নির্বাচিতরাই অবৈধ সরকারের বৈধতা দিতে বাধ্য হবেন

ঠিকানার মুখোমুখি ফাজলে রশীদ

সাঈদ- উর রব: ফাজলে রশীদ। একজন নির্ভিক সাংবাদিক। ঢাকা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি। বাংলাদেশের যে ক’জন নামী- দামী সাংবাদিক রয়েছেন তার মধ্যে তার নামটি উল্লেখযোগ্য। তার তত্ত্বাবধানে যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই এখন বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিষ্ঠিত সম্পাদক। ফজলে রশিদ স্বাধীনতার আগে থেকেই অর্থাৎ১৯৬৫ সাল থেকে দৈনিক মনিং নিউজে সাংবাদিকতা পেশা শুরু করেন। ১৯৬৫ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন। ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মনিং নিউজে, ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ অবজারভারে, ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মনিং সান- এ, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত নিউ নেশনে এবং ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে সাংবাদিকতা করেন। স্পোর্টস রিপোর্টার হিসাবে কাজ শুরু করে নিজ যোগ্যতায় এক সময় সম্পাদকের পদটি পর্যন্ত আলোকিত করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা সরকারের কাছাকাছি থেকে রিপোর্ট করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান জাতীয় সংসদে পাশ হওয়ার রিপোর্ট প্রথম করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন একমাত্র তিনিই। তার অভিজ্ঞতার ঝুলি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সাংবাদিক ফজলে রশিদ এখন নিউইয়র্ক প্রবাসী। তার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে সাংবাদিক জীবন, পারিবারিক জীবন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং প্রতিটি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কথা বলেছেন সম্প্রতি ঠিকানাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে। তার সাক্ষাৎকারটি প্রশ্ন আকারে পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হলো-
ঠিকানা: আপনি কত সালে এবং কিভাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন?
ফাজলে রশিদ : ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি এম এ পড়তে পড়তে একটি জাহাজ কোম্পানীতে চাকরি পেলাম। জাহাজ কোম্পানীর চাকরি নিয়ে খুলনা চলে গেলাম। আমি গিয়ে বুঝলাম এই চাকরি নেয়ার কারণে আমাকে অনেক সময় গভীর সমুদ্রে পানির মধ্যে থাকতে হবে, ছোট বেলা থেকেই আমার জলাতঙ্ক ছিলো অর্থ্যাৎ পানি দেখলে আমি ভয় পাই, যে কারণে এই কাজটি বেশি দিন করতে পারিনি। এক বছর পর চাকরি ছেড়ে দিলাম। আমার বেতন ছিলো ৭ শ’ টাকা। সেই আমলে ৭শ’ টাকা অনেক বেশি। তার পরে আমি একটি ব্যাংকে জয়েন করলাম ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসাবে। আমার কাজ ছিলো ঘুরে ঘুরে একাউন্ট জোগাড় করা। সেই চাকরিও আমার ভাল লাগলো না। এর মধ্যে অবশ্য আমি অবজারভার এবং মনিং নিউজে লেখালেখি শুরু করি। আমি মনিং নিউজে স্পোটর্স রিপোর্টার কাম সাব এডিটর হিসাবে জয়েন করলাম ১৯৬৫ সালে। এই থেকে আমার সাংাদিকতা জীবন শুরু হলো। আমি যেহেতু খেলাধুলা করতাম এবং খেলাধুলা ভালবাসতাম সেহেতু স্পোর্টস রিপোর্টিং বেছে নিলাম। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ইস্ট পাকিস্তান ও বেলুচিস্তানের মধ্যে খেলা কায়দে আজম ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনাল। তখন ইস্ট পাকিস্তানের দুর্ধর্ষ টীম ছিলো। দলের মধ্যে ছিলেন কবির, মালি, আশরাফ, গজ নবী। ইস্ট পাকিস্তানকে চুরি করে হারিয়ে দেয়া হলো। এই নিয়ে স্টেডিয়ামে তোলপাড়। আমরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। স্বাধীকার আন্দোলনের বিজটি খেলার মাঠেও প্রতিফলিত হয়েছে। মনিং নিউজে আমি ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ছিলাম। স্বাধীন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রথম বিদেশে এসাইমেন্ট ছিলো ভারতে শেখ মুজিবের সাথে। আমরা কয়েকজন তার সঙ্গে গেলাম। ভারতে যাবার পর কলকাতায় প্যারেড গ্রাউন্ডে শেখ সাহেবের সাথে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধির মিটিং হবে। সেই অনুষ্ঠানে দু’জনই বক্তব্য দিলেন। আমি সেই নিউজের ইন্ট্রো শেখ সাহেবের বক্তব্য, না ইন্ধিরা গান্ধির বক্তব্য দিয়ে করবো তা নিয়ে মহা দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। তখন হাশেম ভাইকে ব্যাপারটি বললাম। তিনি আমাকে বললেন দু’জনের কমন বক্তব্য দিয়ে ইন্ট্রো লিখ। আমি তার কথা মত ইন্ট্রো লিখলাম। সবাই আমার সেই রিপোর্ট নিয়ে প্রশংসা করলেন। সেই অনুষ্ঠানে ইন্ধিরা গান্ধি পনের মিনিট পরে এলেন। শেখ সাহেব সাদা ধবধবে পায়জামা এবং পাঞ্জাবী পরে গিয়েছিলেন। তার মুখে ছিলো পাইপ আর হাতে এরিরমোরের টোবাকো। ইন্ধিরা গান্ধি পড়েছিলেন ব্ল্যাক স্পটের শাড়ি। ইন্ধিরা গান্ধি দেরীতে আসার জন্য দু:খ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, আমার জীবনের সব চেয়ে স্মরণীয় রিপোর্টিং ছিলো যেদিন বাংলাদেশের সংবিধান পাশ হয়। সংবিধান পাশ হয়েছিলো সকাল ৩টায়। অন্যকোন পত্রিকা ধরাতে পারেনি। আমি অবশ্য তখন অবজারভারে। আমি ভারত থেকে ফিরে এসেই অবজারভারে জয়েন করি। সেই সময় অবজারভারে ছিলেন ববি, কেজি ভাই, রহিম ভাই, ওবায়দুল হক। আমি সতের বছর অবজারভারে কাজ করেছি। আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা ছিলো শফিউল আলম প্রধান কর্তৃক ইকবাল হলে ছাত্র ফোরামের সেভেন মার্ডারের ঘটনা। কারণ এই ঘটনাটি রাত একটার সময় ঘটেছিলো। ছিদ্দিকুল্যাহ শিফট ইন চার্জ। তিনি অফিসে ছিলেন। আমাকে রাত ১ টার সময় ফোন দিলেন এবং পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বললেন আমাকে আসতে হবে। গাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হলো আমি আসলাম এবং বিভিন্ন সূত্রে খবরা খবর নিয়ে রিপোর্ট লিখলাম। আর কোন পত্রিকা এই রিপোর্ট ধরাতে পারেনি- সবাই খুশি।
ঠিকানা : তথ্য কার কাছে পেলেন?
ফ. রশীদ :পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে পেয়েছিলাম যিনি ঘটনার তদন্ত করছিলেন। তখন অবশ্য একটা জিনিস ছিলো- এখন আছে কী না জানি না। আজ কাল ভুরি ভুরি সাংবাদিক দেখি। আমারা রিপোর্টিং শিখতাম স্পাইক দিয়ে। আমার কাজ ছিলো স্পাইকগুলো ক্লিয়ার করা, থানায় থানায় ফোন করা, ফায়ার ব্রিগেডকে ফোন করা এবং জানতে চাওয়া কোন ঘটনা ঘটেছে কি না।
ঠিকানা : তখন কি ক্রাইম রিপোর্টার ছিলো না?
ফ. রশিদ : না, তখন কোন ক্রাইম রিপোর্টার ছিলো না। যারা স্পাইক ক্লিয়ার করতো তারা এই দায়িত্ব পালন করতো। তিনি বলেন, যে কোন সোর্সই একটি বড় নিউজের তথ্য হতে পারে। আমি একবার সচিবালয়ে ফুড সেক্রেটারীর কাছে গিয়েছিলাম। কথা শেষে বেরিয়ে আসছি। এমন সময় তার পিয়ন বের হয় হাতে একটা ফাইল নিয়ে। এই সময় তার সহকর্মী তাকে জিজ্ঞেস করলো কোথায় যাচ্ছ। সে উত্তর দিলো আগামী কাল থেকে চাল এবং চিনির দাম বাড়বে- ফাইলে মন্ত্রীর স্বাক্ষর নিতে যাচ্ছি। আমি শুনেই মন্ত্রীর সাথে কথা বলে রিপোর্ট করি এবং এটি লীড হয়। আরেকটি ইন্টারেস্টিং রিপোর্ট যেটি হাসান সাহেব করেছিলেন। আমরা গিয়েছিলাম আজিমপুর গোরস্তানে একজনের দাফন করতে। ঐখানে গোরস্তানের লোকজন বলাবলি করছিলো আজকাল পক্সে মানুষ খুব মারা যাচ্ছে। এই কথাটি হাসান সাহেবের মাথায় স্ট্রাইক করলো। তিনি অতীতের ফাইল দেখলেন, শ্মশানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করলেন এবং রিপোর্ট করলেন। তাতে উল্লেখ ছিলো ১৪ দিনের মধ্যে এক হাজার লোক পক্সে মারা গিয়েছে। মনিং নিউজে লীড করা হয়েছিলো খবরটি। তখন গভর্নর ছিলেন মোনায়েম খান। সে প্রচন্ড ক্ষেপে যান। তখন বদরুদ্দিন সাহেব এডিটর ছিলেন। মোনায়েম খান তাকে ফোন করলেন এবং বললেন আপনারা এটা কী ছেপেছেন? এর উত্তরে সম্পাদক বললেন আমরা যা ছেপেছি তা এক বিন্দুও মিথ্যা নয়- সরেজমিনে গিয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে।
ঠিকানা : ঐ সময় সরকারি দিক থেকে কি রকম প্রেসার আসতো?
ফ. রশীদ: পিআইডির কাছ থেকে খুব একটা আসতো না। তবে ডাইরেক্ট আসতো। ডিআইটির তখনকার চেয়ারম্যান ছিলেন মাদানী সাহেব। আমি একটা রিপোর্ট লিখেছিলাম তার একটা অংশে ভুল ছিলো। আমার গুরু ছিলেন শহিদুল হক। উনি মর্নিং নিউজের সিটি এডিটর ছিলেন। মাদানী সাহেব তাকে ফোন করে বললেন আপনার রিপোর্টারতো আমাকে ভুল কোট করেছে। আমি ভুল স্বীকার করেছিলাম। সাদেকুর রহমান সাহেব পিআর ছিলেন। তিনি মাঝে মধ্যে টেলিফোন করতেন মোনায়েম খানের জ্বালায়। আমাদেরতো সরকারি পত্রিকা ছিলো খুব একটা লিখতাম না। তবে অবজারভার, সংবাদ ও ইত্তেফাকে লিখতো।
ঠিকানা : আপনি তো মনিং নিউজ ছেড়ে অবজারভারে গেলেন- আপনি কোথায় কাজ করতে সাচ্ছন্দবোধ করতেন?
ফ. রশীদ : অবশ্যই অবজারভারে। সেখানে লেখার সুযোগ অনেক বেশি ছিলো। কোন বাধা ছিলো না। যা সত্যি তা লিখতাম। এরশাদের সাথে যখন বিরোধী দলের সমঝোতার কথা চলছে। বঙ্গভবনে মিটিং হবে। রাত বারটার সময়। অনেক সাংবাদিকই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ৭ বা ৮ দল থেকে কেউ আসছিলেন না। এরশাদের দুই মন্ত্রী খুব পায়চারি করছিলেন। আমি অফিসে এসে লিখলাম- মিড নাইট ড্রামা। সেই রিপোর্টেরও সবাই প্রশংসা করেছিলেন।
ঠিকানা : আপনি মর্নিং নিউজ ছেড়ে দিলেন কেন?
ফ. রশীদ : অবজারভারের কেজি ভাই আমার একটি রিপোর্ট দেখে পছন্দ করেছিলেন এবং আমাকে অবজাভারে জয়েন করার জন্য বলেছিলেন। তাছাড়া মনিং নিউজ এ তো অনেক দিন কাজ করলাম, তাই চিন্তা করলাম চেঞ্জ করি।
ঠিকানা : আপনি স্পোর্টস রিপোর্টিং ছেড়ে দিলেন কেন?
ফ. রশীদ : স্পোর্টস রিপোর্টার হিসাবে কাজ করার সময় মর্নিং নিউজের জেনারেল রিপোর্টিং এর একটি পদ খালি হলে ব্যবস্থাপনা পরিষদ আমাকে জেনারেল রিপোর্টিং- এ নিয়ে যান।
ঠিকানা : স্পোর্টস রিপোর্টিং না জেনারেল রিপোর্টিং ভাল লাগতো?
ফ. রশীদ: অবশ্যই জেনারেল রিপোর্টিং। খেলাধুলা আমি পছন্দ করতাম- বিশেষ করে ক্রিকেটের প্রতি আমার নেশা ছিলো। আমি ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিলাম। তাই স্পোর্টস রিপোর্টিং আমার ভাল লাগতো। আমি ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট দলের দলপতি ছিলাম। অন্যান্য দলেও দলপতি ছিলাম। তাছাড়া জেনারেল রিপোর্টিং এর ক্ষেত্রও অনেক বড় ছিলো। সেই সময় মর্নিং নিউজে কাজ করতেন ওয়াহেদুল হক, আলতাফ হোসেনসহ বাঘা বাঘা সাংবাদিকরা। ওয়াহেদ ভাই এর সাথে কাজ করে মজা লাগতো। তিনি অফিসে এসে ক্লাসিক্যাল গানগুলোর গুন গুন করে সুর রচনা করতেন। উনি খুব বিচক্ষন ছিলেন। যে কারণে দ্রুত রিপোর্ট দেখেই হেডিং করে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে পারতেন।
ঠিকানা : আপনার সমসাময়িক কারা ছিলেন?
ফ. রশীদ : আমার সম সাময়িকদের মধ্যে ছিলেন হাসান সাঈদ, গোলাম তাহাবুর।
ঠিকানা : খেলাধুলার প্রতি আপনার এত ঝোঁক ছিলো কেন?
ফ. রশীদ : খেলাধুলার প্রতি আমার খুব ঝোঁক ছিলো। লেখাপড়ায় আমি খুব খারাপ ছাত্র ছিলাম। আমরা ১০ ভাই বোন। এর মধ্যে ৮ জন গ্র্যাজুয়েট, ২ জন এম এ। আমার বড় বোন ও মেঝ বোন কলকাতায় হিন্দু দাঙ্গার কারণে লেখাপড়া শেষ করতে পারেনি। ওরা পড়তো শাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাই স্কুলে। আমার মা আমাকে নিয়ে খুব দু:চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। উনি আমাকে সব সময় বলতেন আগে লেখাপড়া শিখ- তারপরে রাস্তায় ঝাড়ণ্ড দাও তাতেও আমার কোন আপত্তি নেই। কোন রকমে নবাবপুর গর্ভমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টার মিডিয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স। চাকরির কারণে এম এ দেয়া হয়নি। আমাদের ক্লাসের চারজনতো পরবর্তীতে মন্ত্রী হয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছেন সাত্তার, নাজমুল হুদা রিন্টু, মিজানুর রহমান শেলী। আতাউর রহমান কাওসার এ্যাম্বাসেডর হয়েছিলেন আর রওনক জাহানতো খুবই ফেমাস। তার সাথে আমার কোন যোগযোগ নেই। যতদূর জানি সে এখন স্বামীর সাথে ঢাকায় থাকেন। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক প্রেম দেখেছি, তবে রেহমান সোবহানের সাথে যে রওনকের প্রেম ছিলো তা আমার মত অনেকেই জানতো না। দিলারা চৌধুরী জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের এক জন প্রফেসর ছিলেন। গায়ের রং কালো হলেও খুব সুন্দরী ছিলেন। তার পেছনে পিছনে ছাত্র- শিক্ষক অনেকেই লাইন দিত। পরে অবশ্য তিনি বিয়ে করেছিলেন ডি ডাব্লিউ চৌধুরী নামে একজন প্রফেসরকে। তিনি পাকিস্তানের সংবিধান রচনায় সাহায্য করেছিলেন। যদিও তাকে আইয়ুব খানের লেজড়ণ্ড বলে কেউ কেউ চিহ্নিত করার চেষ্টা করতেন। তবে তিনি খুব বিদ্ধান লোক ছিলেন।
ঠিকানা : আপনিতো বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এই সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতি বছর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয় এবং পুরষ্কৃত করা হয়। আপনারা কিভাবে সেরা খোলোয়াড় নির্বাচন করে থাকেন?
