নীল পরীর গল্প

উপস্থাপনায় কত বৈচিত্র্য আনা যায়, তার প্রমাণ দিয়েছেন অনেক আগেই। চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়েও জয় করেছেন লাখো দর্শকের হৃদয়। নুসরাত ফারিয়াকে তাই আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না। পরীক্ষিত এ অভিনেত্রী অভিনয়ে নিজেকে ভাঙার প্রয়াস দেখিয়েছেন আরও একবার। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে তার সেই ছবি ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’। সেখানে দেখা মিলবে নতুন এক চরিত্রে, ভিন্নরূপে। তাকে নিয়ে লিখেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ
‘আপনারা বলছেন, অনেক দিন আমাকে বড় পর্দায় দেখেননি। ঠিকই বলেছেন। ‘বস-টু’ ছবির পর তো আর কোনো ছবি মুক্তি পায়নি, যেখানে আমার দেখা মিলবে। এখন আমি আপনাদের প্রশ্ন করি- আচ্ছা বলুন তো, এতদিন যে আমার কোনো ছবি মুক্তি পায়নি; তাতে কি আমাকে ভুলে গেছেন? উত্তরটা জানতে চাচ্ছি না। কারণ আমার অনুমান, ভুলে যাননি। নইলে কি আর খোঁজ-খবর নিতেন- কবে আমার ছবি মুক্তি পাবে। এটাও জানতে চাইতেন না- আগামীকাল আমার অভিনীত যে ছবি মুক্তি পাবে, সেই ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’র চরিত্রটা কেমন। কী, আমার অনুমান ঠিক? নুসরাত ফারিয়ে যখন এ প্রশ্ন সামনে রেখে কথা থামালেন, তখন আমরাও একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বীকার করতে বাধ্য হলাম, তার অনুমান ভুল নয়। আসলেই তো। দর্শকের প্রত্যাশার কথা জেনেই তো আমরা তাকে প্রশ্ন করছি- এতদিন কেন তাকে নতুন ছবিতে দেখা যায়নি। এটাও জানতে চাচ্ছি নতুন ছবির গল্প, চরিত্র কেমন; এর সাফল্য নিয়ে তিনি কতটা আশাবাদী ইত্যাদি। এর পর যে প্রশ্ন করতে যাব, তার আগেই ফারিয়া বললেন, ‘আমার ছবির সংখ্যা কম। এর কারণ একটাই, আমি যে কাজ করি; আগে তার গল্প ও চরিত্র নিয়ে ভাবি। যেখানে নিজেকে ভেঙে নতুন করে উপস্থাপনের সুযোগ নেই, তেমন কাজ করতে চাই না। বছরে ১৬টা ছবিতে অভিনয় করার চেয়ে দুটি ভালো ছবিতে কাজ করার আনন্দ অনেক বেশি। দর্শকের যদি ভালো না লাগে, তাহলে ছবির সংখ্যা বাড়ানোর কোনো মানে হয় না। দিনশেষে দর্শক ভালো কাজের কথাই মনে রাখেন। আমিও চাই এমন কিছু ছবিতে অভিনয় করতে, যা দর্শক অনেক দিন মনে রাখবেন।’ ফারিয়ার কথা অযৌক্তিক নয়- তা মানবেন অনেকেই। সেই সঙ্গে তার অভিনীত ছবিগুলো দেখে স্বীকার করবেন, তার কথা ও কাজে অমিল নেই। ‘আশিকী’, ‘হিরো ৪২০’, ‘বাদশা’, ‘বস-টু’, ‘প্রেমী ও প্রেমী’, ‘ধ্যাৎতারিকা’ ছবিগুলোই তার প্রমাণ।
এবার আগের প্রসঙ্গে ফিরে যাই, যেটা জানতে চাচ্ছিলাম। আগামীকাল সারাদেশে মুক্তি পাচ্ছে জিৎ-ফারিয়া জুটির তৃতীয় ছবি ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’। ছবিটি কলকাতায় আগেই মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু যৌথ প্রযোজনার জটিলতায় এদেশে মুক্তি পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ফারিয়ার কাছে তাই জানতে চেয়েছিলাম, যখন কলকাতায় ছবিটি মুক্তি পায়, তখন কি এদেশের দর্শকের কথা ভেবে মন খারাপ হয়নি? উত্তরে তিনি বলেন, “এদেশে ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ মুক্তি পাবে না- এমন কোনো ভাবনা মাথায় আসেনি। যদি এমন হতো, বাংলাদেশে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে না, তাহলে হয়তো মন খারাপ হতো। কিন্তু যখন জেনেছি দেরিতে হলেও এদেশে ছবিটি মুক্তি পাবে, তখন আর কোনো দুশ্চিন্তা মনে ভর করেনি। এখন