পথ ও প্রবাসের গল্প: জায়ান্ট স্কুইড

আবু রায়হান

জর্জ হ্যারিসনের ‘বাংলাদেশ’ উচ্চারণ নজরুলের পছন্দ হয় না, কিন্তু তার গান তাকে দূর অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বিপন্ন মানুষের অসহায় অবস্থার কথা ভেবে চোখ ছলছল করে উঠে। পরক্ষণেই নির্বাক যুগে তৈরি সিনেমায় চার্লি চ্যাপ্লিনের অভিনয় দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়।
সুন্দর বনের উপর নির্মিত ডকুমেন্টারীর দেখা মেলে। ধারা ভাষ্যকারের বর্ণনা ভেসে আসে, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ, বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস ভূমি।’
দীর্ঘ সময় ধরে গোলপাতার আকার আকৃতি ও ব্যবহার বিধি বর্ণনা করা হয়। বনের ভিতরে বনদেবীর আস্তানা। বাঁশ ও কাঠের তৈরি ঘরে দেবীর মূর্তি। বাওয়ালীদের মধ্যে কেউ কেউ দেবীর পূজা করেন। তাদের বিশ্বাস এতে বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। বনের সীমানা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া নদী। নদীর কিনারে কাঁদা পানির মধ্যে ডানাওয়ালা এক প্রজাতির মাছের উপর ক্যামেরা অনেকক্ষণ স্থির থাকে। নজরুল সেদিকে তাকিয়ে ভাবে, ‘এই পানি আমার পানি, এগুলি আমার মাছ।’
বাংলাদেশের টিভিতে এই ডকুমেন্টারী চিত্রটি কি দেখানো হয়েছে? তার জানা নেই। শুধু দুই নম্বরী কেবল বক্সটির প্রতি মুগ্ধতা আরো বাড়ে। এরূপ একটি যাদুর বাক্স যদি পঁচিশ বছর আগে তার কাছে থাকতো! ঘরের অন্ধকারের বুক চিড়ে তার কাতর গলা ভেসে আসে।
‘আহারে শিউলি! আহা!’
দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় সে গভীরভাবে একজনের প্রেমে তলিয়ে যায়। শিউলি নামের সেই মেয়ের কথা এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে। সময়ে অসময়ে বুকের গভীর থেকে অতিদীর্ঘ সব দীর্ঘ-নিশ্বাস বেরিয়ে আসে। তখনো তার গোঁফ উঠেনি। সেই কারণে সবাই গায়ে পড়ে বিয়োগান্ত সব উপদেশ দেয়া শুরু করে। যদিও তাদের কথাবার্তা শুনে সে গোঁফের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক ধরতে পারেনি, তবুও একসময় নজরুল ভয় পেয়ে যায়। সে আর সাহস করে শিউলির দিকে তাকাতে পারতো না। ফলে সেই মেয়ে জীবন থেকে চিরদিনের তরে হারিয়ে যায়।
এখন পঁচিশ বছর পর টিভিতে উত্তর মেরুর উপর একটা ডকুমেন্টারী দেখতে দেখতে নজরুল ভাবেÑযদি সেই সময় তার হাতে আড়াইশ’ ডলার দামের এই দু নম্বরী যাদুর বাক্স থাকতো, আর যদি একটু আগেভাগে শালার গোঁফটা গজাতো, তাহলে আজ শিউলিকে পাশে নিয়ে ডিস্কভারী চ্যানেলে আর্কটিকের ‘ব্ল– মোমেন্ট’ দেখতে পেত। সূর্যাস্তের সময় মেরু বরফের উপর নীলাভ রঙের অপার্থিব শোভা শিউলির কোনদিন দেখা হবে না। আহা বেচারী রে !
টিভির সবগুলো চ্যানেলেই নজরুলের প্রবেশাধিকার আছে। যে চ্যানেলের অনুষ্ঠান পছন্দ হয়, সে সেটাই দেখে। তবুও ডিসকভারী গ্রুপের চ্যানেল কয়টির প্রতি তার আলাদা মোহ জন্মে। এই চ্যানেলগুলোতে প্রতিনিয়ত এমন কিছু দেখানো হয়Ñযা আমাদের প্রতিদিনকার আটপৌরে জীবনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই সপ্তাহের শুরুতে টিভি গাইড হাতে পেলে সে প্রথমে এই চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানমালায় চোখ বুলিয়ে নেয়। এইভাবেই একদিন সে দেখা পায় তার প্রার্থিত জীবটির।
তখনও নজরুলের ক্ষুদ্র মাথায় ‘জায়ান্ট স্কুইডের’ বিশাল পদচারণা। তার অবচেতন মন সব সময় এ সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে বেড়ায়। তাই একদিন যখন সে দেখে, জায়ান্ট স্কুইড নিয়ে প্রোগ্রাম দেখানো হবে, তখন তার উত্তেজনার সীমা থাকে না। সে সাথে সাথে রোমানকে ফোন করে।
রোমান তখন মুখে আমসত্ব নিয়ে খুব মনযোগ দিয়ে হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের লেটেস্ট খবর পড়ছিল। তার মন পড়ে আছে দিব্যা ভারতীর সাথে। নজরুল হড়বড় করে কি বলছে কিছুই তার মাথায় ঢোকে না। সে পাল্টা প্রশ্ন করে,
‘কিসের প্রোগ্রাম দেখাবে বললে? জায়ান্ট স্কুইড আবার কি জিনিস?’