ফ. রশীদ : ক্রীড়া লেখক সমিতি এবং ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার মধ্যে বিরোধ ছিলো। এই বিরোধ ছিলো প্রফেসনাল এবং নন প্রফেসনাল সাংবাদিক নিয়ে। হামিদুজ্জামান তো কোন পত্রিকার স্টাফ ছিলেন না। উনিতো রিপোর্টিং করতেন। উনি ছিলেন ক্রীড়া লেখক সমিতির সদস্য আর রউফুল হাসান ছিলেন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। আমার আগে প্রেসিডেন্ট ছিলেন এনায়েত উল্যাহ খান মিন্টু। সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা হতো তার খেলার ফলাফল এবং তার সব কিছু বিবেচনা করে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোন ব্যাপারই ছিলো না।
ঠিকানা : ঐ সংস্থার সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে কী না?
ফ. রশীদ : এমনিতে যোগাযোগ নেই। ঢাকায় গেলে দেখা হয়। তাছাড়া এখনতো সবাই নতুন। আমাদের সময়ে যারা ছিলেন তার মধ্যে রউফুল ও রুমিতো মারা গেলেন। জামানের অনেক বয়স হয়েছে- সেও আগের মত যায় না।
ঠিকানা : খেলাধুলায় আমরা খুব একটা আগাতে পারছি না কেন? এর জন্য ক্রীড়া জগতের রাজনীতি কি দায়ী?
ফ. রশিদ: রাজনীতিতো বটেই। খেলাধুলায় না আগানোর কারণ হচ্ছে দুর্বল এবং অদূরদর্শী ম্যানেজমেন্ট। কোন প্রফেসনালিজম নেই। তাছাড়া তেমন স্পন্সরও নেই। এখনতো কিছু প্রতিষ্ঠান তাও স্পন্সর করে। তখন বিমান ও বিজি প্রেস ছাড়াও স্পন্সর করতো না।
ঠিকানা : আপনাদের সময় দেখা গেছে স্পোর্টস রিপোর্টিংকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হতো না। ভিতরের পাতায় খেলার খবর দেয়া হতো- কেন?
ফ. রশীদ: এটা ঠিক নয়। একমাত্র ইত্তেফাকে ভিতরের পাতায় খবর দেয়া হতো। তাছাড়া মর্নিং নিউজ ও অবজারভারের পুরো পাতায় খেলার সংবাদ দেয়া হতো। স্পোর্টসের জন্য আলাদা সম্পাদক, রিপোর্টার ছিলেন। দৈনিক বাংলায় শেষের পাতা থেকে খেলার সংবাদ দেয়া হতো। দৈনিক বাংলাতে আমি জামানকে ঢুকিয়ে ছিলাম তখনকার চীপ রিপোর্টার আশরাফ ভাই এর মাধ্যমে। আশরাফ ভাই আমাকে বলেছিলেন একজন স্পোর্টস রিপোর্টার দেয়া জন্য।
ঠিকানা : এখন কি খেলাধুলার খবর রাখেন?
ফ. রশীদ : এখনো নিয়মিত খেলাধুলার খরব রাখি। বিশেষ করে ক্রিকেটের তো আমি পুরো ভক্ত। পয়সা খরচ করে চ্যানেল নিয়ে খেলা দেখি।
ঠিকানা : বাংলাদেশের বিখ্যাত বিখ্যাত অনেক সাংবাদিক তাদের সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন স্পোর্টস রিপোর্টিং এর মাধ্যমে, কেন? ফ. রশীদ: সাংবাদিকতা ক্ষেত্রে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, যারা স্পোর্টস এবং আইন রিপোর্টিং নিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন ’দে বি কাম এ নাম্বার ওয়ান জার্নালিস্ট।’ কারণ তারা একিউরেট রিপোর্ট করতে পারেন। কে গোল দিলো এবং কেন ভাল খেললো তা খেলা না দেখলে রিপোর্ট করা যায় না। এখানে নিজের মতামত দেয়া যায় না- যা ঘটেছে তাই লিখতে হয়।
ঠিকানা : আপনি কার কাছ থেকে সাংবাদিকতা শিখেছেন?
ফ. রশীদ : আমি স্পোর্টসম্যান পড়তে পছন্দ করতাম। আমি এবং মানিক গোপীবাগ থেকে হেঁটে হেঁটে নবাবপুর যেতাম এবং একটি স্পোর্টসম্যান কিনতাম আর ক্যাপিটাল রেস্টুরেন্টে বসে বসে পড়তাম। এই রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন একজন হিন্দু ভদ্রলোক। এই রেস্টুরেন্টের মোগলাই পরাটা এবং চা খুব প্রসিদ্ধ ছিলো। সাংবাদিকতা শিখেছি শহিদুল হকের কাছ থেকে। উনি বলেছিলেন তুমি যা দেখেছ তাই লিখবা, বাড়িয়ে কিছু লিখবা না। উনি আরো বলতেন- একজন সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে তার পাঠকদের সঠিক রিপোর্ট দেয়া যে কোন পরিস্থিতিতে। তিনি কথা প্রসঙ্গে বলেন, সংসদ রিপোটির্ং করতে গিয়েও আমি প্রশংসিত হয়েছি। এছাড়াও আমি বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং রেডিও বাংলাদেশের জন্য কমেন্ট্রি লিখতাম। একবার আমি ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখেছিলাম, তিনি কী একটা গন্ডগোল করেছিলেন। তিনি একটা প্রিভিলেইজ মোশন মুভ করেছিলেন পার্লামেন্টে। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ আজিজ। তিনি আমাকে ডিফেন্ড করেছিলেন। এর আগে একবার স্পীকার আমাকে ডিফেন্ড করেছিলেন। আমার মতে বেস্ট স্পীকার ছিলেন আব্দুল হামিদ চৌধুরী। আবু সাঈদ চৌধুরীর পিতা। তিনি সরকারি লোক হয়েও সরকারকে চেপে ধরতেন। ভাল বংশ এবং শিক্ষিত লোক হলে যা হবার কথা তাই।
ঠিকানা : সংসদের কার্যক্রমকে আপনি কিভাবে দেখেন? কী করলে ভাল হতো?
ফ. রশীদ : সংসদে যেদিন সংবিধান পাশ হলো সেই দিন আতাউর রহমান ও মানবেন্দ্র লারমা বিপক্ষে বলেছিলেন। তাদের আওয়ামী লীগের লোকজন প্রায় মারতে আসে। যেটা ছিলো দু:খজনক ঘটনা। কারণ সংসদে আওয়ামী লীগ মেজরটি- দু’জন বিরুদ্ধে বলেছেন তাতে কি হয়েছে? তাদেরকে তো ওয়েল কাম করতে পারতো। সংবিধানের বিলটি উপস্থাপনা করেছিলেন ড: কামাল হোসেন। আমি ভয়ে ভয়ে ছিলাম তার বাংলা নিয়ে। তিনি কিভাবে বাংলা বলবেন, না বলবেন। কিন্তু তিনি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। বিল পাশ হবার পর তিনি হল থেকে বেরিয়ে বাথরুমের দিকে যাচ্ছিলেন। এই সময় শেখ সাহেবও বেরিয়েছিলেন- তাকে জাপটে ধরে গলাগলি করলেন এবং সাহস দিলেন। শেখ সেলিমও সংসদে ছিলেন। শেখ সেলিম তখন শেখ সাহেবের রুমে গিয়ে তাকে আঙ্কেল আঙ্কেল বলে কাজ আদায় করে নিতেন। যা আমরা দেখেছি। তখন সংসদে সবাই সবাইকে শ্রদ্ধা করতেন।
ঠিকানা : এখন করে না কেন?
ফ. রশীদ: এখন কেন সম্মান বা শ্রদ্ধা করেন না তা আমার বোধগম্য নয়। শেখ সাহেব যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন তখন আমি আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করতাম। এখন তো করি না, বিকজ অব শেখ হাসিনা। শেখ মুজিব এবং শেখ হাসিনা এক নয়। আকাশ- পাতাল পার্থক্য। শেখ সাহেবের চারিদিকে পরিবেষ্টিত ছিলো ড: রেহমান সোবহান, ড: নুরুল ইসলামসহ অনেক জ্ঞানী গুণি লোকজন, এখন শেখ হাসিনার চারিদিকে রয়েছে স্বার্থন্বেষী, চাটুকার এবং গুন্ডাপান্ডারা। এখনকার স্পীকাররা নিরপেক্ষ নন!
ঠিকানা : আপনি বলতে চাচ্ছেন আগের রাজনীতিবিদরা এখনকার রাজনীতিবিদের চেয়ে সৎ ও মেধাবী ছিলেন এবং রাজনীতির গুণগত পার্থক্য রয়েছে। এর থেকে উত্তরণের পথ কী?
ফ. রশীদ: উত্তরণের পথ হলো- মনোনয়ন পত্র অসৎ, কালোবাজারীদের কাছে অর্থের জন্য বিক্রি না করা। যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়া। সালমান এফ রহমানের মত লোকদের দোষ দিয়েতো কোন লাভ নেই। কারণ তাদের অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন পত্র দেয়া হয়েছে। শেখ সাহেবের আমলেতো এই সব চিন্তাই করা যেত না। আগেতো জেনারেল অব:দের মনোনয়ন পত্র দেয়া হতো না। এখন দেয়া হয়। ৯০ এর দশক থেকে এই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
ঠিকানা : এর কারণ কী?
ফ. রশিদ: এর কারণ আমি জানি না। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন হঠাৎ করে এয়ারভাইস মার্শাল (অব:) খন্দকার এবং মেজর জেনারেল (অব:) সফি উল্যাহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিচার করে গলা ফাটাচ্ছেন- কিন্তু কেন? তারা দুজনতো ক্ষমতায় ছিলেন- সেই সময় তারা বিচার করেননি কেন? তারা এখন বড় রাজনীতিবিদ হতে চাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে থেকে হঠাৎ করে দলীয় রাজনীতিতে যোগ দেয়া ঠিক নয়। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে সরকারি চাকরি শেষে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন বলে তো আমার জানা নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর্মি যে একটা শক্তিশালী ফোর্স এটা তো কেউ অস্বীকার করবে না। আগে তারা পিছনে থেকে করতেন এখন সরাসরি করছেন। যে কারণে তাদের হাতে রাখা প্রয়োজন মনে করেছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। খালেদা জিয়া তার স্বামীর জন্য করেছেন। অন্যরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য করেছেন। এখনো তারাই অব:দের সুযোগ দিচ্ছে। এটা রাজনীতির জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে। আমাদের কেন আর্মির হেল্প নিতে হবে। যারা সারা জীবন রাজনীতি করছেন তাদের কেন মূল্যায়ন করা হবে না। এখন জেলে আছেন ড: মোশারফ। তিনি তো কালীনারায়ণ স্কলার ছিলেন। তার তো এমন হবার কথা ছিলো না। লোভ- লালসা যত দিন বন্ধ হবে না, ততদিন এই অবস্থা থেকে উত্তরণের কোন উপায় নেই। এখন আগের মত বলতে হবে- চুরি করা মহা পাপ। তাছাড়া দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। কারণ একজন লোকতো অর্থ উপার্জন করে টাকাটা ব্যাংকেই রাখেন। সুতরাং আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশের মত আইন করা উচিত- একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা দেয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানাতে হবে। এই সংশ্লিষ্ট সংস্থা অর্থের উৎস তদন্তের মাধ্যমে বের করতে পারবে এবং তাতে দুর্নীতি কমে যাবে। বিদেশে আর কয়জন টাকা রাখেন। তবে জোরপূর্বক দুর্নীতি বন্ধ করতে গিয়ে অর্থনীতিকে পঙ্গু করা যাবে না। যাই করা হোক না কেন আস্তে আস্তে ভেবে চিন্তে করতে হবে। আমার মনে হয় বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে দুর্নীতি বন্ধ করতে গেলে অর্থনীতি কলাপস করে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কিন্তু তিনি তার এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অর্থ শুধু পকেটে ঢুকে না- জনগণের কল্যাণেও ব্যয় হয়।
ঠিকানা : বাংলাদেশের অনেক প্রথিতযশা ও নামকরা সাংবাদিক রয়েছেন যারা বিভিন্ন সরকারের সময় বিভিন্ন ধরনের সুযোগ- সুবিধা গ্রহণ করেছেন- এই ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?
ফ. রশীদ: অনেকেই বিভিন্ন সরকারের সময় সুযোগ- সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এখনো নিচ্ছেন, কোন কোন অফিস থেকে মাসে মাসে পয়সা নিচ্ছেন। এখন অনেকে নামীদামী গাড়ি চালাচ্ছেন, বাড়ির মালিক হচ্ছেন, হাতের মধ্যে সেল ফোন রয়েছে। আমাদের সময়তো এই সব কল্পনারও অতীত ছিলো। আগের সাংবাদিকদের মধ্যে শহিদুল ভাই, কেজি ভাই, ফয়েজ ভাই, আলি আশরাফদের যেভাবে সম্মান দেয়া হতো এখন তা দেখা যায় না।
ঠিকানা : এখন দেখা যায় আওয়ামী লীগের সাংবাদিক, বিএনপির সাংবাদিক বা অন্য দলের সাংবাদিক- সাংবাদিকরা এভাবে বিভক্ত কেন?
ফ. রশীদ: আমাদের সময়েও সাংবাদিকরা দলীয়ভাবে বিভক্ত ছিলেন কিন্তু তা প্রকাশ পেত না। এখন প্রকাশ পাচ্ছে- বিভিন্ন কারণে। নেত্রীর পাশে বসার জন্য এবং তাদের নির্দেশ পালন করার জন্য। সর্বোপরি সুযোগ- সুবিধা পাবার জন্য। যেমন গিয়াস কামাল খালেদা জিয়াকে সার্পোট করেন, আর হাবিবুর রহমান মিলন ও ইকবাল হাসিনাকে সাপোর্ট করেন। এর ফলে সাংবাদিকরা বিভিক্ত হয়েছেন এটা দু:খজনক ও অপ্রত্যাশিত। এক প্রেস ক্লাব ছাড়া সবাই বিভক্ত নানাভাবে। একত্রে থাকলে সংবাদ পত্র, দেশ এবং জনগণের জন্য ভাল হতো। পাকিস্তান আমলে একমাত্র মুসা ভাই এবং মিন্টু ভাই এর একটি গাড়ি ছিলো, আর সবাই রিক্সা বা টেক্সি করে যাতায়ত করতেন। এখন সবার গাড়ি আছে, বাড়ি আছে, সবাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মাসে মাসে মাসোহারা পান বলে শুনা যায়।
ঠিকানা : বাংলাদেশে বিভিন্ন পত্রিকা সরকারি বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরশীল- তাতে করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ব্যাহত হতো- এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
ফ. রশীদ: আমাদের সময়ে এটা ছিলো, এখন তো পত্রিকাগুলো প্রাইভেট কোম্পানী থেকে অনেক বিজ্ঞাপন পায়। সরকারি বিজ্ঞাপন মাত্র ২০ পার্সেন্ট হবে। আমাদের সময় একবার পিআইএর বিরুদ্ধে লিখার কারণে তারা আমাদের বিজ্ঞাপন দেয়নি।
ঠিকানা : আপনি কোন সময় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন?
ফ. রশীদ: সনটা আমার ঠিক মনে নেই। তবে নতুন বিল্ডিং এর গোড়াপত্তন থেকে বিল্ডিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছিলাম। আমাদের অবৈতনিক সম্পাদক বলা হতো। পরবর্তীতে জেনারেল সেক্রেটারী ছিলাম। এরপর প্রেসিডেন্টও ছিলাম। আমার সাংবাদিকতার ৪৫ বছরের মধ্যে ৩০ বছর আমি প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটিতে বিভিন্ন পদে ছিলাম।
ঠিকানা: সাংবাদিকদের মধ্যে যে বিরোধ এই বিরোধ নিরসনে চেষ্টা করেছেন কি?
ফ. রশীদ: আমি চেষ্টা করেছি। আমি সিনিয়র হিসাবে গিয়াস কামাল, রিয়াজ, ইকবাল এবং মিলন আমার কাছে আসতো। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে বিভক্তি দূর করা যায়নি।
ঠিকানা: সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের প্রথম সারির অনেক পত্রিকা মালিক অবৈধ কাজের সাথে জড়িত- এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
ফ. রশীদ: এটা খুবই দু:খজনক ঘটনা। এখন যে ৪/৫ জন মালিক জেলে আছেন- এদের একজন স্মাগলার, একজন কর ফাঁকি দেন। একজন জমি দখলকারী অর্থাৎ এরা অবৈধ কাজের সাথে জড়িত।
ঠিকানা : কিন্তু তাদের কাগজেই তো বাংলাদেশের অনেক নামকরা সাংবাদিকরা কাজ করছেন?
ফ. রশীদ: করার কিছু নেই। জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করতে হচ্ছে। একমাত্র উপায় হচ্ছে নিয়ম করা যে প্রফেসাল লোক ছাড়া কেউ সম্পাদক হতে পারবেন না। এখন বাংলাদেশে সংবাদপত্র শিল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেক নতুন নতুন টেকনোলজি এসেছে, অনেকের চাকরির সংস্থান হয়েছে।
ঠিকানা : বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প- সাহিত্য সম্পর্কে একজন সাংবাদিক হিসাবে আপনার মূল্যায়ন কী?
ফ. রশীদ: মানুষের মন মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ এখন দুর্নীতির মাধ্যমে বড় লোক হবার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। তবে গত ১০/১৫ বছরে যে উন্নয়ন বাংলাদেশে হয়েছে তা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। জিডিপির গ্রোথ ৬ পার্সেন্ট- বিরাট ব্যাপার। তবে এটা ব্যক্তিগত খাতের জন্য হয়েছে, যদিও সরকারের সহযোগিতা ছিলো। আমেরিকার নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল বাংলাদেশের উন্নয়নের রিপোর্ট প্রকাশ করছে। গামের্ন্টস শিল্পেতো অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে চুরিও হয়েছে। না হলে আরো ভাল হতে পারতো। আগে কেউ কম্বল চুরি করতো, কেউ টিন চুরি করতো, কেউ গম চুরি করতো- কিন্তু এরশাদের আমল থেকে দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানিক রূপ পায়। সে নিজে দুর্নীতি করেছে, অন্যকে দুর্নীতিতে উদ্বুদ্ধ করতো। নাজিউর রহমান মঞ্জু, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দুর্নীতি করেছে। শেখ সাহেব ও জিয়ার সময় কম্বল, গম, টিন চুরি হয়েছে কিন্তু দেশের ক্ষতি হয়নি- জনগণের ক্ষতি হয়েছিলো কিন্তু এরশাদ জনগণ এবং দেশ দুটোরই ক্ষতি করেছে। দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। খালেদা জিয়া এবং হাসিনার সময়ও দুর্নীতি ছিলো। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্তও বলা হচ্ছে। যেমন তারেক রহমান সম্পর্কে বলা হচ্ছে তিনি তিন হাজার কোটি টাকা চুরি করেছেন। তিন হাজার কোটি টাকা পাঁচ বছরে সে চুরি করবে কোত্থেকে? বাংলাদেশের বাজেট কত? কত ইন্টার ন্যাশনাল পার্সেজ হয়? তিন হাজার কোটি টাকা চুরি করা সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা সব সময় বলতেন চোর মহাচোর। তারেক তিন হাজার কোটি টাকা চুরি করেছে। আমি একবার এক লেখায় লিখেছিলাম আপনি হিসাব দেন- তারেক কখন কিভাবে তিন হাজার কোটি টাকা চুরি করেছে? আপনি প্রমাণ করতে পারলে জাতি আপনাদের পাশে দাঁড়াবে। উনি না জেনে না শুনে রাজনীতির জন্য এই কথা বলেছেন? সেটাই এখন প্রমাণ হচ্ছে- তিন হাজার কোটি টাকা নয়- এখন তো তিন পয়সার দুর্নীতিও বের করতে পারছে না।
ঠিকানা : টিআইবি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?
ফ. রশীদ: টিআইবি তো রাজনৈতিকভাবে মোটিভেটেড। আমি ডোন্ট গিভ এ ড্যাম টু টিআইবি রিপোর্ট। এটা- ওটা বলে ওরা বাহাবা পায়। কিছু পত্রিকা এই রিপোর্ট নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। তিনি কথা প্রসঙ্গে বলেন- ইরাকে ফোর হান্ড্রেড বিলিয়ন ডলার চুরি হয়েছে। বাংলাদেশে তার ওয়ানফোর্থও হয়নি। আমেরিকা ও ইরাকের ঠিকাদার মিলে পয়সা খেয়েছে। সরকার তো এখন বিপদে পড়েছে। একটি দুর্নীতিও প্রমাণ করতে পারছে না- উল্টো বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্নীতি বিরোধী অভিযান দেশের ক্ষতি করতে পারে তার প্রমাণ বাংলাদেশ।
ঠিকানা: ১/১১ এর প্রেক্ষপটে যে সরকার এসেছে এবং তাদের যে উদ্দেশ্য ছিলো তারা কি তা বাস্তবায়ন করতে পারছে বলে আপনি মনে করেন?
ফ. রশীদ: প্রথম দিকে তারা ভাল করেছে। এখনতো তাদের অবস্থা লেজে গোবরে। অনেক কাজে তারা হাত দিয়েছে- যা তাদের দরকার ছিলো না। তবে এটা আর্মি করেছে না অন্যরা করেছে সেটা আমার জানা নেই। তারা যদি কেবল নির্বাচন এবং দুর্নীতি নিয়ে কাজ করতো তাহলে ভাল হতো। তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেয়া। সেটার প্রতি তাদের তেমন কোন নজরই নেই। ঠিকানা : এই সরকার কী বৈধ?
ফ. রশীদ: এই সরকার এখন বৈধ না। তাদের সাংবিধানিক বৈধতা নেই। নির্বাচনের পর যারা ক্ষমতায় আসবে সেই সরকার এদের বৈধ করতে বাধ্য হবে। তা না হলে নির্বাচন অবৈধ হয়ে যাবে। সোজা কথা নির্বাচিত বৈধ সরকার ক্ষমতায় এসে অবৈধ সরকারের বৈধতা দিবে। যদিও এটা যুক্তিসঙ্গত নয়। এর ফলাফল জনগণকে ভোগ করতে হবে এবং করছে। তাছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে আর্মি একটি শক্তিশালী রোল প্লে করছে।
ঠিকানা : এটা কি যুক্তিসঙ্গত?
ফ. রশীদ: অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত। আর্মি হয়ত বলতে পারে-আমাদের দিয়ে যদি ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করানো হয়, বন্যার সময় ত্রাণ কাজে ব্যবহার করানো হয়- তাহলে রাষ্ট্রের স্বার্থে কলুষিত রাজনীতি ঠিক করতে আমরা কেন আসতে পারবো না।
ঠিকানা : সরকার কি তাদের আহবান করেছিলো?
ফ. রশীদ: তা করেনি। তারা নিজেরা চলে এসেছে।
ঠিকানা : বিগত সরকাগুলোকে তারা এইভাবে সাহায্য করলো না কেন?
ফ. রশীদ: করেছে তো। এখন যারা বিএনপি বিরোধী- যেমন মির্জা আজিজকে বিএনপি সরকার সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করেছে, ড: ফখরুদ্দিন আহমেদকে বিদেশ থেকে এন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করে সম্মান করেছে, মঈন ইউ আহমেদকে জেনারেল বানিয়েছে। হয়ত তারেক রহমান বেশি বাড়বাড়ি করেছেন যা তারা সহ্য করতে পারেননি- তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ভাবে দেশ চলতে পারে না। সাংবিধানিক নির্বাচিত সরকার থাকতে হবে- চুরি- চামারি যাই হোক- গণতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন দেয়া উচিত এবং গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত। তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নাও হতে পারে।
ঠিকানা : আপনার কেন সন্দেহ হচ্ছে? সরকারতো ২০০৮ সালের মধ্যে নির্বাচন করার জন্য বদ্ধপরিকর।
ফ. রশীদ: কারণ নির্বাচন করার জন্য পার্টিগুলোকেতো সময় দিতে হবে। তারা মনোনয়ন আহবান করবে, সাক্ষাতকার নিবে, ক্যাম্পেইন করার সুযোগ দিতে হবে- এই গুলো করতেই তো তিন মাস চলে যাবে- তাহলে সময় কই?
ঠিকানা : নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
ফ. রশীদ: নির্বাচন কমিশনের তো করার কিছু নেই। তাদের কোন ক্ষমতা নেই। সব কিছুই বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত করছেন। তিনি যা বলছেন তাই হচ্ছে।
ঠিকানা: নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য যে বিধি বিধান তৈরী করছে তাতে আপনার মন্তব্য কী?
ফ. রশীদ: আমি মনে করি একজন বছরের পর বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এটা ঠিক নয়। আমেরিকা বিশ্বের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক দেশ- এখানেতো কেউ দুই টার্মের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। তবে জোর করে নয়। এই কথা সত্যি যে হাসিনা – খালেদা যেখানে মিটিং করবেন সেখানে লাখ লাখ লোক হবে- সাইফুর রহমান বা আমির হোসেন আমু মিটিং করলে তার চার ভাগের এক ভাগও লোক পাবেন না। উনারাও অন্যায় করেছেন, বাড়াবাড়ি করেছেন। যার ফলাফল এখন সবাই ভোগ করছেন।
ঠিকানা: খালেদা জিয়ার শাসনকালকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
ফ. রশীদ: প্রথম টার্ম তিনি ভাল করেছেন, দ্বিতীয় টার্ম তারেককে ছাড় দিতে গিয়ে খারাপ করেছেন। এটা আমি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে তারেককে সঞ্জয় গান্ধির সাথে তুলনা করে লিখেছিলাম- সঞ্জয় গান্ধি তার মায়ের পরাজয়ের জন্য দায়ী ছিলেন, তারেকও তার মায়ের পরাজয়ের কারণ হতে পারেন। এটা পড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সবাই খুশি হয়েছিলো।
ঠিকানা: খালেদা জিয়া ভাল কী করেছেন?
ফ. রশীদ: খালেদা জিয়া বহু ভাল কাজ করেছেন। যার মধ্যে নারী শিক্ষা, এটাতো বিশাল ব্যাপার, যার তুলনা হয় না। এটা একটি সামাজিক বিপ্লব।
ঠিকানা : খারাপ কী করেছেন?
ফ. রশীদ: ছেলের প্রতি অন্ধ ছিলেন এবং তাকে যা ইচ্ছা তাই করতে দিয়েছেন- এটা ঠিক করেননি। শাসন না করে পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন।
ঠিকানা : হাসিনা ভাল কী করেছেন?
ফ. রশীদ: শেখ হাসিনা বন্যার সময় ভাল কাজ করেছিলেন।
ঠিকানা: খারাপ কী করেছেন?
ফ. রশীদ: শেখ হাসিনাও শেখ রেহানা, শেখ সেলিম যা বলেছেন তাই করেছেন, ভাল মন্দ বিচার করেননি।
ঠিকানা: এরশাদ কী ভাল করেছেন?
ফ. রশীদ: এরশাদ বাংলাদেশে ফ্লাওয়ার কালচার শুরু করেছিলো। বাংলাদেশে ফুলের কোন কদর ছিলো না। এরশাদ আসার পর ফুল ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে গড়ে উঠেছে। ফুল এখন মানুষ গিফট হিসাবে দেয়। প্রচুর ফুলের দোকান হয়েছে, ফুলের চাষ হচ্ছে। রাস্তঘাটের উন্নতি করেছে। তবে অন্যায়ভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছে। যেভাবে এসেছিল সেইভাবে বিদায়ও নিয়েছে।
ঠিকানা: খারাপ কাজ?
ফ. রশীদ: তার সবইতো খারাপ। তার কোন ভাল দিক আছে বলে আমি মনে করি না।
ঠিকানা: এরশাদ ও কবি শামসুর রহমানের সাথে আপনার একটা ছবি রয়েছে- এ সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ফ. রশীদ: এরশাদ সাহেব সবে মাত্র ক্ষমতা দখল করেছেন। উনি প্রেস ক্লাবে আসলেন। আমি তখন প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারী। তার কাছে বলেছিলাম প্রেস ক্লাবের ভবনের কাজ শেষ করতে আমাদের কিছু টাকার প্রয়োজন। উনি বললেন, টাকা আমি দেব, তবে এটি আমাকে দিয়ে উদ্বোধন করাতে হবে। আমরা তখন কোন উত্তর দিই নি। আমরা ব্যাপারটি জেনারেল মিটিং এ উঠাই। জেনারেল মিটিং এ তা নাকচ হয়ে গেল। সবাই বললো তাকে দিয়ে আমরা এটা করাবো না। এর ফলে প্রতিহিংসার বসবতী হয়ে তিনি প্রেস ক্লাব ভবনে অগ্রনী ব্যাংকের একটা শাখা ছিলো, সেখান থেকে আমরা ভাড়া পেতাম এবং ব্যয় নির্বাহ করতাম, হিংসার কারণে সেই শাখাটি বন্ধ করে দিলেন। এর ফলে আমাদের আর্থিক সংকট দেখা দিলো। সেই সময় তাজুল ইসলাম ছিলেন প্রেস সেক্রেটারী, তাকে ব্যাপারটি বললাম। তাজুল আমাকে এরশাদের কাছে নিয়ে গেলেন। তার কাছে ব্যাপারটি বললাম। তিনি রাজী হলেন এবং অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিকে বললেন। তারপর আবার শাখা পুনরায় চালু করা হলো। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ সাহেব, জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ প্রেস ক্লাবে প্রায়ই হঠাৎ করে আসতেন- চা খেতেন। শেখ সাহেবতো প্রেস ক্লাবে এসে দাবা খেলতেন। একমাত্র খালেদা জিয়া আসতেন না।
ঠিকানা: বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের দুর্বলতা কোথায়?
ফ. রশীদ: বাংলাদেশের সংসদকে যদি রাজনীতিবিদরা শক্তিশালী করতেন এবং সংসদ বয়কট না করতেন- তাহলে চুরি চামারি বাড়তো না এবং অন্যদেরও ক্ষমতায় আসার সুযোগ তৈরী হতো না। সংসদকে কার্যকর করতে দেয়া হয়নি। বয়কট করে দেশের ক্ষতি হয়েছে। হাসিনা- খালেদার ক্ষতি হয়নি এতে, ক্ষতি হয়েছে দেশের। যার জন্য আজকের এই পরিণতি।
ঠিকানা: ১৯৭৫ সালের ঘটনার সাথে পরবর্তী ঘটনাগুলোর কোন যোগসূত্র আছে কি?
ফ. রশীদ: আমার মনে হয় না ’৭৫ এর ঘটনার সাথে অন্য সব ঘটনার কোন যোগসূত্র আছে। ’৭৫ এর ঘটনা ঘটে দুটো কারণে- এক. হঠাৎ করে জিনিস পত্রের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে আর দুর্ভিক্ষের সময় জামাল এবং কামালের মুকুটপড়া বিয়ে। এই দুটো জিনিস সাধারণ মানুষের মধ্যে দারুণভাবে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তার উপরে ডালিমের বউ এর সাথে শেখ কামাল বা হেলাল বেয়দপি করেছিলো- এটাও একটি কারণ। এরপর থেকে আর্মি আসতে থাকলো। জিয়া আসলেন, এরশাদ আসলেন, এখন জেনারেল মঈন পিছন থেকে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন।
ঠিকানা: বাংলাদেশে এখন যে গোঁজামিলের রাজনীতি করানোর একটা প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে- তা কি বাংলাদেশে সম্ভব বলে আপনি করেন?
ফ. রশীদ: আমার মনে হয় এটা বাংলাদেশে সম্ভব হবে না। চাপিয়ে দেয়া কোন কিছুই সফল হয় না- এই সরকারও সফল হবে বলে আমার মনে হয় না। ঠিকানা: আমাদের দেশের মানুষকে আপনি কিভাবে দেখেন?
ফ. রশীদ: আমাদের দেশের মানুষ খুবই সহজ সরল। এদের তেমন কোন চাহিদাও নেই। তাদের একমাত্র চাহিদা দু’বেলা পেট ভরে ভাত খাওয়া, নিশ্চিন্তে ঘুমানো, ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করানো। বাংলাদেশের মানুষ অল্পতেই খুশি। তবে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঠিকানা : এত দিনের কর্মজীবন ছেড়ে প্রবাসে রয়েছেন- আপনার কেমন লাগে?
ফ. রশীদ: আমার খুব খারাপ লাগে। সাংবাদিকদের কমিটমেন্ট নেই। এখন জবাবদিহিতা নেই। যার যার মত করে লিখে যায়। ছাপা হয়। সাংবাদিকদের ট্রেনিং নেই। আমাদের সময়তো সিনিয়ররা খুব সাহায্য করতেন, হাতে কলমে শিখাতেন। রিপোর্টিং এর কিছু বাদ পড়লে শাসাতেন। এখনতো ঐ সব নেই। এখন যারা সিনিয়র রয়েছেন তারাও খুব বেশি অভিজ্ঞ নন যে নতুনদের শিখাবে। এখন অনেকটা কেরানীর মত- অফিসে এলাম এ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে চলে গেলাম। আগে ভাল রিপোর্ট করলে সবাই প্রশংসতা করতো। এখন ভাল রিপোর্টতো তেমন হয় না। ঠিকানা: আপনি নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন, রিপোর্টিং করেছেন- কোনটার মধ্যে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন?
ফ. রশীদ: অবশ্যই রিপোটির্ং এ। একজন ভিখারীও নিউজ সোর্স হতে পারেন, একজন প্রেসিডেন্টও নিউজ সোর্স হতে পারেন। তবে এডিটিং করেও খারাপ লাগেনি। রিপোর্টিংই হচ্ছে আসল। ডেস্কের লোকজন সাংবাদিকদের দেখতে পারতেন না। তাদের মধ্যে রেষারেষি ছিলো। কারণ রিপোর্টারই সামনে থাকেন, বিদেশে যান, ডেস্কে যারা থাকেন তারা সামনে থাকেন না বা বিদেশে যাবার তেমন সুযোগও ছিলো না। এখনকার অবস্থা আমি ঠিক জানি না। আমার আন্ডারে যারা কাজ করেছেন তার মধ্যে এখন পাঁচ জন সম্পাদক। এর মধ্যে রয়েছেন- ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের মেয়াজ্জেম, অবজারভারের ইকবাল, ডেইলি নিউজের রিয়াজ, নিউ এজ এর নূরুল কবীর। এ ছাড়াও মঈনুদ্দিন নাসের, কাজী মন্টু, ওয়াহেদ ভাইও আমার আন্ডারে কাজ করেছে। অবজারভারতো ইংরেজি সাংবাদিকতার জন্য নার্সিং হাউজের মত ছিলো। আমি, মুসা ভাই, কেজি মোস্তফা, এনায়েত উল্যাহ খান, মাহফুজ আনাম, রিয়াজ, ইকবাল সোবহান- এরা সবাই অবজারভারের প্রোডাক্ট।
ঠিকানা: আপনি বাংলায় সাংবাদিকতা করলেন না কেন?
ফ. রশীদ: বাংলা আমি শেষ পড়েছি মেট্রিকে, ইন্টারমিডিয়েট ও অনার্স আমাদের সময় পড়ানো হতো ইংরেজিতে। বাংলার সাথে কোন সম্পর্কই ছিলো না।
ঠিকানা: বাড়িতে কোন ভাষায় কথা বলতেন?
ফ. রশীদ: ভাই বোনদের সাথে বাংলায় কথা বলতাম আর মায়ের সঙ্গে উর্দুতে। যেহেতু আমার নানা বিহার এবং উড়িষ্যায় চাকরি করতেন সেহেতু তিনি উর্দুতে কথা বলতেন। আমাদের দেশের বাড়ি যশোর, এখন ফরিদপুরে। আর আমার মায়ের বাড়ি ছিলো মুর্শিদাবাদ। ঠিকানা: এখন কি দেশে গিয়ে সাংবাদিকতা করতে ইচ্ছে করে?
ফ. রশীদ: এখানে বসেও আমি লিখছি। প্রতি সপ্তাহে হলিডেতে লিখছি। নিউ এজ এ লিখছি। আর মাঝে মধ্যে ঠিকানায় লিখছি।
ঠিকানা: প্রবাসের পত্র পত্রিকা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
ফ. রশীদ: এখানকার অধিকাংশ পত্রিকায় দেখা যায় লেখা ঢাকা থেকে নেয়া হয়। মোটামুটি ভালই, খারাপ নয়। প্রতি সপ্তাহে এত বড় পত্রিকা বের করা সহজ ব্যাপার নয়।
ঠিকানা: দেশের এত খ্যাতি ও প্রাচুুর্য ছেড়ে প্রবাস জীবন বেছে নিলেন কেন?
ফ. রশীদ: আমার শ্বশুরকুলে সবাই এখানে। আমার ছোট শালা প্রথম আমেরিকায় আসে। সেই সবাইকে স্পন্সর করে। আমাদেরও করেছিলো। আমি সাংবাদিকতা ছেড়ে এবং আমার স্ত্রী সরকারি চাকরি ছেড়ে আসতে চাননি। সবাই চলে এসেছে তাই আমরাও চলে আসি।
ঠিকানা: প্রবাসে কী করছেন?
ফ. রশিদ: টিভি দেখি, বিভিন্ন পত্রিকা পড়ি, হলিডেতে লেখা পাঠাই। মেয়ের বাড়ি থাকছি এবং খাচ্ছি। আমার মেয়ে ফাবিয়া রশিদ পাপিয়া নর্থফোরক ব্যাংকে চাকরি করে। আমার ছেলে আরিফ রশিদ অস্ট্রেলিয়া থাকে। সে অস্ট্রেলিয়ার সিটিজেন। সেখানকার একটি নামকরা ব্যাংকে চাকরি করে। ছেলের বউ জাহিয়া রশিদও চাকরি করে। আমার একটি সুইট নাতি রয়েছে। তার নাম তাহমিদ রশিদ।
ঠিকানা: আপনার স্ত্রী কী করতেন?
ফ. রশীদ: আমার স্ত্রী মমতাজ খান ২৫ বছর যাবত হোম ইকোমিক্স কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। উনাকে নিয়ে একটা মজার ব্যাপার আছে। উনার বহু জুনিয়র কলেজের প্রিন্সিপাল হয়েছেন কিন্তু উনাকে প্রমোশন দেয়া হয়নি যদিও তিনি লিস্টে সবার উপরে ছিলেন। জমির উদ্দিন সরকার যখন শিক্ষামন্ত্রী তখন বলা হলো উনি আওয়ামী লীগ পন্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে একমাত্র হোম ইকোনোমিক্স কলেজের শিক্ষকরা ভোট দিতে পারতেন। তখন ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন আজাদ সাহেব। তারা আমাদের বাসায় এসেছিলেন ভোটের জন্য। সেটাই ছিলো তার অপরাধ। আর আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসলো তখন বলা হলো আমি বিএনপি পন্থী। অথচ আমরা কোন পন্থী ছিলাম না। ভোটের জন্য সবাই আসতেন। এমাজ উদ্দিন সাহেবও এসেছেন। বিএনপির সময় আমার ভাই ( কাজিন) সাদেক সাহেব এডুকেশন মিনিস্টার ছিলেন। তারাপরেও আমার স্ত্রীর ন্যায্য পদোন্নতি দেয়া হয়নি।
ঠিকানা : আপনার শখ কী?
ফ. রশীদ: আমার শখ রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনা, ক্রিকেট দেখা এবং বই পড়া।
ঠিকানা: কার বই পড়েন?
ফ. রশীদ: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু, সুদীপ্ত ভট্টাচার্যের লেখা পড়ি। ইংরেজিতে অনেকে আছেন।
ঠিকানা: সিনেমা দেখেন কি?
ফ. রশিদ: উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেনের অভিনীত বাংলা সিনেমা দেখতাম। সুচিত্রা সেনের উপর লিখবো ভাবছি। বাংলাদেশে রাজ্জাক কবরীর ছবি দেখতাম। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বুলবুল আহমেদ। তার ছবিও দেখতাম। ঠিকানা: বাংলা নাটক দেখেন?
ফ. রশীদ: আমার বন্ধু আলতাফ, জলিল এবং আশিষ লোহর নাটক দেখতাম।
ঠিকানা: আপনার পছন্দের খাবার?
