নিখোঁজের চার মাস পর এসিডে ঝলসানো কিশোরী

নোয়াখালী : নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের নাছিরপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজের প্রায় চার মাস পর এসিডে ঝলসে যাওয়া কিশোরী রাহেনা আক্তারকে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সুমন নামের এক যুবককে নোয়াখালীর মাইজদী থেকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল হোতারা এখনও পলাতক। গত ৪ ফেব্রæয়ারি ভোরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের নিচ থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে মাইজদী নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যার পর তাকে ভর্তি করা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে। রাহেনা আক্তার হাতিয়ার নাসিরপুর গ্রামের বাহার উল্যার মেয়ে।

কিশোরীর মা সামছুন নাহার অভিযোগ করে বলেন, প্রায় চার মাস আগে তিনি বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী জামাল উদ্দিন ওরফে জামাইল্লার মেয়ে রিনা আক্তার নেশাজাতীয় দ্রব্য দিয়ে রাহেনাকে অচেতন করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। বাড়িতে এসে শোনেন রিনা মেয়েকে নিয়ে গেছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, নিখোঁজের কয়েকদিন পর রাহেনা একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দেয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফোন কেটে যায়। এর পর থেকে মেয়ের আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ৩ ফেব্রæয়ারি রাতে আবারও একটি অপরিচিত নম্বর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে জানায় রাহেনা অসুস্থ। চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের নিচ পড়ে আছে। এ সংবাদে দ্রæত তারা সেখানে গিয়ে গত ৪ ফেব্রæয়ারি ভোরে মুমূর্ষু অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাহেনা জানায়, এ চার মাস রিনার মামি আলেয়া আক্তার তার মাইজদীর বাসায় রেখেছে। বিনা কারণে আলেয়া তাকে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করত। কখনও বেøড দিয়ে পুরো শরীরে রক্তাক্ত করত; গরম পানি ঢেলে দিত। সর্বশেষ শরীরে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ব্যথা ও যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করলে মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে মারধর করত। খাবারও দিত না। সারা শরীরে পচন ধরে গন্ধ বের হলে গত ৩ ফেব্রæয়ারি রাতে একটি গাড়িতে করে তাকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের কাছে নিয়ে লাথি দিয়ে ফেলে আসে আর বলে, তুই মর।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকসৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিম জানান, কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে কিশোরীকে দেখে এসেছেন। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে সুমন নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।