পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে ভালো করতে চায় তামান্না

যশোর : হাত ছাড়া শুধু একটি পা নিয়েই যশোরের আলিপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছিল তামান্না নূরা। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা তামান্নার সামনে এগিয়ে চলার পথকে রুদ্ধ করতে পারেনি। পড়াশোনার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। গত ২ ফেব্রæয়ারি থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মেধাবী এ মেয়েটি। পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠীদের ধারণা, এসএসসিতে ভালো ফল করবে তামান্না।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের রওশন আলীর মেয়ে তামান্না নূরা। ঝিকরগাছার বাঁকড়া জে কে হাইস্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সে। স্থানীয় বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তার আসন পড়েছে।

তামান্নার শিক্ষক ও সহপাঠীরা জানান, তামান্না বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসেই মেধাতালিকায় প্রথম হওয়ার পাশাপাশি এডাস বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতি বছরই বৃত্তি পেয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে পিএসসি এবং ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে সে।

তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, জন্মের পর থেকে দরিদ্রতার পাশাপাশি সামাজিকভাবে অনেক প্রতিক‚লতার মোকাবেলা করতে হয়েছে তামান্নাকে। তবে কখনো আমরা ভেঙে পড়িনি। তামান্না তার মায়ের কাছ থেকেই অক্ষরজ্ঞান শেখে। দরিদ্রতার কারণে বাড়ি থেকে দূরের একটি ভালো স্কুলে ভর্তি করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয় আজমাইন এডাস স্কুলে তাকে নার্সারি শ্রেণিতে ভর্তি করাই। তামান্নার একবার কিছু শুনলে তা আয়ত্ত করে বলতে পারত। প্রথমে পায়ের আঙুলের ফাঁকে চক ধরিয়ে, পরে কলম ধরিয়ে লেখা আয়ত্ত করানো হয়েছে তাকে। বইয়ের পৃষ্ঠা ওল্টানো, পায়ের আঙুলের ফাঁকে চিরুনি ধরে চুল আঁচড়ানো, চামচ দিয়ে খাওয়া সবই আয়ত্ত করেছে সে। ধীরে ধীরে নিজের ব্যবহƒত ঠেলাগাড়িটিও এক পা দিয়ে চালাতে শেখে তামান্না। শিক্ষক, বাবা-মা, সহপাঠীসহ স্বজনদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তামান্না নূরা বলে, ভালো ফলের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।