পরিবেশ সৃষ্টিতে জোর দেবে সরকার

নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপি-জাপার সমান প্রতিনিধি থাকবে

নিজস্ব প্রতিনিধি : নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও সরকারি দল জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নহীন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে। বিদেশিদের পরামর্শেই এ পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। জানা যায়, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিএনপিসহ তাদের অনুগামী বিরোধীদের মধ্যে বিদ্যমান আস্থাহীনতা দূর করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বর্তমান সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এই সংশয়-সন্দেহ দূর করার জরুরি তাগিদ বোধ করছে সরকার। এ জন্য এখন থেকেই সরকার ও সরকারি দল বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। এর অন্যতম হচ্ছে বিএনপির কর্মসূচির বিপরীতে ক্ষমতাসীনদের পাল্টা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি, কোথাও কোনো রকম সংঘাতে জড়িত না হওয়া। রাজনৈতিক এই অহিংস কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংযত আচরণ করতে বলা হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণভাবে এসব ব্যাপারে বিএনপি থেকেও তেমন কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি হলেও সরকার ও সরকারি দলের এমন সংঘাতমুক্ত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আচরণ দেশের মানুষ প্রশংসার চোখেই দেখছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের এই মন-মানসিকতা ও কর্মতৎপরতার বাইরে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দৃশ্যমান কিছু ব্যবস্থা থাকবে, যা জনমত প্রভাবিত করবে। বিদেশিরাও প্রশংসার চোখেই দেখবে। তবে কোনো কার্যক্রমই পরিচালিত হবে না সাংবিধানিক ব্যবস্থার বাইরে। বর্তমান সাংবিধানিক বিধিব্যবস্থার মধ্যে থেকেই সরকার বিএনপির সভা-সমাবেশ-মিছিলসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা বিধানে ব্যাপক পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করবে। যাতে কোনো অবস্থাতেই এসব কর্মসূচিতে কোনো মহল গোলযোগ, উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টি করতে না পারে।
রাজধানী, মহানগরসহ বিএনপি দেশের যেখানেই চাইবে প্রশাসন সেখানেই সভা-সমাবেশের অনুমতি দেবে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করবে। তবে তাদের কর্মসূচি সম্পর্কে পুলিশ ও জেলা, উপজেলা প্রশাসনকে কমপক্ষে তিন দিন আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে। পুলিশকে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানি যথাসম্ভব এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে এজাহারভুক্ত, সন্ত্রাস ও বোমাবাজির মামলার আসামিরা এর মধ্যে পড়বেন না।
নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে হলেও মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ২০ জনের বেশি হবে না। এতে বিএনপির দুই থেকে তিনজনকে স্থান দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকারি পর্যায় থেকে খোলামেলা বক্তব্য রাখা হবে, যা দেশের রাজনীতিসচেতন মানুষসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলবে। সংসদে বিএনপির কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকা সত্ত্বেও সরকার তাদের উল্লিখিত সংখ্যক প্রতিনিধি নেবে। এরশাদের জাতীয় পার্টি সংসদে স্বীকৃত বিরোধী দল হলেও নির্বাচনকালীন সরকারে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সমান প্রতিনিধিত্ব রাখার কথাও ভাবা হচ্ছে। মহাসচিবসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিধান করা হবে। আরো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে।
এসব ব্যাপারে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির মাধ্যমে বিএনপির কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। বিএনপি তা বিবেচনায় না নিয়ে নির্বাচনবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে সরকারও তার নমনীয়তার নীতি পরিবর্তন করবে।