নেমেই বিশ্বরেকর্ড নাঈমের

স্পোর্টস রিপোর্ট : ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পড়েছিল ১৮ উইকেট বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হওয়া সেই টেস্টে প্রথম ইনিংসে ১০২ রানে অল আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ দিন শেষ করেছিল ৮ উইকেটে ২০৪ রানে। বাংলাদেশের টেস্ট পদচারণার শৈশবের সেই স্মৃতি ফিরে এলো ১৫ বছর পর। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পড়েছে ১৭ উইকেট। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০ জন, বাংলাদেশের সাতজন। ব্যাটিংয়ের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে আসা এই উইকেটে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। তবুও নাঈম হাসানের অভিষেকেই সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট প্রাপ্তির বিশ্বরেকর্ড আর ৭৮ রানের লিড পাওয়ার পরও দিনটা পুরোপুরি বাংলাদেশের বলা যাচ্ছে না, কারণ শেষ ঘণ্টায় মাত্র ১৭ ওভারে ৫৫ রান তুলতেই যে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান নেই বাংলাদেশের।
আগের দিনের ৩১৫ রানের সঙ্গে ৪৪ ওভারে আর মাত্র ৯ রান যোগ করতেই অলআউট বাংলাদেশ। নাঈম ও মুস্তাফিজের বিদায়ে ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে যান তাইজুল। ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরু থেকেই নড়বড়ে অবস্থা। ক্যাচ পড়ছে উইকেটের পেছনে, দুই পাশে। স্টাম্পিংও মিস হয়েছে। ব্রেক থ্রু দেন তাইজুল। তার এলবিডাব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলে রিভিউ নেন কিয়েরন পাওয়েল, তবে বাঁচতে পারেননি। গোটা দিনেই মাঠের দুই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি দ্বিধা প্রকাশ করে রিভিউর আবেদন করেছেন দুই দলের খেলোয়াড়রাই। শুরুতে মুস্তাফিজ তো আউট মনে করে সবাই মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা থেকে রিভিউতে পুনর্জীবন মোট ১১ বার মাঠের আম্পায়াররা সাহায্য নিয়েছেন টিভি আম্পায়ার রুচিরা পালিয়াগুরুগের এমন রিভিউময় দিনে শুধু সুনীল আমব্রিসকে কেন্দ্র করেই তিনবার রিভিউ নেওয়া হয়েছে। মুশফিক ক্যাচ ছেড়েছেন, স্টাম্পিংও মিস করেছেন। উইকেটরক্ষকের দায়িত্বটা তাকে ব্যাটিংয়ে সহায়তা করে বলেই মুশফিককে জিম্বাবুয়ে সিরিজে ফেরানো হয়েছিল উইকেটের পেছনে। এই ম্যাচে অবশ্য প্রথম ইনিংসে মাত্র চার রান করেছেন মুশফিক, লম্বা সময় ধরে ব্যাটসম্যানদের বধ্যভূমি হয়ে ওঠা উইকেটটা কাছ থেকে দেখা মুশফিক কি পারবেন সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গত ২৪ নভেম্বর বড় একটা ইনিংস খেলতে? তার কাছ থেকে অমন একটা ইনিংস যে বড্ড দরকার।
মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের প্রথম বলেই উইকেটসহ প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাতে শাই হোপ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই সেঞ্চুরি করা ক্রেইগ ব্রাথওয়েটকে ফিরিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ধুঁকছে, তখনই শিমরন হেটমায়ারের পাল্টা আঘাত। বছর দুই আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপটা বাংলাদেশ থেকেই জিতে নিয়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের যুবারা, সেই দলটার নেতৃত্বে ছিলেন হেটমায়ার। ভারত সফরে দারুণ কিছু ইনিংস খেলা এই তরুণ কাল রুখে দাঁড়ালেন। প্রথাগত টেস্ট ইনিংস নয়, একদম টি-২০ ঢংয়ে খেলা শুরু করলেন। ৪৭ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় করা ৬৩ রানের ইনিংসের ইতি মিরাজের বলে মুশফিকের হাতে স্টাম্পড হয়ে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই হেটমায়ারের দলের কাছেই হেরেছিল মিরাজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। কাল সেই মিরাজই যেন নিলেন বিলম্বিত প্রতিশোধ।
হেটমায়ারের ‘কুইকফায়ার’ হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে শেন ডরিচের ধৈর্যশীল ৬৩ রান, এই দুজনেই ক্যারিবীয়দের দিয়েছেন স্বস্তি। পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা ব্যস্ত ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। নাঈমের পাঁচ উইকেটের সঙ্গে সাকিবের তিন আর তাইজুল ও মিরাজের এক উইকেটে ২৪৬ রানে শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। বাংলাদেশের লিড ৭৮ রানের।
কিন্তু বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে নামতে না নামতেই যে উইকেট হয়ে গেছে রীতিমতো বধ্যভূমি ফেরার পথটা দেখিয়েছেন ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার শূন্যের গেরো কাটালেও দুই বাউন্ডারিতে ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। চট্টগ্রামে টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরির পর এবার মমিনুল থামলেন ১২ রানে। মিঠুন ১৭ আর সাকিব ১ রানে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার পর ৫৩ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের। শেষ ওভারটায় কোনো বিপর্যয় নয়, দেখেশুনে কাটিয়ে দিয়েছেন মিরাজ। ১১ রানে অপরাজিত মুশফিক, ০ রানে অপরাজিত মিরাজ আর ড্রেসিংরুমে বসা মাহমুদ উল্লাহ; এই তিনজনের ওপরই নির্ভর করছে গত ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ কতক্ষণ ব্যাট করবে। ক্যারিবীয়দের সামনে দুই শর বেশি লক্ষ্যটা দিতে পারলে ভারী হবে জয়ের পাল্লাটা। না হলে কাজটা কঠিন হয়ে যাবে বোলারদের জন্যও।