নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল নির্বাচন : ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত প্রার্থীরা

বাঁ থেকে মোহাম্মদ এন মজুমদার ( ডিস্ট্রিক্ট-১৮ প্রার্থী), বদরুন খান মিতা (ডিস্ট্রিক্ট-২৬ প্রার্থী) ও শাহানা হানিফ (ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ প্রার্থী)

ঠিকানা রিপোর্ট : আসছে আগামী ২২ জুন নিউইয়র্কে সিটি কাউন্সিল নির্বাচন। ওই নির্বাচনে কাউন্সিলম্যান পদে বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট থেকে বাংলাদেশিসহ অনেক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের সাড়ে তিন মাস বাকি থাকলেও এখনই মাঠে নেমে পড়েছেন অধিকাংশ প্রার্থী। ভোটারদের মন জয় করতে তারা বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া, সভা-সমাবেশ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে ডিস্ট্রিক্ট-১৮ থেকে বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার, ডিস্ট্রিক্ট-২৬ থেকে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা এবং ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে কমিউনিটির পরিচিত মুখ শাহানা হানিফ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তারা দিন-রাত ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জয়ের ব্যাপারে তিন প্রার্থীই ভীষণ আশাবাদী। ঠিকানাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল এবং বিজয়ী হলে নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য কী করতে চান, সেসব অকপটে বলেছেন। নিচে তাদের বক্তব্যের চুম্বক অংশগুলো পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো :

এন মজুমদারের ২ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলারের তহবিল সংগ্রহ
নিউইয়র্ক নগরীকে বলা হয় সারা বিশ্বের রাজধানী। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এই নগরীর উন্নয়ন ও দেখভাল করছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। মেয়র, পাবলিক অ্যাডভোকেট, কম্পট্রোলার ও ৫১ জন কাউন্সিলম্যান প্রতি চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ২২ জুন অনুষ্ঠেয় নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট-১৮ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন বাংলাদেশি আমেরিকান আইনজীবী, মাস্টার অব ল’ মোহাম্মদ এন মজুমদার। নিউইয়র্ক শহরে বর্ণবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে সুদীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জনগণের পাশে রয়েছেন তিনি।
মোহাম্মদ এন মজুমদার ১৯৮৯ সাল থেকে নিউইয়র্ক নগরীর ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার, ক্যাসলহিল, সাউন্ডভিউ এবং পাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ডিস্ট্রিক্ট-১৮ তে বসবাস করে আসছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়ার পর ইতিমধ্যে জনগণের দেওয়া অর্থ, চাঁদা এবং সরকারি অনুমোদন মিলিয়ে তিনি মোট ২ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচনে এগিয়ে থাকার জন্য মোটা অঙ্কের তহবিল সংগ্রহকে অনেক বড় করে দেখা হয়।
মোহাম্মদ এন মজুমদার বিগত অক্টোবর মাস থেকেই সেরা অ্যাটর্নি, কমপ্লায়েন্স পারসন, ক্যাম্পেইন ম্যানেজার, ট্রেজারার ও সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগ দিয়েছেন। নির্বাচনী গাড়িবহর, ক্যাম্পেইন স্টাফ, ক্যাম্পেইন অফিস ও অফিস ম্যানেজারসহ একটি সুশৃঙ্খল কর্মী গ্রুপও সৃষ্টি করেছেন তিনি।
এন মজুমদার বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা হচ্ছে নির্বাচনী এলাকার দুই লাখ ভোটারের কাছে আমার নির্বাচনী অ্যাজেন্ডা ও পরিকল্পনা পৌঁছে দেওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি আমেরিকানরা এই শহরের কর প্রদানকারী একটি শক্তিশালী অংশ। আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক হিস্যা আদায় এবং আমাদের প্রতিনিধিত্ব আদায়ের সময় এখন। দুঃখজনক হলেও সত্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অবদান সৃষ্টিকারী এই নিউইয়র্ক শহরের স্টেটের বা ফেডারেল পর্যায়ের কোনো স্থানেই বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব নেই। আমাদের প্রতিনিধিত্ব আদায়ের এই সংগ্রামে যদি আমরা অংশগ্রহণ ও জয়ী না হই, তাহলে এই শহরে আমাদের যত অর্জনই থাকুক না কেন, শহরের পলিসি নির্ধারণে আমরা অন্যের দ্বারস্থ হয়ে থাকব। অর্থাৎ আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটা উপজাতীয় বা গৌণ সম্প্রদায়ের মতোই থেকে যাবে।’
এন মজুমদার একজন অত্যন্ত যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী। তিনি ২২ বছর যাবৎ একটি মাঝারি সাইজের ল’ ফার্ম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় প্ল্যানিং বোর্ডের দুবার অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান, ২০১২ সাল থেকে একই বোর্ডের ল্যান্ড অ্যান্ড জোনিং বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ ছাড়া তার রয়েছে কয়েকটি ছোট ব্যবসা।
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে এন মজুমদার বলেন, ‘ছোট ব্যবসা এবং ল’ ফার্মের ম্যানেজমেন্টের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সিটি কাউন্সিলে কাজে লাগিয়ে আমি আমার এখানকার অর্থনৈতিক সাম্য, জনগণের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উন্নয়ন, অ্যাফোর্ডেবল হাউজিংয়ের মাধ্যমে গৃহহীনতা দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজের এবং ছেলেমেয়ের উচ্চতম শিক্ষা, অর্থনৈতিক অর্জন শেষে বাকি জীবন জনগণের সেবায় নিয়োজিত করতে চাই। আমি ব্যক্তিজীবনে প্রতিষ্ঠিত, এখন সময় এসেছে জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার এবং এ জন্যই আমি সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।’
মোহাম্মদ এন মজুমদার বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। কন্যা নাসরিন একজন অ্যাটর্নি এবং ছেলে রাশেদ মজুমদার আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন ব্রঙ্কস ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমে।
জনাব মোহাম্মদ মজুমদারকে ২২ জুন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে ভোট দিয়ে এই সেরা শহরে লাল-সবুজের পতাকাকে সমুন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা চান, এর মাধ্যমে এই শহরে বাংলাদেশিদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক।
উল্লেখ্য, ২২ জুন প্রাইমারি নির্বাচন এবং চলতি বছরের ২ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান :
বদরুন খান মিতা

