নীলা জেরীনের একক নৃত্যানুষ্ঠানে মুগ্ধ দর্শক

ঠিকানা রিপোর্ট : নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা শাস্ত্রীয় নত্যৃশিল্পী নীলা জেরিনের একক নৃত্যানুষ্ঠান। ৬ নভেম্বর রোববার করোনার কুইন্স থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হলো দুই ঘণ্টাব্যাপি এই আয়োজনে নৃত্য পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি।
ভারতীয় আদি নৃত্যশাস্ত্র কুচিপুড়ী ধারায় মঞ্চে একক ধ্রুপদি নৃত্য পরিবেশন করেন নীলা। উল্লেখ্য, কুচিপুড়ি এক ধরনের নৃত্যনাট্য। প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃত ভাষার নাট্য শাস্ত্র পুঁথিতে এর উল্লেখ রয়েছে। চারণ কবি, উপাসনালয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সাথে জড়িত এই নৃত্য ভারতের অন্যান্য প্রধান শাস্ত্রীয় নৃত্যের মত ধর্মীয় শিল্প হিসেবে বিকাশ লাভ করে। দশম শতাব্দীর কপারে খোদাই করার চিত্র থেকে এবং পঞ্চদশ শতাব্দীর পুথি ‘মাচুপাল্লি কাইফাত’ থেকে কুচিপুড়ির অস্তিত্বের প্রমাণাদি পাওয়া যায়। কুচিপুড়ি রীতির বিশ্বাস অদ্বৈত বেদান্ত’র সন্ন্যাসী তীর্থ নারায়ণ যতি ও তার শিষ্য সিদ্ধেন্দ্র যোগি ১৭শ শতাব্দীতে কুচিপুড়ির আধুনিক রূপের প্রবর্তন ও কৌশল প্রণয়ন করেন। কুচিপুড়ি মূলত: হিন্দু দেবতা কৃষ্ণের বৈষ্ণব রীতি হিসেবে বিকাশ লাভ করে। এটি তামিল নাড়ুতে প্রাপ্ত ভগবত মেলার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
পুরো অনুষ্ঠানটির নেপথ্য নির্দেশনায় ছিলেন তারই শাস্ত্রীয় গুরু সাধনা পরানজি। যাঁর কাছে নাচের তালিম নিয়েছেন নীলা প্রায় দুই দশক কাল। অর্কেস্ট্রা দলে আরও ছিলেন ভোকাল-সামিউক্তা রাঙানাথান, ঢোল-কাবিলান জেগানাথান, বেহালায়-শ্বেতা নারাসিমহান এবং বাঁশিতে-ভিসভেশ্বার নাগারাজান।
কুচিপুরী নৃত্যটির উদ্ভব মূলত: ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে। ‘অষ্ট নায়িকা’- সিরিজটি ধ্রুপদী নৃত্যের অষ্টনায়িকার একটি অন্বেষণ। আট ধরনের নায়িকা যা একজন মহিলার অনেক চিন্তাভাবনা এবং মানসিক অবস্থাকে চিত্রিত করে। রোমান্টিক নায়িকার প্রত্নতাত্ত্বিক রাজ্য হিসাবে, এটি ভারতীয় চিত্রকলা, সাহিত্য, ভাস্কর্যের পাশাপাশি ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সঙ্গীতে থিম হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
নৃত্যশাস্ত্র মতে এই আট নায়িকার নাম হচ্ছে- স্বাধীনাভার্তুকা, বিরহখন্ডিতা, ভাসাকসজ্জিকা, খন্ডিতা, বিপ্রলব্ধা, অভিসারিকা, প্রশিতাভর্তুকা, এবং কলহন্তরিতা।
নীলা জেরিন অত্যন্ত চমৎকারভাবে এই আটটি চরিত্রই ফুটিয়ে তুলেছেন তার নাচে নাচে। অনুষ্ঠানের শেষে নীলা, এই নৃত্যের চুম্বক-পরিচিতি তুলে ধরেন তার দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে। তিনি বলেন, এই নৃত্য অনেক পুরোনো বলেই বিবেচিত হয়। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, আগামী হাজার বছরেও এই নৃত্যের আবেদন ফুরাবে না। যতদিন মানবপ্রেম থাকবে, যতদিন বিরহের বাঁশরি থাকবে- ততদিনই থেকে যাবে এই নৃত্যের ঝংকার। এই আয়োজনটির স্পনসর করেছিল কুইন্স কাউন্সিল অন দ্য আর্টস। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আমেরিকান উপস্থিত হয়েছিলেন আদি ধারার এই নৃত্যানুষ্ঠানটি উপভোগ করার জন্য।
উল্লেখ্য, নৃত্যশিল্পী নীলা জেরিন উত্তর আমেরিকায় বিভিন্ন বড় বড় অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে ইতোমধ্যে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন।