নিউইয়র্ক মাতালেন নগর বাউল জেমস

ঠিকানা রিপোর্ট: বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা নগর বাউল জেমস। তিনি শুধু বাংলাদেশে নয় ভারতেও বেশ জনপ্রিয়। কারণ তিনি বলিউডের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিবেশন করে ভারতেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। জেমস বেশ কয়েক বছর যাবত নিউইয়র্ক আসেননি। অনেক দিন পর শোটাইম মিউজিকের প্রেসিডেন্ট আলমগীর খান আলমের আমন্ত্রণে নিউইয়র্ক এলেন। অনেক দিন পর নিউইয়র্ক আসার কারণে তার ভক্তদের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসাহ- উদ্দীপনা। সেই উৎসাহ- উদ্দীপনার অবসান হলো গত ২৩ ডিসেম্বর। তিনি নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের গানে গানে মাতিয়ে গেলেন। এস্টোরিয়ার মেলরোজ বলরুমে আয়োজিত কনসার্টে জেমসের গান উপভোগ করেন নানা বয়সের দর্শকশ্রোতা, যাদের অধিকাংশই ছিল প্রবাসের তরুণ প্রজন্ম।
গত দুই দশক ধরে ঢালিউড ফিল্ম এন্ড মিউজিক এওয়ার্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান করে আসছে নিউইয়র্কের শো’টাইম মিউজিক অ্যান্ড প্লে (এসএমপি)। তবে নগর বাউল জেমসের কনসার্ট নিয়ে দারুণ আগ্রহ ছিল ব্যান্ডের গানপ্রিয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ কারণে সন্ধ্যা থেকে মেলরোজ বলরুম দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। কনসার্টের শুরুতে স্থানীয় শিল্পীরা নৃত্য ও ফ্যাশন শো করে। এরপর মঞ্চে এসে নিজের জনপ্রিয় গানগুলো গাইতে থাকেন জেমস। মাঝে বিরতিতে অনুষ্ঠানের স্পন্সরদের মঞ্চে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেন এসএমপির কর্ণধার আলমগীর খান আলম। বক্তব্য রাখেন উৎসব ডট কমের প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রায়হান জামান, মো. শাহনেওয়াজ, রাহাত আল মুক্তাদির, রোকন হাকিম, মাকসুদ চৌধুরী, সঙ্গীত শিল্পী ও পরিচালক ফুয়াদ আল মুক্তাদির, ইফতেখার ইভান প্রমুখ। কনসার্টের উপস্থাপনায় ছিলেন শায়লা ইফতেখার।
জেমস শুরু করলেন ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী’ গানটি দিয়ে। এর পরে গেয়ে চলেন ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘লেইস্ ফিতা লেইস্’ প্রভৃতি। তরুণ-তরুণীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন ‘গুরুর’ সঙ্গে গেয়ে ও নিজের মতো নেচে। জেমসের গানে মাতোয়ারা হয় ভরা দর্শক। এর পরে গাইলেন ‘মা’। আবেগে আপ্লুত হতে দেখা যায় কয়েকজনকে। জেসম ধরলেন ‘চল চলে আপনে ঘর’। দর্শক সারিতে জেমস উন্মাদনা। পাঁচটি গান গেয়ে তিনি বিরতিতে চলে গেলেন।
বিরতি শেষে জেমস ধরলেন ‘মীরা বাঈ’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া’। দর্শকের আনন্দ-উচ্ছ্বাস বেড়েই চলে একের পর এক জনপ্রিয় সব গান শুনে। জেমস দর্শকের অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে গেয়ে চলেন ‘পাগলা হাওয়া’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’। শেষে গাইলেন আরেকটি হিন্দিগান। সব মিলিয়ে ১০টি গান গেয়ে নিউইয়র্ক মাতিয়ে গেলেন জেমস। জেমসের সঙ্গে গিটারে ছিলেন রানা ও সাব্বির। কিবোর্ড বাজিয়ে ছিলেন তমাল। ড্রাম বাজিয়ে সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিলেন ফান্টি। অনেক দিন পর নিউউয়র্কের দর্শকরা প্রাণভরে জেমসের গান উপভোগ করলেন।