নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদ সম্মেলন সেপ্টেম্বরে

ঠিকানা রিপোর্ট : নন্দিত কথা সাহিত্যিক চলচ্চিত্র নির্মাতা, নাট্য পরিচালক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দুই দিন এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। নিউইয়র্কের প্রমোটার প্রতিষ্ঠান শোটাইম মিউজিক আয়োজিত এই সম্মেলনের নামকরণ করা হয়েছে হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন। এই সম্মেলন সফল করতে চলছে নানা প্রস্তুতি। তারই অংশ হিসেবে গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সময় আয়োজক প্রতিষ্ঠান শো-টাইম মিউজিকের প্রেসিডেন্ট আলমগীর খান আলম ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন- হুমায়ূন আহমেদ পত্নী বিশিষ্ট শিল্পী, নাট্যভিনেত্রী, নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক ড. সিনহা মনসুর, সদস্য সচিব কবি মিশুক সেলিম এবং সম্মেলন কমিটির উপদেষ্টা জিয়াউর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তার পাঠক, আর দর্শক শ্রোতার প্রিয় একজন বক্তারা তাকে স্মরণ করার মাধ্যমে সৃষ্টিশীল কর্ম অনাগত ভবিষ্যতের জন্য উজ্জীবিত রাখার আহ্বান জানান। তিনি এই আয়োজন সফল করার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, আমরা সবক্ষেত্রে বিভিক্ত হয়ে যাই। হুমায়ূন আহমদেও বেলাতেও তাই। একদল হুমায়ূন আহমদকে ভালবাসেন, আরেক দল বিরোধীতা করেন। আমরা হুমায়ূন সম্মেলনকে আন্তর্জাতিকভাবে রূপ দিতে চাই। যে কারণে মেলা থেকে এবার সম্মেলন করা হয়েছে। তিনি বলেন, হুমায়ূন, রবীন্দ্র নাথ, নজরুল ও জীবনানন্দকে আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা উচিত। এবার সম্মেলনে আমাদের টার্গেট থাকবে নতুন প্রজন্মের সামনে হুমায়ূন আহমেদকে উপস্থাপন। সম্মেলনে সামনে রেখে আমরা একটি ওয়েবসাইট করছি, সেখানে বিস্তারিত থাকবে। তিনি বলেন, এই সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকেও একটি দল আসবেন। যেখানে থাকবেন শিল্পী এবং সাহিত্যিকরা।
অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, হুমায়ূন আহমেদ আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। হুমায়ূন আহমেদের বেশ কটি উপন্যাসের অনুবাদ করা হচ্ছে। সেগুলো প্রবাস প্রজন্ম ছাড়াও আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে সমাদৃত হবে বলে আশা করছি। আর এভাবেই বাংলাদেশের সাহিত্যকে আন্তর্জাতিকীকরণের প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রাখা হবে। তিনি আরো বলেন, নতুন প্রজন্মের পাশাপাশি আমরা হুমায়ূন আহমেদকে বেশি লোকের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। আমরা যদি বেশি লোকের কাছে হুমায়ূন আহমেদকে পৌঁছাতে পারি, তাহলে তার কিছুটা ঋণ হলেও শোধ হবে। আমরা এবারের সম্মেলনকে মিলন মেলায় পরিণত করতে চাই।
আলমগীর খান বলেন, গত দুই বছর দু’টি হুমায়ূন মেলা করেছি। এবার হুমায়ূন আহমেদের ওপর আরো বেশি জানতে প্রদর্শনী ও সঞ্চায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
ডা. সিনহা আবুল মনসুর বলেন, এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০ জনের মত অতিথি আসবেন।
কবি মিশুক সেলিম বলেন, মেলা অনুষ্ঠিত হবে জ্যামাইকার পিস ১৩১ স্কুলের অডিটোরিয়ামে। অতিথি হিসাবে কথা হয়েছে উপন্যাসিক এমদাদুল হক মিলন, আসাদুজ্জামান নূর এমপি ও জুয়েল আইচের সাথে। তারা আমাদের কনফার্ম করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ার সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজকদের প্রশ্ন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্মেলনের জন্য গঠিত উপদেষ্টামণ্ডলীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে রয়েছেন শহীদ পরিবারের সন্তান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা বিজ্ঞানী ও ড. নুরন্নবী, বেলাল বেগ, খ্যাতনামা লেখক জ্যোতি প্রকাশ দত্ত, পুরবী বসু প্রমুখ।