নির্বাচন সামনে রেখে সংঘবদ্ধ হচ্ছে জঙ্গিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত ছয় হিজরতকারীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ শেষে দেশে সশস্ত্র জিহাদের পরিকল্পনা করেছিল বলে সিটিটিসি জানায়। অনলাইনে জিহাদি পোস্ট ও ভিডিও দেখে তারা জিহাদের জন্য অনুপ্রাণিত হয়। বর্তমান সময়ে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণসহ নানামুখী তৎপরতাও বেড়েছে। সর্বশেষ গত নভেম্বর মাসে ঢাকার আদালত থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে ইসলামি জঙ্গিদের তৎপরতা আরো বাড়ছে। জঙ্গিরা রাজনৈতিকভাবেও ব্যবহার হতে পারে বলে মনে করছে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যেতে পারে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অনেক জঙ্গি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির বাইরে। বিশেষ করে, যারা জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপন করেছে বা নিজেদের আড়াল করে রেখেছে। জঙ্গিদের এই অপতৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক মহলও বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে জঙ্গিদের সক্রিয় হতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থির করে তুলতে সংঘবদ্ধ হচ্ছে জঙ্গি চক্র। তারা দেশে এবং দেশের বাইরে অবস্থান করে এই জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এখনো জঙ্গিবাদের সর্বনাশা অপতৎপরতা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত নয়।
এ বিষয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু জঙ্গিবাদী সংগঠনের নেতারা নানা ইসলামিক কাউন্সেলিং করে সাধারণ তরুণ-তরুণীদের জঙ্গিবাদে আসক্ত করছে। তিনি বলেন, কেউ যেন ধর্মকে ব্যবহার না করে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিপথগামী করতে না পারে, সে জন্য ইসলাম সম্পর্কে সবাইকে কমবেশি জানতে হবে। তিনি আরও বলেন, সবাইকে ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে পরিবারকে। পরিবার ও সমাজ সচেতন হলে এসব অপরাধ অনেকটা কমে আসবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মো. আব্দুর রশীদ বলেন, জঙ্গিরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে তাদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করছে। জঙ্গিদের নজরে না রাখলে তারা যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে হামলা করার চেষ্টা করবে। হয়তো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা যেকোনো একটা রাজনৈতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের হামলার ঘটনা বা নাশকতা করার কৌশল করতে পারে।
সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ শেষে দেশে সশস্ত্র জিহাদের পরিকল্পনা করছে। জঙ্গিরা নির্বাচনের আগে বা এই সময়ে অনেকটা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তা ছাড়া তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। তবে জঙ্গিদের নজরে রাখা হয়েছে।