শুধু প্রতীক্ষা- ছবিটি দেখে দর্শক কী বলেন, তা জানার। কারণ স্বল্প সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে দর্শকের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা কখনও ভুলে যাওয়ার নয়। আমরা সবাই ভালোবাসার কাঙাল। তাই তো দর্শকের ভালো লাগার কথা ভেবে দিনরাত একাকার করে কাজ করে যাই। প্রতিটা কাজের পেছনে কত শ্রম-ঘাম ঝরানোর গল্প থাকে, তা হয়তো অনেকে জানেন না। ভালোবাসার প্রতিদান দিতেই তো আমাদের এত শ্রম, সাধনা। তাই অনেক কষ্টের পর যখন নিজেদের কাজটা সবার সামনে তুলে ধরতে পারি, তখন অন্যরকম এক আত্মতৃপ্তিতে মনটা ভরে যায়। আবার সেই কাজের সুবাদে যখন মানুষের ভালোবাসা পাই তখন সব প্রচেষ্টা সার্থক হয়ে ওঠে।”
এত কিছু ভেবে যখন কাজ করেন, তখন নিশ্চয় ধরে নেওয়া যায়, এবারের ছবিটিও ভিন্ন ধরনের? এর জবাবে ফারিয়া বলেন, সঠিক উত্তর দর্শকের কাছে পাওয়া যাবে। আমি শুধু এটা বলতে পারি, যখন এ ছবির প্রস্তাব পাই, তখন গল্পটা পড়তে চেয়েছিলাম। গল্প ভালো না লাগলে কাজ করব না- এটাই ছিল সিদ্ধান্ত। কিন্তু গল্প পড়ার পর মনে হয়েছিল, এটা এমন এক গল্প, যার জন্য অনেক দিন প্রতীক্ষায় ছিলাম। সে সময় শুটিং থেকে কয়েক দিনের ছুটি নিয়েছিলাম। গল্প পড়ার পর সেই ছুটি বাতিল করে দিই। অভিনয়ের জন্য শুধু সম্মতি নয়, প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। কারণ এ ছবির সামিয়া চরিত্রটি আমার আগের ছবিগুলো থেকে একেবারে আলাদা। সে ইতালিয়ান বাঙালি পুলিশ অফিসার, যার সঙ্গে হবু বাঙালি পুলিশের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ঘটে নানা রকম ঘটনা। রোমান্টিক কমেডি ছবির গল্প যেমন হওয়া চাই, এর গল্প ঠিক তেমনই। নির্মাতা আশোক পাতিও গল্প উপস্থাপনায় দারুণ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। এখন দর্শকের মন জয় করতে পারলেই বুঝব, আমরা তাদের কাঙ্ক্ষিত একটি ছবি উপহার দিতে পেরেছি।’
অনেক কথা শেষে এবার জানতে চাই, অভিনয় জগতে পা রেখে উপস্থাপক ফারিয়া কি হারিয়ে গেল? এর উত্তরে ফারিয়া বলেন, তা হবে কেন? আমি তো আগেও বলেছি, উপস্থাপনার প্রতি ভালোবাসা একবিন্দু কমেনি। তাই তো এত ব্যস্ততার মাঝেও ‘মা ভার্সেস বউ’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি। যদিও অনেকে প্রশ্ন করেছেন, আগের যেসব অনুষ্ঠান করেছি, তার সঙ্গে এটা কোনোভাবেই মেলানো যায় না। এমন একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার কারণ কী? তাদের বলেছি, ভিন্ন ধরনের কাজের জন্যই এ অনুষ্ঠান বেছে নেওয়া। মা আর বউয়ের সম্পর্ক শুধু দ্বন্দ্বের নয়, মধুরও হয়। যে সম্পর্ক গাঢ় হয় রান্নাঘর থেকে। এটাই দেখানো হয়েছে এ অনুষ্ঠানে।
ফারিয়ার কথায় জানা গেল, যে কাজের প্রতি ভালোবাসা, তা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না। তাই তো সুযোগ পেয়ে আবার উপস্থাপনা শুরু করেছেন। এখন জানতে চাই, বড় পর্দায় নতুন কোনো কাজ শুরু করেছেন কি-না? উত্তরে ফারিয়া বলেন, ‘আরেকটু সময় নিয়ে পরবর্তী কাজ শুরু করতে চাই। কারণ চলচ্চিত্রে সময় দিতে গিয়ে অনেক দিন প্রিয় মানুষদের থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। একান্নবর্তী পরিবারে বড় হয়েছি। তাই কাছের মানুষের দলটাও বড়। তারা প্রহর গোনে, কবে তাদের নীল পরী ফারিয়া ডানা মেলে উড়ে আসবে নিজ ঠিকানায়। সেসব প্রিয় মানুষের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাব এবার। তাদের সবার সঙ্গে মেতে উঠব আনন্দ-জোয়ারে।’