পশ্চিম এবং পূর্ব উপকূলীয় আদালতে ট্রাম্পের ধরনা

ঠিকানা রিপোর্ট : ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ট্যাক্স রিটার্নকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার আইনজীবীরা পশ্চিম উপকূলীয় ক্যালিফোর্নিয়া এবং পূর্ব উপকূলীয় নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২০ সালের মার্চে ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য রিপাবলিকান দলীয় প্রাইমারিতে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের অবশ্যই ৫ বছরের ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ করতে হবে। এমনতর বাস্তবতায় ট্রাম্পের বিগতকালীন ট্যাক্স রিটার্নগুলো কংগ্রেশনাল কমিটিগুলোর নাগালের বাইরে রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার আইনজীবীরা প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইনের কার্যকারিতা অবরুদ্ধ করার জন্য ট্রাম্প ক্যাম্পেইন পশ্চিম উপকূলীয় সাক্রামেন্টোর ফেডারেল জাজের আদালতের শরণাপন্ন হন। ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের আবেদন সাক্রামেন্টোর ফেডারেল জাজ মঞ্জুর করায় ট্রাম্পের নিকট বিজয়বার্তা হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তার দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশ্বাস। অবশ্য সাক্রামেন্টোর ফেডারেল জাজের প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের কর্মকর্তারা আপিলের চিন্তাভাবনা করছেন বলে ২৩ সেপ্টেম্বর জানা গেছে।

আর কংগ্রেশনাল কমিটিগুলোর নিকট ট্রাম্পের বিগত ৮ বছরের ট্যাক্স রিটার্ন হস্তান্তরের বিরোধিতা করে পূর্ব উপকূলীয় নিউইয়র্কের আইনজীবীরা যুক্তি দেখাচ্ছেন যে প্রেসিডেন্টকে হ্যারেস (নাকাল) করার প্রচেষ্টা হিসেবে ফেডারেল প্রসিকিউটররা তার ডকুমেন্ট হস্তান্তরের অযৌক্তিক দাবি করছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্বে ড্যানিয়েল স্টর্ম এবং অ্যাপ্রেন্টিস নামক ২ মহিলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন মিলনের অভিযোগ আনয়ন করায় ট্রাম্প ব্যক্তিগত সাবেক আইনজীবী কোহেনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে তাদের মুখ বন্ধ এবং অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছিলেন। আর ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের অংশ হিসেবে প্রদত্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি ট্রাম্পের ৮ বছরের ট্যাক্স রিটার্ন থেকে পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কের প্রসেকিউটররা মরিয়া হয়ে ওঠায় তা প্রতিহত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মামলা রুজু করেছেন। মূলত ডেমক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত ক্যালিফোর্নিয়া এবং নিউইয়র্ক স্টেট ট্রাম্পের ভয়ানক শত্রুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং তারা নিছক ট্যাক্স রিটার্ন নয় বরং ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবেশ, ইমিগ্রেশন এবং অন্যান্য নীতিমালা নিয়ে বারবার আদালতে মামলা ঠুকছে।

সম্প্রতি ট্রাম্পের ৮ বছরের স্টেট এবং ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন সরবরাহ করার জন্য প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্টিং ফার্মকে সমন জারি করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্কে ট্রাম্পের আইনজীবীরা ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি সাইরাস আর ভ্যান্স জুনিয়রের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার কয়েক ঘণ্টা পরই সাক্রামেন্টো ফেডারেল জাজ ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন বলে জানা যায়। পূর্ব উপকূলীয় ম্যানহাটনের আদালতে দাখিলকৃত মামলার আর্জিতে ট্রাম্পের নিউইয়র্কের আইনজীবীরা ফার্মের প্রতি সমন জারিকে ব্যাড ফেইথ এফোর্ট টু হ্যারেস (নাকাল করার উদ্দেশ্যে খারাপ অভিসন্ধিমূলক প্রচেষ্টা) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ডেমক্র্যাটিক দলীয় অ্যাটর্নি ভ্যান্স জুরিয়রের সমন জারিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অ্যাটর্নির সাংবিধানিক অধিকার-বহির্ভূত প্রচেষ্টা বলে দাবি করেছেন।

নিউইয়র্কের মামলাটি ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের অংশ এবং গ্র্যান্ড জুরি সমনগুলো জারি করেছিলেন। ভ্যান্সের জনৈক মুখপাত্র জানান যে ভ্যান্সের দপ্তর মামলাটির খবর পেয়েছে এবং আদালতে এর সঠিক জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে ডেমক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেশনাল কমিটিগুলোও টাম্পের ট্যাক্স রিটার্নগুলো হাতে পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং ধারণা করছে যে ট্যাক্স রিটার্নের মাধ্যমে ট্রাম্পের লেনদেনের সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে।
ইউক্রেন স্ক্যান্ডাল ও ট্রাম্পের ব্যাখ্যা : ডেমক্র্যাটিক ফ্রন্ট রানার জো বাইডেনের পুত্র হান্টার বাইডেন ইউক্রেন এনার্জি কোম্পানিতে কর্তব্যরত রয়েছেন। ২৫ জুলাই ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভেøাডোমির জেলেনস্কির সাথে টেলিফোনে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেলেনস্কির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের পুত্র হান্টার বাইডেনের বাণিজ্যিক চুক্তিতে বাইডেনের কথিত সম্পৃক্তির বিষয়টি তদন্ত করতে, অন্যথা ২৫০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য প্যাকেজ বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছিল হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে।

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও উষ্মা : ২৩ সেপ্টেম্বর মিডিয়া এবং জো বাইডেনকে লক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকান হলে ইউক্রেন হুইসেলব্লোয়ার স্ক্যান্ডালে (ইউক্রেন কেলেঙ্কারির হুইসেল বাদক) বাইডেনের ভূমিকার জন্য অবশ্যই তাকে বৈদ্যুতিক চেয়ারে বসিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হতো। ট্রাম্প স্বীকার করেন যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সাথে তিনি দুর্নীতি এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে কথা বলে তিনি আদৌ অন্যায় করেননি।