার নজর কেড়েছে এবং ভালো লেগেছে। শিল্পী তাজুল ইমাম একটি সংগীত পরিবেশন করেই বললেন, আমি তো এখানেই আছি, আবারো দেখা হবে। আরো সংগীত পরিবেশন করেন এম এ সোয়েব।
আবীর আলমগীরের পরিচালনায় ফোবানার পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা আহমেদ শরিফ, রায়হান জামান, তাজুল ইমাম, শহীদুল মল্লিক বাঁধন, বিদায়ী চেয়ারম্যান মীর চৌধুরী, মেম্বার সেক্রেটারি জাকারিয়া চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা, রোকসানা পারভীন, বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ককে। তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি মাহতাবুর রহমান নাসির, নার্গিস আহমেদ, রায়হান জামান ও রাহাত মুক্তাদির। এ ছাড়া রায়হান জামান নিউইয়র্কের তিনজন ছাত্রকে ৩ হাজার ডলারের স্কলারশিপ প্রদান করেন। অন্যদিকে ফোবানা এক্সিকিউটিভ কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ অবদানের জন্য সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব রেজা রহিমকে এবং সমাজ উন্নয়নের জন্য সাংবাদিক নাজমুন নাহার পেয়ারি এবং আব্দুল ওয়াহেদ মাহফুজকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ফোবানার চেয়ারম্যান মীর চৌধুরী ও সদস্যসচিব জাকারিয়া চৌধুরী।
এ ছাড়া জাকারিয়া চৌধুরীর পরিচালনায় ২০২০ সালের সম্মেলন কমিটি এবং ২০২১ সালের সম্মেলন কমিটির কাছে পতাকা হস্তান্তর করেন ফোবানার কর্মকর্তারা। আমন্ত্রণ জানান, ডালাস এবং ওয়াশিংটন সম্মেলনের কর্মকর্তারা।
ফোবানা সম্মেলনে মিশুক সেলিমের সম্পাদনায় একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়।