নৌকার প্রার্থী এমএম শাহীনের পক্ষে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঠিকানা রিপোর্ট : স্বদেশ-প্রবাসের প্রিয়মুখ, ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী এম এম শাহীনকে পরিচয় করিয়ে তার পক্ষে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২২ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠের বিশাল নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে তুলে সিলেট বিভাগের চার জেলা- সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ১৯টি আসনের আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে মহাজোটের প্রার্থী সাবেক এমপি এম এম শাহীনকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বলেছিলাম না ধানের শীষ প্রার্থীদের এবার নৌকায় তুলে নেব, এই দেখেন এম এম শাহীন এখন মহাজোট মনোনীত প্রার্থী। নৌকা প্রতীকে তাকে ভোট দেবেন। তিনি বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দিয়েছেন।’ এ সময় মৌলভীবাজার-২ আসনে এম এম শাহীনকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তখন প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো এম এম শাহীন হাস্যোজ্জ্বল মুখে সমবেত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে সবার সমর্থন ও ভোট কামনা করেন।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২২ ডিসেম্বর বেলা পৌনে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে সিলেটে পৌঁছার পর প্রথমেই হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। পরে হজরত শাহপরান (রহ.) ও হজরত গাজী বুরহান উদ্দিনের (রহ.) মাজারও জিয়ারত করেন তিনি। বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে সভামঞ্চে আসার পর ৪টা ২ মিনিটে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সিলেট বিভাগের চার জেলায় মহাজোটের শরিক আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিকল্পধারার ১৯ জন প্রার্থীকে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ৩৬ মিনিটের বক্তব্যে সিলেটকে ঘিরে সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের আরও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নৌকার পক্ষে ভোট চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর মাস আওয়ামী লীগের বিজয়ের মাস, নৌকার বিজয়ের মাস। এই বিজয়ের মাসে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাইতে এসেছি। এই নৌকা বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক, সমৃদ্ধির প্রতীক। নৌকার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে।’ সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে সিলেটের প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। ঢাকা-সিলেট চার লেনের রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সিলেটের জলাবদ্ধতা দূর করতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। ক্রিকেট স্টেডিয়াম করেছি আন্তর্জাতিক মানের। সারা দেশে ৫৬০টি মসজিদে ইসলামিক সেন্টার করে দিচ্ছি। তার কিছু সেন্টার সিলেটেও থাকবে। এই সিলেটে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। সভামঞ্চে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ১৯টি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা ছাড়াও ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান প্রমুখ।
জনসভার একপর্যায়ে সিলেট-১ আসনে ড. এ কে এম আবদুল মোমেন, সিলেট-২ আসনে ইয়াহইয়া চৌধুরী (জাপা), সিলেট-৩ আসনে মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ আসনে ইমরান আহমদ, সিলেট-৫ আসনে হাফিজ আহমেদ মজুমদার, সিলেট-৬ আসনে নুরুল ইসলাম নাহিদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে জয়া সেনগুপ্তা, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এম এ মান্নান, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে পীর ফজলুর রহমান (জাপা), সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মুহিবুর রহমান মানিক, মৌলভীবাজার-১ আসনে শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার-২ আসনে এম এম শাহীন (বিকল্পধারা), মৌলভীবাজার-৩ আসনে নেছার আহমেদ, মৌলভীবাজার-৪ আসনে উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, হবিগঞ্জ-১ আসনে শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী, হবিগঞ্জ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-৩ আসনে আবু জাহির ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মো. মাহবুব আলীকে পরিচয় করিয়ে দেন।