‘ঐ যে তোমার ক্যালামারি! যার সাইজ তোমার মুখের সমান হলে নাম হয় স্কুইড, আর সাইজ একটু বড় হলে হয়ে যায় গাঁজাখুরি, তার প্রোগ্রাম দেখাবে। বৃহস্পতিবার রাত আটটায়।’
১৯৯৮ সালের এক সন্ধ্যায় তারা দুই বন্ধু নিজেদের ঘরে বসে প্রোগ্রামটি দেখে। ভবিষ্যতে মাসুদ রানা সিরিজের সপক্ষে দলিল হিসেবে ব্যবহার করার জন্য নজরুল সেটি রেকর্ডও করে রাখে। প্রোগ্রামটি দেখে এবং টিভি ভাষ্যকারের বক্তব্য শুনে বইয়ের বক্তব্যের বাইরে নতুন যে তথ্য জানা যায়, তা এরুপ…
এরা গভীর সমুদ্রের প্রাণি, উপকুলের অগভীর পানিতে এরা আসেনা। জীবন্ত জায়ান্ট স্কুইডের সাক্ষাৎ পাওয়া বিরল ঘটনা। মারা যাওয়ার পর এদের শরীর ভেসে উঠে। ঢেউয়ের টানে কদাচিত উপকূলে এদের দেখা মেলে। এদের সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান আপাতত এ পর্যন্তই। ডীপ সি টেকনোলজি আরো উন্নত হলে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
উন্নত দেশের পর্যটকেরা নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে গভীর আগ্রহ নিয়ে অনেক কিছু দেখে। সেই অনেক কিছুর মধ্যে একটি হলো মিউজিয়াম। অনেকগুলো বিখ্যাত ও সমৃদ্ধ মিউজিয়াম আছে নিউইয়র্কে। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট, ন্যাচারাল হিষ্ট্রি মিউজিয়াম, মিউজিয়াম অব মর্ডান আর্ট, ফ্রিক কালেকশন্স, সলোমন গুগেনহেইম মিউজিয়াম, চিলড্রেন্স্ মিউজিয়াম, ইত্যাদি। এদের মধ্যে ন্যাচারাল হিষ্ট্রি মিউজিয়ামে পশুপাখির ষ্টাফ করা মৃতদেহ, ফসিল ইত্যাদি সংরক্ষিত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বড় বড় শহরে এই মিউজিয়ামের শাখা আছে। রাজধানী শহর ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার কেন্দ্রস্থল কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউ এর উপরেও একটি আছে।
একদিন নজরুল বিশেষ কাজে ওয়াশিংটন ডিসির সেই এলাকায় গিয়ে হাজির হয়। হাতে বাড়তি কিছু সময় থাকায় সে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে গিয়ে ঢোকে। বাঘ, সিংহ, গন্ডার, জলহস্তি দেখার পর এক সময় জায়ান্ট স্কুইডের কথা মাথায় আসে। সে জলের প্রানী বিভাগ খুঁজতে শুরু করে এবং একসময় নির্দিষ্ট চেম্বারে গিয়ে উপস্থিত হয়। সেখানে কাঁচের আবরণের ভিতর জায়াণ্ট স্কুইডের মৃতদেহ সংরক্ষন করা আছে। স্কুইডের আকার আকৃতি প্রত্যক্ষ করার পর নজরুলের ধারণা হয়, বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়। অর্থাৎ, এই প্রাণির ম্যান্টেল বা শরীরের চেয়ে এর ট্যান্টাকল বা প্রধান শুড় দুটি আকারে বহুগুণ বড়।
চেম্বারের চার পাশের দেয়ালে অনেক ছবি ও লেখা সেঁটে দেয়া। এই লেখায় স্কুইড সম্পর্কে প্রাচীন নাবিক ও সমুদ্র বিজ্ঞানীদের কল্পচিত্র ও ধারণা প্রকাশ পেয়েছে। কোন ছবিতে দেখা যায় স্কুইড মুখ দিয়ে আগুন ছড়াচ্ছে, আবার কোনো ছবিতে দুই শুড় দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে জাহাজ ভেঙ্গে ফেলছে। এখানকার বিভিন্ন মন্তব্য ও ছবি ‘বড় ক্ষুধা’ বইয়ের কাহিনীর সাথে বেশ মিলে যায়। নজরুল খুব পরিতৃপ্ত মনে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে।
নজরুল ইসলামের উচিত ছিল জায়ান্ট স্কুইড বা মাসুদ রানা প্রসঙ্গের এখানেই ইতি টানা। একজন সুশীল সভ্য মানুষের জন্য সেটাই শোভনীয়। কিন্তু রোমান কেন মাসুদ রানা না পড়ে হিন্দি সিনেমার খবর পড়ে, এবং নজরুলকে উল্টো মাঝে মাঝে খোঁটা দেয়, এজন্য তার ক্ষোভ পুরোপুরি শেষ হয় না। সুযোগ পেলেই সে-ও পাল্টা নজির উপস্থাপন করে। আর নিউইয়র্ক এমন একটা শহর যেখানে উদাহরনের অভাব হয় না। পরবর্তী সময়ে এই শহরে আরও দু’টো ঘটনার সাক্ষাৎ মেলে, যা উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে সে রোমানের সীমিত ধারণা শোধরানোর চেষ্টা করে।
উপসাগরীয় পরিস্থিতি তখন খুব অশান্ত। মিঃ বুশ জুনিয়র স্বপ্নে জেনেছেন যে, সাদ্দাম হোসেন অ্যাটম বোমার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র আবিষ্কার করেছেন। সে অস্ত্র দিয়ে মানবকুলের, বিশেষত: সাদা প্রজাতির ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। সুতরাং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার খাতিরে সাদ্দামকে অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে। অন্যান্য রঘুপতিরা প্রাথমিকভাবে মৃদু আপত্তি করে এখন মেনে নিয়েছেন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য যাবতীয় সংঘ বহু আগেই শান্তির ব্রতে ভঙ্গ দিয়েছে। এখন কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সিনেটর ও আমর্ত্যবর্গই এই অপরাধ থামাতে পারেন। কিন্তু জুনিয়র বুশ পিতৃরক্তের ঋনে দায়বদ্ধ। যুদ্ধ তাকে করতেই হবে, আর সেজন্য আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে তার পক্ষে টানতে হবে। এ জন্য চাই অকাট্য প্রমাণ। এদিকে সময়ও ফুরিয়ে আসছে। চূড়ান্ত সময়সীমার আর মাত্র সপ্তাহ খানেক বাকী।
ক্যাপিটেল হিলে আবারো জরুরী সভা আহবান করা হয়। এবার তারা অকাট্য প্রমাণ হাজির করেছেন। তৃতীয় বিশ্বের একটা দেশের সমস্ত ডিফেন্সিভ ব্যবস্থাকে কাঁচকলা দেখিয়ে সে দেশের দুজন নামীদামী জেনারেলের কথোপকথন টেপ করে এনেছেন। সেই টেপ সুধী সমাবেশে বাজিয়ে শোনানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রেডিও টিভিতে তা প্রচারিত হয়। বলা বাহুল্য, সেই কথোপকথনের পুরোটা ছিল আরবীতে। আরবী ভাষায় নজরুলের দখল খুব একটা ভালো নয়। আল্হামদুলিল্লাহ্ ও বিস্মিল্লাহ মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বোধকরি, তার অসুবিধার কথা বিবেচনা করে টেপের বক্তব্য ইংরেজিতে অনুবাদ করে শোনানো হয়।
এক জেনারেল আর এক জেনারেলকে বলছে, ‘ঐ সমস্ত জিনিস ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে ফেলতে হবে।’ ক্যাপিটাল হিলের অতি উৎসাহী যুদ্ধবাজরা এই বাক্যটির মনগড়া পর্যালোচনা করে শোনান, ‘ঐ যে, ওরা একজন আরেক জনকে কিছু একটা লুকিয়ে ফেলতে বলছে-ওটাই সেই মানব বিধ্বংসী অস্ত্র।’
অনেকেই সে কথা নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করে। ‘আমাদের ইনটেলিজেন্স প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে প্রমাণ নিয়ে এসেছে। তাদেরকে অবিশ্বাস করি কিভাবে? নিঃসন্দেহে সাদ্দামের হাতে আমাদের মৃত্যুবীজ লুকানো আছে। সুতরাং বুশ তুমি এগিয়ে যাও…।’
ফলাফল! সাদ্দাম হোসেন এখন আমাদের সময়ের সাম্প্রতিক ইতিহাস।
