নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ প্যারেড’ প্রবাসীদের কাছে এখনো স্বপ্ন

নিউইয়র্কে স্বাধীনতা দিবস প্যারেড -ফাইল ছবি

ঠিকানা রিপোর্ট : নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি অগ্রসরমান। ৫১জন সিটি কাউন্সিল মেম্বারের মধ্যে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। মেয়র এরিক অ্যাডামসসহ মূলধারার জনপ্রিয় নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশি অনেক নেতার ‘গলায়-গলায় ভাব’। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি মূলধারায় যতটা না এগিয়ে বাংলাদেশিরা, তার চেয়ে অনেক বেশী পিছিয়ে তারা। স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিবাহিত হলেও নিউইয়র্কের বুকে এখন পর্যন্ত সিটির স্বীকৃতি নিয়ে আয়োজন করা যায়নি ‘বাংলাদেশ ডে’ প্যারেড। এটি এখনো স্বপ্ন হয়ে আছে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির কাছে।
জানা গেছে, নিউইয়র্কে আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে। এর আগে থেকে বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা ফেলেছেন অনেক বাংলাদেশি। এরপর ওপি-১ এবং ডাইভারসিটি লটারি (ডিভি) বিজয়ীর মাধ্যমে বিপুল বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। শুধু ডিভি লটারির মাধ্যমে আসেন ৫০ হাজার আবেদনকারী। পরে তাদের পরিবারের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। বর্তমানে আনঅফিসিয়ালি প্রায় ৬ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন নিউইয়র্কে। তাদের মধ্যে চার লাখই নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস করছেন। কিন্তু সেই তুলনায় মূলধারায় নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। মাঝেমধ্যে কেউ কেউ মূলধারায় সরব থাকলেও মূল ভূমিকায় উঠে আসতে পারছেন না। অনেকে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ছবি তুলেই মূলধারার রাজনীতির দায়িত্ব শেষ করছেন। মূলধারায় কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা না থাকার ফলই হচ্ছে ৫০ বছরে ‘বাংলাদেশ ডে’ প্যারেড করতে না পারা। এমনকী জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে নানা রকম আশ্বাস দিলেও কেউ প্রতিশ্রুতি দেননি বাংলাদেশ ডে প্যারেড করতে দাপ্তরিক সহযোগিতা করবেন। সেদিকে কারোর নজর আছে বলে মনে হয় না।
জানা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির দাপ্তরিত স্বীকৃতি নিয়ে প্যারেড করতে হলে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতির প্রয়োজন হয়। সব দপ্তরের অনুমতি মিললেই কেবল প্যারেডের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ডে প্যারেডের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে কখনোই কেউ আবেদন করেননি।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলমের মেয়াদকালে এস্টোরিয়ায় একটি প্যারেড হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সিটির দাপ্তরিক স্বীকৃতি ছিল না।
আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার ঠিকানাকে জানান, ২০১৩ অথবা ২০১৪ সালের দিকে বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ডে প্যারেড আয়োজনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সিটি থেকে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু পরে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য বিভাগে আর আবেদন করা হয়নি। এরপর নানা কারণে বাংলাদেশ প্যারেড করার আর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বর্তমান ও নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী ঠিকানাকে বলেন, সমন্বয়ের অভাবে নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশ প্যারেড হচ্ছে না। তবে নবনির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ ডে প্যারেড করার উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডে প্যারেড করতে কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজন। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা চান।
রুহুল আমিন সিদ্দিকী জানান, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে প্রথমবারের মত আমরা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিল মেম্বার পেয়েছি। আমরা তার সহযোগিতা নেব। ফলে আগে যা সম্ভব হয়নি, এখন সেটা সম্ভব বলে আশা করছি।
নিউইয়র্ক মেয়রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা হয়েছেন জেবিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান। তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্যারেড অনুষ্ঠান আয়োজনে তিনি উদ্যোগ নেবেন। বাংলাদেশি কমিউনিটিকে এগিয়ে নিতে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন।