নির্বাহী আদেশে অ্যাসাইলাম পদ্ধতিতে আসছে বড় সংস্কার

ঠিকানা রিপোর্ট: চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষর করতে যাওয়া এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদ্যমান অ্যাসাইলাম পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনয়ন করতে যাচ্ছেন। উক্ত আদেশের আওতায় অ্যাসাইলাম-সীকারস (রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের) প্রথমে পোর্ট অব এন্ট্রিতে হাজির হতে হবে। তারপর,
আদালতের শুনানীর জন্য অপেক্ষমান রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ না দিয়ে টেন্ট সিটিজ (তাঁবু নগরীগুলোতে) দীর্ঘকাল আটকে রাখা হবে। আদালত তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা মঞ্জুর করলে তবেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে। অন্যথা টেন্ট সিটিজ থেকে তাদের স্বদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
বিদ্যমান অভিবাসন আইন অনুসারে অ্যাসাইলাম স্ট্যাটাসের জন্য আবেদনকারীরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে কিংবা তাদের বর্তমান স্ট্যাটাস কী- তা বিবেচনা না করেই অ্যাসাইলাম প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে থাকে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের অ্যাসাইলাম ক্লজে বলা হয়েছে: যারা যুক্তরাষ্ট্রে আগমন করেছে তারাই অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন জানাতে পারে।
হোয়াইট হাউজে বিদ্যমান আইনের প্রতি কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, বিদ্যমান অ্যাসাইলাম সিস্টেমের অপব্যবহার আমাদের ইমিগ্রেশনকে বিদ্রূপ করছে এবং আইনসম্মতভাবে অ্যাসাইলাম পাওয়ার উপযোগীদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকেই মূলত আইনসম্মতভাবে অ্যাসাইলাম পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন। যাহোক, নির্বাহী আদেশ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং কিছুটা বলেছেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ বিশদ কোন ব্যাখ্যা প্রদান করেন নি।
সীমান্তে ১৫ হাজার সেনাসদস্য
এদিকে সেন্ট্রাল আমেরিকা থেকে পদব্রজে যাত্রাকারী কয়েক হাজার পুরুষ-নারী ও শিশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে ৫,২০০ ট্রুপ পাঠানোর কথা বললেও শেষ পর্যন্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১৫ হাজার ট্রুপ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে আমেরিকায় আশ্রয় প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই তার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আমেরিকার উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী পুরুষ-নারী ও শিশুর প্রথম দলটি অদ্যাবধি আমেরিকা টেরিটরী থেকে প্রায় ৯০০ হাজার মাইল দূরে রয়েছে। আর প্রায় ১ হাজার লোকের দ্বিতীয় দলটি প্রথম দল থেকে প্রায় ২ শ মাইল পেছনে রয়েছে। আর গুয়েতেমালা থেকে ৫০০ নারী-পুরুষÑশিশুর দলটি গুয়েতেমালার দিকে এগুচ্ছে। আর সালভাডরের রাজধানী থেকে যাত্রাকারী ৭০০ নারী-পুরুষÑশিশুর চতুর্থ দলটিও পদব্রজে আমেরিকা অভিমুখে যাত্রা করেছে।
ট্রাম্প বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বর্তমানে সেনাবাহিনীর ৫ হাজার ৮০০ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সর্বশেষ হুঁশিয়ারি হিসেবে উচ্চারণ করেন যে বর্ডার প্যাট্রোল, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্স ছাড়াও যে কোন ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেনাবাহিনীর ১০ থেকে ১৫ হাজার সদস্য সীমান্ত বরাবর প্রস্তুত থাকবে।
সীমান্তে সেনা মোতায়েন ট্রাম্পের ‘স্টান্টবাজি’ : ওবামা
শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে কয়েক হাজার সেনা পাঠানোর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মিয়ামিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক প্রচারাভিযানে গত ২ নভেম্বর শুক্রবার ওবামা ট্রাম্পের ওই পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, সীমান্তে সেনা মোতায়েন আসলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্টান্টবাজি। ডেমক্র্যাট প্রার্থী অ্যান্ড্রু গিলুমের পক্ষে প্রচারাভিযানে মিয়ামিতে অবস্থানকালে একথা বলেন ওবামা।
ওবামা বলেন, ‘রিপাবলিকান প্রশাসন রাজনৈতিক কারণে আমাদের সাহসী সেনাদের তাদের পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।’
এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, সীমান্তে জাতীয় প্রতিরক্ষা জোরালো করতে হাজার হাজার সেনা সেখানে পাঠানো হবে। শরণার্থী বিষয়ে ট্রাম্প ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। গত ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সমর্থকদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই শরণার্থীরা তোমাদের শিক্ষালয়, হাসপাতাল, তোমাদের সম্প্রদায়ের ওপর উপচে পড়বে।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমক্র্যাট প্রার্থী অ্যান্ড্রু গিলুমের সমর্থনে বারাক ওবামা বলেন, ‘আসুন আমরা এই ফ্লোরিডায় ইতিহাস রচনা করি।’ ট্রাম্পের ২১ মাসের শাসনামলে আমেরিকানদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে ওবামা সমর্থকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এখন যা চলছে তা যদি আপনার পছন্দ না হয় তাহলে অভিযোগ করবেন না। উদ্বিগ্ন হবেন না, খামখেয়ালি হবেন না, হতাশায় আপনার হাত ছোড়াছুড়ি করবেন না, ছি-ছি করবেন না। হ্যাশট্যাগ দেবেন না, শুধু ভোট দেবেন।’