পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবল

স্পোর্টস রিপোর্ট : পাকিস্তান গোলরক্ষকের হাতে বল তুলে দেওয়া রবিউলের কাঁধ ঝাঁকিয়ে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান যেন সান্তনা দিয়ে বলেন, দূর বোকা, ভয় কী, আমি আছি না যেন ১৬ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব তুলে নেয় ছোট্ট কাঁধে। কাঁধ ছোট্ট হলেও বড় দায়িত্ব তুলে নিয়ে সোনালি হাসিটা ঠিক উপহার দিতে পেরেছে মেহেদী। তার দুই হাতের যাদুতে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। কাঠমান্ডুর আনফা কমপ্লেক্সে টাইব্রেকারে পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কাল তিন বছর পর ছোটদের সাফ ফুটবলের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল লাল-সবুজ কিশোররা; নির্ধারিত সময় খেলা ছিল ১-১।

সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতের দুটি শট ঠেকালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালের একাদশে মেহেদী হাসান ছিলেন অচ্ছুৎ কেননা, শাস্তি কাটিয়ে ফিরেছেন নিয়মিত গোলরক্ষক মিতুল মারমা। তবে তার গ্লাভসে আস্থা ঠিকই রেখেছিলেন কোচ মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ; ১-১ গোলে খেলা শেষ বাঁশির ঠিক আগে বিপ্লবকে তুলে মাঠে নামা মেহেদীকে। আস্থার প্রতিদানও দেন এ কিশোর, পাকিস্তানের তিন শট ঠেকিয়ে দিন শেষে নায়ক।

রাজনের শট ঠেকিয়ে মেহেদীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে উৎরে গেছে লাল-সবুজ কিশোর; জুনায়েদ ও আদনানের শট ঠেকিয়ে বরং পাল্টা চ্যালেঞ্জ দেয়। হƒদয়, রাজা আনসারি, রুস্তম গোল করে তাকে এগিয়ে দেয়। পাকিস্তানিরা দুই গোল করে সমতা আনলে কিছুটা স্নায়ুর চাপে পড়ে রবিউল, সেটা কাটাতে পারেনি। শেষ হয়ে ভরসা মেহেদী হাতে বন্দী মুদাস্সর নজরের শটের বল, ওড়ে লাল-সবুজ পতাকা। তবে নির্ধারিত সময় জেতা অসম্ভব হতো না বাংলাদেশের। যদি ২৫ মিনিটে পাওয়া আত্মঘাতি গোলটা ধরে রাখত পারত শেষ পর্যন্ত। কর্নারের বল সেভ করতে গিয়ে পাকিস্তানি ডিফেন্ডার হাসিবের হেডে নিজেদের জালে জড়ায়। কিংবা সর্বোচ্চ গোলদাতা নিহাত জামান উচ্ছ্বাসের (৪) হেডের বল গোলরক্ষকের হাত ফসকালে। হয়নি নিজেদের ভুলেই। ৫৪ মিনিটে ধাবমান পাকিস্তানি ফরোয়ার্ডকে বক্সের ভেতর অহেতুক ধাক্কা দিয়ে দেন ডিফেন্ডার হেলাল। প্রাপ্ত পেনাল্টিতে ১-১ করে মহিবুল্লাহ; মিতুল ডান দিকে ঝাঁপিয়েও ঠেকাতে ব্যর্থ হন।

তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল বলে যে খেলা, সেটা দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানি কিশোররা; হয়তো স্নায়ুর চাপে ভুগেছে। খেলা হয়েছে রীতিমতো মারমার-কাটকাট। কেউ ঝুঁকি নেয়নি; ফলে অধিকাংশ সময় মাঝমাঠে বল গড়িয়েছে। দুই দলই বার কয়েক গোলের ভালো কিছু সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। ৯০ মিনিটে যে খেলাই হোক, দিন শেষে বীর গোলরক্ষক মেহেদী। হেসেছে গোটা বাংলাদেশ। তিন বছর আগে সিলেটে ভারতকে ৪-২ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ গোলরক্ষক ফয়সালের দৃঢ়তায়; এবার নায়ক আরেক গোলরক্ষক। দেশকে জেতাতে পেরে রীতিমতো খুশি মেহেদী, ম্যাচ শেষে জানান, আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল আমরা পারব, পেরেছি। নিজেরা কথা বলেছি, সারা দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে, ভালো কিছু উপহার দিতে চাই।

তবে মূল কাজ করেছেন কোচ মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ, ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় সুপার মক কাপের অনূর্ধ্ব-১৩ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ পারভেজ, ম্যাচ শেষে বলেন, পাকিস্তান এ টুর্নামেন্টে সবচেয়ে শক্তিশালী দল, দারুণ খেলেছে পুরো আসরে। কিন্তু সব দলের কিছু না কিছু দুর্বলতা থাকে, আমরা সেটা কাজে লাগিয়েছি। তবে কৃতিত্বটা ছেলেদের দিতে ভোলেননি সাবেক জাতীয় ফুটবলার, ওরা খুব পরিশ্রম করেছে, দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। যেভাবে বলেছি, তাই করেছে। এ শিরোপাটা ওদেরই প্রাপ্য।