মূলধারার রাজনীতিক, সাবেক কংগ্রেসওমেন প্রার্থী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা আবারো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সিটি কাউন্সিল প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিটি কাউন্সিলওম্যান পদে। তার নির্বাচনী ডিস্ট্রিক্ট-২৬। এলাকাটি সানি সাইড, উড সাইড, লং আইল্যান্ড সিটির একটি অংশ এবং এস্টোরিয়ার একটি অংশ নিয়ে গঠিত। আগামী ২২ জুন এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ডিস্ট্রিক্ট থেকে ২১ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থীও রয়েছেন।
বদরুন নাহার খান মিতা ঠিকানাকে বলেন, ‘আমি সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। জুম মিটিং করছি। ভোটারদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় আছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় অনেক ভোট আছে। বাংলাদেশি ভোটার, মুসলিম ভোটার ও মহিলা ভোটারের সংখ্যাও কম নয়। এক জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনেই উডসাইড থেকে ছয় হাজারের বেশি ভোট হয়। আসলে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সকল ভোটার যাতে ভোট দেন, তা নিশ্চিত করা। ভোটাররা চাইলে বিভিন্ন উপায়ে ভোট দিতে পারেন। অ্যাবসেন্টি ব্যালটে ভোট দিতে পারেন। আর্লি ভোট দিতে পারেন। এ ছাড়া ভোটের দিন তো ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছেই। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রেজিস্টার্ড ভোটারদের সবাই ভোট দিতে উৎসাহী হন না। ফলে আমরা আশানুরূপ ভোট পাই না।’
বদরুন খান বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি ভোটারদের কাছে আমার বার্তা পৌঁছানোর জন্য। তারা যাতে আমাকে ভোট দেন এবং আমি তাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকার ও আমার ডিস্ট্রিক্টের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার এলাকা থেকে আমরা ২১ জন এবার নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছি। শুনেছি একজন বাংলাদেশিও আছেন। এবার ভোট হবে র‌্যাঙ্ক চয়েজ ভোটিংয়ের মাধ্যমে। এই ভোটের মাধ্যমে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ একজন ভোটার কেবল একজন প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। তিনি একাধিক প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক, রিপাবলিকানের পাশাপাশি ইন্ডিপেন্ডেন্টও রয়েছেন। এ জন্য চেষ্টা করছি ডেমোক্র্যাটিক ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভোটাররা যেন ভোট দিতে আসেন।’
বদরুন খান বলেন, ‘আমি ফান্ড রেইজ করছি। হাফ মানি ম্যানেজ হয়ে গেছে। নির্বাচনের জন্য ম্যাচিং ফান্ড পাব। আশা করছি এগিয়ে যেতে পারব। আমার ক্যাম্পেইন স্টাফ আছে, তারা কাম্পেইনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি, আমি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হতে পারব ও সমর্থন পাব।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে আমাদের কিছু বেইজড ভোট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি, সাউথ এশিয়ান, এশিয়ান, মহিলা ও মুসলিম ভোটার। অন্যান্য কমিউনিটির ভোটের পাশাপাশি এসব বেইজড ভোট নিতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। আমি জয়ী হলে সেটা হবে প্রথম বাংলাদেশি মুসলিম মহিলা সিটি কাউন্সিলম্যান।’
বদরুন খান মিতা ছাড়াও ডিস্ট্রিক্ট-২৬-এ যারা প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন অমিত বেগা, জুলিয়া ফোরম্যান, জেসি লেমন, গ্লেনিস গোমেজ, তাভো বোর্টোলি, মারভিন জেফকোট (আর), ডেনিস কেহান-স্মিথ, গিজেল এ বার্গেস, ইবনি ইয়াং, হিয়াজিন হাইলি কিম, জুলি ওন, সুলতান মারুফ, ব্রেন্ট ও’লিয়ারি, জোনাথন বেইলি, এমিলি শার্প, মিকা পিটারসন, স্টিভেন রাগা প্রমুখ।