নজরুল যদিও বিশ্বাস করে না যে ওটা দু’জন জেনারেলের কথোপকথন ছিল, তবুও রোমানকে কোণঠাঁসা করার জন্য বলে, এস্পিওনাজ এজেন্টদের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। আর মাসুদ রানাও একজন এস্পিওনাজ এজেন্ট। দ্বিতীয়টি, নিউইয়র্ক সিটির একটি ভ্রাম্যমান ঘটনা। অর্থাৎ চলন্ত ট্রেনের ভিতর এ ঘটনাটি সংঘটিত হয়। সাবওয়েতে চড়ে এক ইহুদি যুবক বাড়ি ফিরছিল। পাশে তার বান্ধবী বসা ছিল। আর ছিল এক বাংলাদেশী যুবক। হঠাৎ আট-দশ জনের এক সশস্ত্র শ্বেতাঙ্গ যুবকের দল ইহুদী যুবকের উপর চড়াও হয়। মুসা (আঃ) নবীর এই অনুসারী হয়তো সেদিন মরেই যেত, নিদেনপক্ষে মারাত্মক আহত হত। কিন্তু তার কোনটাই ঘটেনি-শেষ নবী(স) এর উম্মতের কল্যাণে। বাংলাদেশী যুবক নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ইহুদী যুবককে রক্ষা করে। তার বীর বিক্রমের ধারে ঈসা নবীর দাঙ্গাবাজ চ্যালারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। (নজরুলের ধারণা, এই যুবক ছোটবেলায় প্রচুর বাংলা মারদাঙ্গা সিনেমা দেখেছে।) এ খবর প্রচারিত হওয়া মাত্র সারা শহরে হুলুস্থুল পড়ে যায়। বিভিন্ন ইহুদী সংগঠনের নেতারা বাংলাদেশী যুবককে অভিনন্দন জানায়। সিটি প্রশাসনের ইহুদী কর্মকর্তা, কংগ্রেসম্যান মিলে মেয়রকে বাধ্য করে যুবকের বীরত্বের জন্য পুরস্কার প্রদানে।
অনেকদিন ধরে নিউইয়র্ক শহরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয় না। সেবারে নির্ঘাত হতো। ইহুদিরা এই শহরের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। তারা ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। বাঙালি যুবকের সাহসিকতায় পৃথিবীর টাফ নগরী এক কলঙ্কের হাত থেকে রক্ষা পায়।
নজরুল রোমানকে বলে, ‘দেখেছো! আমরা সবাই মাসুদ রানা নই। কিন্তু আমাদের মধ্যে কেউ কেউ নিঃসন্দেহে মাসুদ রানা।’ এ প্রসঙ্গে নজরুল রীতিমতো একটি বক্তৃতাও দিয়ে ফেলে, ‘অষ্ট্রিয়ার যুবরাজকে হত্যার কারণে প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হয়। হিটলারের উচ্চাভিলাষের জন্য দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ। সেই যুগ আজ পাল্টেছে, সময় পাল্টেছে। এখন বড় কোনো অন্যায়কে ঠেকানোর জন্য মহাযুদ্ধের দরকার হয় না। এক বা একাধিক এস্পিওনাজ এজেন্টই এখন এই কাজগুলো করতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত: এই এজেণ্টদের কাজের পদ্ধতি, ধরন ইত্যাদি সম্পর্কিত লেখা বাংলাদেশের অন্য কোনো লেখকের বইতে নেই।
বইয়ের জগতে সীমাবদ্ধতা বলতে কিছু নেই। বিষয়বস্তু আমাদের পরিচিত জীবনকে কেন্দ্র করে ঘুরতে হবে-এরুপ বাধ্যবাধকতাও নেই। লেখকরা তাদের ইচ্ছেমত বারবার গন্ডীর বাইরে পা ফেলবেন। নইলে আমরা অচেনাকে চিনবো কিভাবে, অজানাকে জানবো কি করে? বিদ্রোহী কবির ‘আমার কৈফিয়ত’ কবিতাটি পড়েছো?- ‘রক্ত ঝরাতে পারিনা তো একা, তাই লিখে যাই রক্ত লেখা।’
কবির হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে কলম থাকায় রক্ত ঝরাতে পারেননি। হাতে অস্ত্র থাকলে তিনি অবশ্যই খুন-খারাবি করতেন! লেখার মাধ্যমে যদি এ ধরনের উন্নত বিদ্রোহ রচনা করা যায় তাহলে লেখা দিয়ে স্বত্ব রচনায় দোষ কোথায়!
দেশকে নিয়ে গর্ব করার মতো খুব বেশি বিষয় আমাদের নেই। প্রতিটি সচেতন মানুষ জানেন-এটা কতবড় হতাশার ব্যাপার। কাজী আনোয়ার হোসেন ‘রানা’ চরিত্র সৃষ্টির মাধ্যমে অসংখ্য পাঠক পাঠিকার মনে আশার সঞ্চার করেছেন। একদিন আমরাও বড় হবো। বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাড়াবো…।
একেবারে কোনো আশা ছাড়া মানুষ বাঁচে কিভাবে?