পাকিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এই সিরিজে মোট চারটি ম্যাচ খেলে সব কটিতেই হেরেছে লাল-সবুজের দল।

টানা হারের হতাশা নিয়ে এবার বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে সাকিব আল হাসানের দল। ব্যাটিংয়ে সাকিব ও লিটন দাসরা দৃঢ়তা দেখালেও বোলিংয়ে জ্বলে উঠতে পারেননি তাসকিন-শরিফুলরা। সেই সঙ্গে ক্যাচ মিস ও বাজে ফিল্ডিং তো ছিলই।

ক্রাইস্টচার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ১৭৩ রান তোলে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন লিটন দাস। ৪২ বলে তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬ বাউন্ডারি আর দুটি ছক্কায়। সমান বলে ৭ চার আর ৩ ছক্কায় অধিনায়ক সাকিব আল হাসান করেন ৬৮ রান। বাকিদের কেউই উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি।

জবাব দিতে নেমে এক বল হাতে রেখে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই বেশ সাবলীল ছিল পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে দুই ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে তোলেন ১০১ রান। জমে ওঠা এই জুটি শেষ পর্যন্ত ভাঙেন মাহমুদুল হাসান। এক ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান হাসান।

প্রথমে আউট করেন ৫৫ রান করা বাবরকে। এরপর বিদায় করেন হায়দার আলিকে। কিন্তু লড়াইয়ে ফিরেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদের করে নিতে পারল না বাংলাদেশ। হতাশার হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন রিজওয়ান। ৫৬ বলে তার ইনিংসে ছিল ৪টি বাউন্ডারি। এ ছাড়া ২০ বলে ৪৫ রানের দারুণ ইনিংস উপহার দেন মোহাম্মদ নেওয়াজ।

এদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে ফের ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ওপেন করানো হয় সৌম্য সরকারকে। কিন্তু সাফল্য আসেনি তাতেও। তিন ওভারও টিকেনি বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে সৌম্যকে বিদায় করে এই জুটি ভাঙেন নাসিম শাহ। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে নাসিম শাহর লেগ স্টাম্পের ওপর লেংথ বল মিড-অন ফিল্ডারের মাথার উপর দিয়ে খেলার চেষ্টা করেন সৌম্য। কিন্তু ঠিকঠাক খেলতে পারেননি। মিড-অনে সহজ ক্যাচ নিয়ে তাকে সাজঘরে পাঠান শাদাব খান। ৪ রানে ফেরেন সৌম্য, দলীয় ৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

উইকেটে থাকা আরেক ওপেনার শান্তও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ৯ বলে রানের খাতা খোলা শান্ত বিদায় নেন ১৫ বলে ১২ করে। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে অনেকটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। দুজনে মিলে গড়ে তোলেন ৫৫ বলে ৮৮ রানের চমৎকার জুটি। এই জুটিতেই মূলত লড়াইয়ের ভিত গড়ে নেয় বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান লিটন।

শাদাব খানের বল পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে ৩১ বলে ৫০ স্পর্শ করেন ডানহাতি এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত খেলেন ৬৯ রানের ইনিংস। যেটা তার টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। এই ফরম্যাটে আগের সেরা ছিল ৬১ রান।

১৫তম ওভারে লিটনের প্রতিরোধ ভাঙে পাকিস্তান। এরপর আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে শক্ত পুঁজি দিতে লড়াই করেন সাকিব। গত ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করা সাকিব আজও খেললেন বড় ইনিংস। মাত্র ৩৪ বলে তুলে নিলেন হাফ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল সাত বাউন্ডারি আর তিন ছক্কা দিয়ে। সাকিব ফেরার পর শেষ দিকে আফিফ হোসেন করেন ১১ রান। তার সঙ্গে নুরুল হাসান সোহান করেন ২ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৭৩/৬ (সৌম্য ৪, শান্ত ১২, লিটন ৬৯, সাকিব ৬৮, ইয়াসির ১, সোহান ২, আফিফ ১১; নাসিম শাহ ৪-০-২৭-২, হাসনাইন ৪-০-৩৮-০, ওয়াসিম ৪-০-৩৩-২, শাদাব ৪-০-৩১-০, নেওয়াজ ৩-০-৩৭-১)।

পাকিস্তান : ১৯.৫ ওভারে ১৭৭/৩ (বাবর ৫৫, রিজওয়ান ৬৯, হায়দার ০, নেওয়াজ ৪৫, আসিফ ২; সাকিব ৩-০-২৮-০, হাসান ৪-০-২৭-২, তাসকিন ৪-০-৩২-০, শরিফুল ৪-০-৩০-০, সাইফউদ্দিন ৩.৫-০-৫৩-০)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মোহাম্মদ রিজওয়ান (পাকিস্তান)।

ঠিকানা/এনআই