নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: ওয়ান ইলেভেন আর আসবে না

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চিঠি

নিউইয়র্ক : সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি-এনা। 

এনা, নিউইয়র্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে আর কখনো ওয়ান ইলেভেন আসবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে না আসে, সে জন্যই এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। এই অভিযানে অনেকেই অখুশি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাতে সরকারের কিছু করার নেই। এই অভিযান চলবেই। দুর্নীতি করে কেউ ছাড় পাবে না। অন্যদিকে আমেরিকায় বসবাসরত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীকে ফেরত দেওয়ার জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রোববার (নিউইয়র্ক সময়) বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নিউইয়র্ক: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মেলিন্ডা ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া চিঠি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। যারা মানতাবিরোধী অপরাধ করেছে, জাতির জনককে খুন করেছে তারা কোনো দেশের জন্য নিরাপদ নয়। তাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়েছি। খুনিদের একজন কানাডায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুনিদের যারা আশ্রয় দিচ্ছে সেটা তাদের জন্যও তো মঙ্গলজনক নয়। তাই খুনিদের ফেরত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব দেশকেই আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক শ্রেণির মানুষ হঠাৎ করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। দামি দামি গাড়ি চড়ছে। এরা দামি গাড়ি কেনার পর কেউ সে গাড়ি স্পর্শ করলে মারতে আসে। মসজিদে যায় বডিগার্ড নিয়ে। তাদের ভাবসাব দেখলে মনে হবে তারা যেন রাজা বনে গিয়েছে। ব্যবসা করলে মানুষ সম্পদশালী হবে-এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা শো অফ করে সমাজকে প্রশ্নের সম্মুখীন কেন করবে? যদি সৎভাবে আয় করত, তাহলে এমন হতো না। আর যারা সততার সাথে জীবনযাপন করছে তাদের সন্তানদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। সমাজে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের চলমান উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর এ জন্যই অভিযান শুরু করেছি। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, আমার বাবা একবার আমেরিকায় এসে আমার জন্য এবং শেখ কামালের জন্য দুটো ঘড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। পরদিন স্কুলে আমি সেই ঘড়ি পরে যাই। আমার শিক্ষক প্রশ্ন করলেন, তুমি যে ঘড়ি পরেছ তা সবাই দেখছে, তাদের মনে প্রশ্ন জাগছে। এটা কি তোমার করা উচিত। এরপর আমি সেই ঘড়ি পরে আর স্কুলে যাইনি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচার করতে গেলে প্রথমে নিজের ঘর থেকেই বিচার শুরু করতে হয়। দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেন কেউ পার পাবে না। তিনি বলেন, নিজের দলের লোকদের আগে ধরছি, মিডিয়া এটা একটু বড় করে দেখাবে এটাই স্বাভাবিক। ঘুষ-দুর্নীতি করবেন, আবার হালাল মাংস খুঁজবেন এটা কেমন করে হয়? দেশের এই অবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন একটি আঘাত প্রয়োজন ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে কেউ যদি অনেক সম্পদের মালিক হয়ে যায়, তাহলে ‘মুই কী হনুরে’ ভাব চলে আসে। অসৎ উপায়ে উপার্জন করে সম্পদের শো অফ করবে এটা হতে পারে না। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্যে, জনগণের সঙ্গে আমাদের মিশে চলতে হবে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কুপ্রভাব যাতে দল বা সমাজে না পড়ে, সেটা আমাকে দেখতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে কমিটির সভা করে সিদ্ধান্ত দিয়ে এসেছি কখন কোথায় অভিযান চলবে। আমরা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটি করেছি। আমি নিউইয়র্কে বসেও সব দিকনির্দেশনা দিচ্ছি। তিনি বলেন, সবার জীবনমান উন্নত হোক এটা আমি চাই কিন্তু অবৈধ পথে কাউকে সম্পদশালী হতে দেয়া যাবে না।

নিউইয়র্ক : ‘এ্যান ইভিনিং উইথ প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও অতিথিবৃন্দ।

রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার এ সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং তাদেরকে এর দায়ভার বহন করতে হবে। মিয়ানমার যা-ই বলুক না কেন, সমস্যার সমাধান তাদেরই দিতে হবে। রাখাইনে ‘সেফ জোন’ প্রতিষ্ঠার দাবি নাকচ করে জাতিসংঘে দেওয়া মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের নেতার বক্তৃতার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নাগরিক অন্য দেশের শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে, এটা মিয়ানমারের জন্য লজ্জার, অসম্মানের। একই সঙ্গে এটা তাদের দুর্বলতা। আমাদের কাছে খুব বড় প্রশ্ন যে, কেন তারা তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে না? শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে মিয়ানমারের আস্থা সৃষ্টি করতে হবে, যেন তারা বাসভ‚মিতে স্বেচ্ছায় ফিরে যায়।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ারে কনসার্ট করা যায় কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা এমন উদ্যোগ নিলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি আছে। আমি নিজে এই কমিটি দিই। তবে সম্মেলন হওয়া জরুরি। ইতিমধ্যে কেউ কেউ সভাপতি, সেক্রেটারি হয়ে গেছেন। আমি সবাইকে চিনি এবং সময়মতোই সব করব।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার ৮ দিনের সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, সালমান এফ রহমান এমপি, ফারুক খান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি এহসানুল করিম ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নুর এলাহী মিনা।