প্রথমবার নির্বাচন করছেন : শাহানা হানিফ
কমিউনিটিতে আলোচিত এক নাম শাহানা হানিফ। সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে তিনি এবার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ডিস্ট্রিক্ট ৩৯-এ কেনসিংটন, বরো পার্ক, ক্যারল গার্ডেনস, কোবল হিল, কলম্বিয়া ওয়াটারফ্রন্ট, গোয়ানাস, পার্ক স্লোভ এবং উইন্ডসর টেরেসের কিছু অংশ রয়েছে। আগামী ২২ জুন সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে তিনি সিটি কাউন্সিলওম্যান পদে নির্বাচন করবেন। ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি কয়েক বছর ধরে তার ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করে চলেছেন। দেড় বছর ধরে নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
শাহানা হানিফ বলেন, ‘আমি এবারই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমি দেড় বছর ধরে ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছি। ক্যাম্পেইন করা এবং রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া কঠিন কাজ। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিই। ২০১৯ সালে ঘোষণা করি। এরপর আমি একটি টিম তৈরি করি। টিম নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছি। আমি যখন ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ও ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করি, তখন ব্যাপক সাড়া দিয়ে আমাদের কমিউনিটির অনেক মানুষ এগিয়ে আসেন। তারা প্রশংসা করছে। আমি যদি এত দিন পরিশ্রম না করতাম, তাহলে সেটা হতো না। আমি কাজ করছি বলেই মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি এবং মানুষের সমর্থন পাচ্ছি।’ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে শাহানা হানিফ বলেন, আমি বিভিন্ন জুম মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছি। এনড্রোস মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি। তার পরও বলব, আমি পুরো নির্বাচনী এলাকা সফর করছি। মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। র‌্যাঙ্ক চয়েজ ভোটিং এবার প্রথম হচ্ছে। এই ভোট সিস্টেম সম্পর্কে অনেকেই জানেন না, সেটাও আমরা বলার চেষ্টা করছি। র‌্যাঙ্ক চয়েজ ভোটে একাধিক প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা।’ শাহানা হানিফ বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য ফান্ড রেইজ আমি আগেই করেছি। এ পর্যন্ত অনেক বড় বড় সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে এনড্রোর্সমেন্ট পেয়েছি। জয়ী হওয়ার জন্য যত ভোট দরকার, সেটা অর্জন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি এই প্রজন্মের হলেও দীর্ঘদিন ধরেই কমিউনিটি ও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই কাজ করতে গিয়ে এলাকার প্রবীণ, মধ্যবয়সী এবং এই প্রজন্মের সবার সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্কের কারণে আমি আশা করছি, তারা আমাকে সমর্থন দেবেন।’ উল্লেখ্য, শাহানা হানিফ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান। তার জন্ম ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডের কেনসিংটনে। পড়ালেখা করেছেন ব্রুকলিনের স্কুল ও কলেজে। তার সফলতার পাল্লায় রয়েছে অনেক অভিজ্ঞতা। তিনি উইমেন্স রাইট, লিগ্যাল রাইটস, সেবা, হাউজিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, টেনেন্ট রাইটসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। তিনি প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে সিটি কাউন্সিলওম্যান পদে নির্বাচিত হতে চান। এটা হলে তিনিই হবেন প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সিটি কাউন্সিল সদস্য। তার বাবা মোহম্মদ হানিফ কমিউনিটির একজন পরিচিত মুখ।
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
Website: https://www.shahanafrombk.com
Email: [email protected]