ফ. রশিদ: ভোজন রশিদ হিসাবে আমার নাম ছিলো। প্রেস ক্লাবে তখন গরুর মাংস চালু ছিলো না, ভুনা গরুর মাস মাংস আমার খুব প্রিয় ছিলো। প্রেস ক্লাবে এটা কিভাবে চালু করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করছি। আমি তখন হাউস কমিটির চেয়ারম্যান। সবার সাথে আলাপ করলাম। সবাই বললো নির্মল দা’র কথা। তিনি বললে চালু করা যাবে। আমি গিয়ে উনাকে বললাম, তিনি রাজি হলেন। এর পর থেকে গরুর মাংস চালু হয়ে গেল। ঐ সময় প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে ( সাংবাদিক নন) অনেকে ছিলেন হিন্দু সদস্য। তার মধ্যে ছিলেন সমর দাস, ব্রজেন দাস, নিতুন কুন্ড, দেব দাস চক্রবর্তী। প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে একজনের কথা আমার এখনো খুব মনে পড়ে, তিনি হলেন শহীদ সাবের। যুদ্ধের সময় সংবাদ অফিসে আগুন দিয়ে তিনি পড়ে মারা যান। তিনি কারো কাছে পয়সা চাইতেন না। আমার কাছে এসে পয়সা চাইতেন- তাও চার আনা। তখন চার আনায় এক পেকেট কিংস্টর্ক সিগারেট পাওয়া যেত। তার খাবারের চেয়ে জরুরী ছিলো সিগারেট। আমি কনভেন্সসহ ৪৪৮ টাকা বেতন পেতাম। অনেক টাকা। সাপ্তাহে একদিন চাইনিজ এবং স্কুটারে করে ঘুরার পরও ৪৮ থেকে ৫০ টাকা থেকে যেত। আমার প্রিয় খাবার ভুনা গরুর মাংস ও খিচুড়ি, আলু ভর্তা এবং শুটকি।
ঠিকানা: আপনার বিয়ে সম্পর্কে কিছু বলুন।
ফ. রশীদ: রহিম সাহেবের কারণেই আমার বিয়ে করা। তিনি আমাকে সারাক্ষণ বলতেন বিয়ে কর, বিয়ে কর। রহিম সাহেব তখন অবজারভারের সিটি এডিটর ছিলেন। তার বড় গুণ ছিলো তিনি যদি কখনো একটি নিউজের গন্ধ পেতেন, সেখান থেকে নিউজ আদায় না করা পর্যন্ত পিছ ছাড়তেন না। বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধির মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিলো, তিনি সেই চুক্তি একদিন আগে নিয়ে এসেছিলেন, চুক্তি স্বাক্ষর হবার আগেই। কিন্তু কে জি ভাই সাহস করে ছাপলেন না। আমাদের রিপোর্টারের মধ্যে ফয়েজ আহমেদ এবং আলী আশরাফ- এ দু’জন একজন আরেক জনকে দেখলেই বলতেন- পকেটে আছে, কাল দেখবি। কিন্তু পরের দিন রিপোর্ট ছাপা হলেই দেখা যেত দু’জনের পকেটে একই রিপোর্ট ছিলো। ফয়েজ ভাই এর আলোচিত রিপোর্ট ছিলো আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার রিপোর্ট। তিনি বলেন, আমি একদিন মামলার শুনানীতে গিয়েছিলাম- গিয়ে দেখলাম ব্যারিকেড দেয়া। রিপোর্টারদের জন্য আলাদা কক্ষ। শেখ সাহেবকে আনা হলো। তিনি ফয়েজ ভাইকে বার বার ডাকছিলেন কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তর দিচ্ছে না। বসেছিলেন। তখন শেখ সাহেব ফয়েজ ভাই এর উদ্দেশে উচ্চকক্তে বলেন, ফয়েজ, ”বাংলাদেশে থাকতে হলে শেখ মুজিবের সাথে কথা বলতেই হবে।”
ঠিকানা: উত্তর কেন দিচ্ছিলেন না?
ফ. রশীদ : ট্রায়াল কোর্ট ছিলো আর্মি বেষ্টিত। মনে হয় ভয়েই ফয়েজ ভাই উত্তর দিচ্ছিলেন না।
ঠিকানা: আপনার সংবাদিকতা জীবনে সবচেয়ে ব্যর্থতা কোনটি?
ফ. রশীদ: এখনো খুব দু:খ লাগে- আমি পাকিস্তান আর্মির সারেন্ডারটা দেখতে পারিনি। ১৬ ডিসেম্বর প্রচন্ড গোলাগুলি হয়েছে- মুক্তি বাহিনী আনন্দে গোলাগুলি করেছে আর পাকিস্তান আর্মি ভয়ে গোলাগুলি করছিলো। আমরা ধানমন্ডিতে থাকতাম। এত দূর পথ হেঁটে আসার সাহস ছিলো না, যদি গোলাগুলিতে মারা যাই। আর আনন্দের বিষয়টি ছিলো সংবিধান পাশের রিপোর্টটি একমাত্র আমিই প্রথম করেছিলাম।
ঠিকানা: আপনাদের সময় আলোচিত রিপোর্টার কারা কারা ছিলেন?
ফ. রশীদ: ফয়েজ ভাই ছিলেন, আলী আশরাফ ভাই ছিলেন, হেদায়েত মোর্শেদ ভাল ফিচার লিখতেন, তাহের উদ্দিন ঠাকুর ছিলেন। পত্রিকা ছিলো চারটি- ইত্তেফাক, আজাদ, সংবাদ ও পূর্ব দেশ। ইংরেজি পত্রিকা ছিলো অবজারভার ও মনির্ং নিউজ। কথা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, পূর্ব দেশে তৃতীয় মতে আব্দুল গাফফার চৌধুরী শেখ সাহেবকে ধোলাই করে প্রতিদিন লিখতেন। এখনতো শেখ সাহেব শেখ সাহেব বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন।
ঠিকানা: কোন কোন রাষ্ট্র নায়কের ইভেন্ট কাভার করেছেন?
ফ. রশীদ: নামকরা যাদের নিউজ কাভার করেছি তাদের মধ্যে রয়েছেন- হেনরি কিসিঞ্জার, নাসের, কুর্ট ওয়াল্ডহাইম, রবার্ট ম্যাকনামারা, ইয়াসির আরাফাত, কিং বীরেন্দ্র, জার্মানীর চ্যান্সেলর কোহল, শেখ সাহেব, জিয়া, ইন্দিরা গান্ধি, এরশাদ, খালেদা, হাসিনাসহ অনেকে।
ঠিকানা: এরশাদ কি কবিতা লিখতেন?
ফ. রশীদ: ঘোস্ট কবিতো আমেরিকাসহ সব জায়গাতেই আছে। তিনিও হয়ত ঘোস্ট কবি ছিলেন।
ঠিকানা: সেনা প্রধানের ভারত সফর সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
ফ. রশীদ: গ্লোবাল ডিপে¬ামেসিতো এখন নানাধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এটিও তার একটি অংশ। তবে সেনা প্রধানের ভারত সফর আমরা চোখে যা দেখছি- এর বাইরে অনেক কিছু আছে। কারণ বাংলাদেশের মত একটি ছোট দেশের আর্মি চীফকে এত প্রাধান্য দেয়া- প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করা ভারতের জন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তিনি কী উদ্দেশ্যে ভারত সফর করেছেন তা তো কেউ জানেন না।
ঠিকানা: সেনা প্রধান দেশ নিয়ে, গণতন্ত্র নিয়ে এবং রাজনীতিবিদদের নিয়ে যে সব কথা বলছেন তা কি যুক্তিসঙ্গত?
ফ. রশীদ: আর্মি চীফ হিসাবে তার এই সব কথা বলার কথা না। তবে তিনি তো খারাপ কিছু বলছেন না। বাংলাদেশে এটা নতুন সিস্টেম চালু হয়েছে। এখনো বাংলাদেশে দুর্নীতি চলছে। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা যাবে না।
ঠিকানা: তাহলে ১/১১ সৃষ্টি করে এত কিছু করা কেন?
ফ. রশীদ: এই সব করার কোন প্রয়োজন ছিলো না। বড় কয়েকজন ধরে জেলে ধরে রাখলেইতো দুর্নীতি দমন হয় না। ১/১১ সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে স্থবির করা হয়েছে।
ঠিকানা: আপনাকে ধন্যবাদ।
ফ. রশিদ: আপনাদেরও ধন্যবাদ।