পহেলা বৈশাখে মেট্রোরেল প্রথম স্প্যানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ডেস্ক : সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে মেট্রোরেলের কাজ। ইতোমধ্যেই উত্তরা দিয়াবাড়ীতে এ প্রকল্পটির প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছে। তাছাড়া এ মাসের ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিলে আগারগাঁওয়ে প্রকল্পটির দ্বিতীয় স্প্যান বসানো হবে। এছাড়া পয়লা বৈশাখে দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর সাথে এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ৯ এপ্রিল সকালে আগারগাঁওয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, পিলারের পাইলিংয়ের কাজ শেষে এখন স্প্যান বসাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা। দিনরাত কাজ করার মাধ্যমে চলছে নির্মাণকাজ। পুরো প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিশাল আকৃতির ক্রেন, অ্যাসকেভেটর বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে যানজট নিরসনে কাজ করছে প্রকল্পের শ্রমিকরা। এ বিষয়ে কোয়ালিটি কন্ট্রোলার প্রকৌশলী হাসানুল হক সম্রাট জানান, ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এই এলাকায় ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। তবে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো প্রকল্প এলাকায় স্টেশন থাকবে ১৬টি। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতাভুক্ত এ প্রকল্পের রোকেয়া সরণির পরিকল্পনা কমিশনের কাছ থেকে মিরপুর পর্যন্ত কাজ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দিয়াবাড়ির ডিপোর (কন্ট্রা প্যাকেজ-৩) কাজ আগারগাঁও এলাকার (কন্ট্রা প্যাকেজ-৪) চেয়ে দ্রুতগতিতে চলছে। এ প্যাকেজে এ পর্যন্ত ৫৫০টির বেশি পাইলিং হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এ প্যাকেজের সব পাইলিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত প্রথমে দৃশ্যমান হওয়ার কথা ছিল আগারগাঁওয়ের একটি স্প্যান। কিন্তু দিয়াবাড়ির স্প্যান প্যাকেজটির কাজ প্রথমে দৃশ্যমান হয়েছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল আসতে সময় লাগবে মাত্র ৩৭ মিনিট। বিদ্যুৎচালিত এ ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় গড়ে ৩২ কিলোমিটার। এ রুটে ৬টি করে বগির ১৪টি ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিটিতে এক হাজার ৬৯৬ জন যাত্রী পারাপার করতে পারবে। এর মধ্যে আসনে বসতে পারবে ৯৪২ জন এবং দাঁড়িয়ে থাকবে ৭৫৪ জন। প্রতি চার মিনিট পর পর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এতে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিক থেকে ৩০ হাজার করে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। দুটি অংশে ভাগ করে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। একটি মূল ডিপো নির্মাণ এবং অপরটি চলাচলের লাইন। চলাচলের লাইনের আগারগাঁও পর্যন্ত পাইলিং প্রায় শেষের পথে। এখন পিলার নির্মাণ করে তার ওপর একের পর এক স্প্যান বসানো হবে।