জাতিসংঘে শেখ হাসিনার ভাষণ : চার দফা প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এমন একটি সমস্যার বোঝা বহন করে চলেছি, যা মিয়নামারের তৈরি। এটি সম্পূর্র্ণ মিয়ানমার এবং তার নিজস্ব নাগরিক রোহিঙ্গাদের মধ্যকার একটি সমস্যা। তাদের নিজেদেরই এর সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় রাখাইনে নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আমি এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাখাইন প্রদেশে বেসামরিক তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম। আজ আমি কিছু প্রস্তাব আবার পেশ করছি : ১। রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে। ২। বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে। ৩। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হতে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। ৪। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণসমূহ বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

চ্যাম্পিয়ন ফর স্কিলস ডেভলপমেন্ট ফর ইয়ং পিপল পুরস্কার গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণের শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে ধন্যবাদ জানান মিজ‌ মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা গার্সেসকে বিগত এক বছর ধরে সাধারণ পরিষদে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদানের জন্য। জাতিসংঘের মহাসচিব জনাব আন্তোনিও গুতেরেসকে তাঁর গতিশীল নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি এই মহান মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্মরণ করছি বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি ১৯৭৪ সালে এই পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন : আমি উদ্ধৃত করছি : “এই দুঃখ দুর্দশা সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে জাতিসংঘ মানুষের ভবিষ্যৎ আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রস্থল। নানা অসুবিধা ও বাধাবিপত্তি সত্তে¡ও জাতিসংঘ তার প্রতিষ্ঠার পর সিকি শতাব্দী কালেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মানবজাতির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।” বস্তুতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নয়ন, শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নেতৃত্বমূলক ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
বাংলাদেশে আমরা মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে তা শুরু হতে যাচ্ছে। তাঁর দর্শন ও চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটিয়ে আগামী বছর জাতিসংঘে আমরা এ উৎসব উদযাপন করতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু সংক্রান্ত পদক্ষেপ এবং অন্তর্ভুক্তির জন্য মাল্টিলেটারিজম বা বহুপাক্ষিকতাকে উজ্জীবিত করার যে আহ্বান আপনি করেছেন তা খুবই প্রাসঙ্গিক। বিশ্বের বহুপাক্ষিক ফোরামের কর্ণধার হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদই এই আহ্বানকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে এবং এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তাকে এগিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে। এই অধিবেশনে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহের মধ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু সংক্রান্ত পদক্ষেপ এবং অন্তর্ভুক্তির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের দুটি প্রধান অন্তরায় হলো দারিদ্র্য ও অসমতা। দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্য হ্রাসকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। ২০০৬ সালে আমাদের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ যা ২০১৮ সালে হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২১ শতাংশ এবং অতি দারিদ্র্যের হার ২৪ শতাংশ হতে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। ‘আমার গ্রাম আমার শহর’, ‘আশ্রয়ণ’, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’-এর মত আমাদের নিজস্ব এবং গ্রামবান্ধব উদ্যোগসমূহ অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশকে পেছনে ফেলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী-পুরুষ সমতা এবং বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তির মাইলফলক অর্জনের পর আমরা এখন মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে মনোনিবেশ করেছি। এ লক্ষ্যে ই-শিক্ষা এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরির ওপর গুরুত্ব প্রদান করেছি। ফলে বিদ্যালয় হতে ঝরে পড়ার হার ৫০ শতাংশ হতে ১৮ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মূলনীতিকে উপজীব্য করে আমরা রূপপুরে আমাদের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। ইতোমধ্যে ৯৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রতি অঙ্গীকার মূলত পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানেরই বলিষ্ঠ প্রতিফলন। আমরা সম্প্রতি ২৬তম দেশ হিসেবে Treaty on the Prohibition of Nuclear Weapons অনুস্বাক্ষর করেছি।

নিউইয়র্ক : এসডিজি সম্মেলনে কো-মডারেটর এর দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী মোতায়েনে জাতিসংঘের আহ্বানে নিয়মিতভাবে সাড়া প্রদান করে আসছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী করে তুলতে জাতিসংঘ মহাসচিবের গৃহীত উদ্যোগের প্রতি আমরা সমর্থন ব্যক্ত করছি। তাঁর অপঃরড়হ ভড়ৎ চবধপবশববঢ়রহম উদ্যোগ বাস্তবায়নের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা অন্যতম চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে ওই উদ্যোগে শামিল হয়েছি। এছাড়া ‘টেকসই শান্তি’-এর ধারণাগত কাঠামো প্রণয়নে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে আসছি।
শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসরদের পরিচালিত গণহত্যায় ৩০ লাখ নিরপরাধ মানুষ নিহত এবং দুই লাখ নারী নির্যাতনের শিকার হন। আমাদের এই নির্মম অভিজ্ঞতাই সব সময় আমাদের নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াতে সাহস জুগিয়েছে। যত দিন পর্যন্ত আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ সংগ্রাম সফল না হচ্ছে, তত দিন তাদের পক্ষে আমাদের দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বিনিময়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের সময় দুই নেতা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার রাতে লোট্টে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনায় যোগ দেন। নৈশভোজের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মানালিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
ইউনিসেফের চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ পুরস্কার নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ইউএন প্লাজার ইউনিসেফ ভবনের ল্যাবুইসে হলে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) প্রদত্ত এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। তুমুল করতালির মধ্যে ইউনিসেফ’র নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।