পাবলিক চার্জ এবং লেইট রেজিস্ট্রেশন অব বার্থ ইস্যু

মোহাম্মদ এন মজুমদার

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পাবলিক চার্জকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে গণ্য করায় ইতিমধ্যে সব গ্রিনকার্ড আবেদনে ও-৯৯৪ সেল্ফ সাফিসিয়েন্সি আবেদন সংযুক্ত করার নির্দেশ এসেছে। এতে গ্রিনকার্ড প্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত থাকাকালীন সব কার্যক্রমের তালিকাসহ কি কি সরকারি সুযোগ-সুবিধাসমূহ গ্রহণ করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হচ্ছে। এদিকে ইতিপূর্বে দাখিলকরা ও-১৩০ পিটিশনসমূহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চেয়ে জঋঊ আসছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে হবে এবং যথাযথ ডকুমেন্ট জমা না দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল থেকে জটিলতর করার উদ্দেশ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের এ উদ্যোগ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
পাবলিক চার্চের বিষয়টিতে বলা হচ্ছে- অভিবাসী ইতিপূর্বে কি কি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন, কি পরিমাণ সরকারি মেডিকেইড, ফুডস্ট্যাম্প, হাউজিং বেনিফিট গ্রহণ করেছেন; আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, শারিরীক অবস্থা ইত্যাদি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আবেদনকারীকে গ্রিনকার্ড দেয়ার প্রস্তাবনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।
১৮ পৃষ্ঠাব্যাপী ও-৯৯৪-এ আবেদনকারীর পরিচিতি, পারিবারিক পরিচিতি, পারিবারিক সম্পদের বিবরণ, অর্থনৈতিক অবস্থা, আয়ের উৎস, হেলথ ইস্যুরেন্স, পাবলিক হাউজিং সংক্রান্ত তথ্যাদি, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আয়ের উৎস, সম্পদ ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, ট্রেনিং, সার্টিফিকেট, ক্রেডিট রিপোর্ট ইত্যাদির বিস্তারিত তথ্যাদি জমা দিতে হয়। এখানে এ মর্মে নিশ্চিত করা হয় যে, আবেদনকারী ইতিপূর্বে জনগণের বোঝা ছিলেন না, এমন কি জনগণের বোঝা হবেন না।
তবে যারা ২১ বৎসর বয়স উত্তীর্ণ হওয়ার আগে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন; বিশেষ অবস্থার কারণে ক্ষণস্থায়ী সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন; একটানা ১২ মাসের কম সময় সরকারি সুবিধা নিয়েছেন; যারা এসাইলাম মঞ্জুরের পর গ্রিনকার্ডের আবেদন করেছেন; বিশেষ ব্যবস্থায় ও বিশেষ অবস্থা ও পরিস্থিতির কারণে সরকারি সুযোগ নিয়েছেন- তারা পাবলিক চার্জের আওতায় পড়বেন না।
লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ব্রঙ্কস প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন।