নিউইয়র্কে নিহত ২৬ জনের মধ্যে টেক্সাসের পর্যটক ও কুকুরওয়ালি

ঠিকানা রিপোর্ট : অশান্ত হয়ে পড়েছে নিউইয়র্ক সিটি। সপ্তাহান্তে সিটির ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও ম্যানহাটন এই পাঁচটি বরোজুড়ে বন্দুক সহিংসতায় যে ২৬জন প্রাণ হারিয়েছে তার মধ্যে একজন পর্যটকও রয়েছেন। মারা গেছেন একজন কুকুরওয়ালিও।
সপ্তাহান্তে গত ১৭ জুলাই সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রায় এক ডজন লোক প্রাণ হারায়। এই ঘটনার সময় টেক্সাসের এক পর্যটক এবং একজন মহিলা তার কুকুর নিয়ে ঘটনাস্থলের ঠিক কয়েক ব্লক দূর দিয়ে হাঁটছিলেন। আকস্মিকভাবেই তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
এর আগে গত ১৬ জুলাই পৃথক কয়েকটি ঘটনায় আরো পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। তারও আগে ১৫ জুলাই ছয়টি ঘটনায় নয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এই গ্রীষ্মে এমন কোনো সাপ্তাহিক ছুটি যায়নি, যেদিন পাঁচটি বরোর মধ্যে অন্তত কোনো একটিতে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো- নিরপরাধ পর্যটক কিংবা পথচারীরা দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তারাও বেশ শঙ্কিত।
মেয়র এরিক অ্যাডামস গত ১৮ জুলাই বলেছেন, ‘আমরা যে পরিমাণ গুলিবর্ষণ প্রত্যক্ষ করেছি, তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই বিপজ্জনক লোকদের অনুসরণ করার জন্য যতটা সম্ভব আক্রমণাত্মক হতে যাচ্ছি।’
পুলিশ সপ্তাহান্তে সন্দেহভাজন শ্যুটারদের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন মহিলা রয়েছেন যিনি তার কুকুর নিয়ে ব্রঙ্কসের ব্রিস্টো ও জেনিংস রাস্তায় হাঁটার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
মেকোরিয়া ব্রিজওয়াটার (২২) নামের এক নারী বলেন, তিনি রাত ৯ টার দিকে একটি দোকান থেকে বেরিয়ে চিসলম সেন্টের দিকে হাঁটছিলেন। হঠাৎ দেখেন এক দল লোক তার দিকে ছুটে আসছে। এক সেকেন্ড পরে তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। তারপর লক্ষ্য করেন একটি সাদা হোন্ডা সিভিক দ্রুত গতিতে আসছে।
ব্রিজওয়াটার বলেন, ‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটি আতশবাজি। কিন্তু তারপরে আরেকটি গুলির শব্দ শুনলাম। তখন আমি ভয়ে দৌঁড়াতে শুরু করি।’
ব্রিজওয়াটার বলেন, তিনি তার ইয়র্কশায়ার টেরিয়ারের সাথে দ্রুত রাস্তায় চলে আসেন এবং একটি এসইউভির পিছনে লুকিয়ে পড়েন। কিন্তু ততক্ষণে তিনি বুঝতে পারেন যে তার বাম পায়ে গুলি করা হয়েছে। তিনি পা থেকে শুধু রক্ত ​​বের হতে দেখেন।
পুলিশের ধারণা, হুডিসহ কালো পোশাক পরা এক ব্যক্তি হোন্ডা সিভিকে গুলি চালায়। ব্রিজওয়াটার অনিচ্ছাকৃত লক্ষ্য ছিল।
পুলিশ জানায়, বন্দুকধারী সিটি বাইকে অন্য একজনের সাথে ছিল। ব্রঙ্কসের দক্ষিণ ব্লভিডির বোডেগার বাইরে কয়েকজনকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানোর পর পূর্ব দিকে চলে যায় তারা।
সেখানেই টেক্সাসের সান আন্তোনিও থেকে আসা পর্যটক একজন মা এবং তার কিশোরী কন্যা বন্দুকধারীর গুলিতে আহত হন। গোলাগুলির সময় ১৩ বছর বয়সী মেয়ে, তার দুই ভাই, এবং তাদের বাবা-মা ওই এলাকায় ছিলেন।
মায়ের বুকে ও ডান হাতে গুলির আঘাত লাগে এবং তিনি মারা যান। আর একটি গুলিতে মেয়ের হাতের টেন্ডন ছিঁড়ে যায়।
ব্রঙ্কসের টেলার অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিনের লিভোনিয়া, রকঅ্যাওয়ে, নিউইয়র্ক অ্যাভিনিউ, ইস্টফ্লাটবুশের ফস্টার অ্যাভিনিউ, কুইন্স, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বোয়েন সেন্ট ও ম্যানহাটনের বিভিন্ন স্থানে সপ্তাহান্তের শুক্র, শনি ও রবিবার (১৫ থেকে ১৭ জুলাই) পৃথক গোলাগুলিতে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।