পিপিপি’র আওতায় সন্দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা পাল্টে দেয়া সম্ভব : আবুল কাসেম

সোহেল মাহমুদ : সরকারের জায়গা। বিনিয়োগ বেসরকারি পর্যায়ের। এভাবেই সন্দ্বীপের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আধুনিক করার বিকল্প নেই বলে মনে করেন চালুর অপেক্ষায় থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান আবুল কাসেম। সন্দ্বীপের যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ব্রুকলিনে তার সাথে কথা বলছিলাম। এ সময় তিনি জানালেন তার নতুন পরিকল্পনার কথা। বললেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতির আওতায় চট্টগ্রামের সাথে সন্দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা পাল্টে দেয়া সম্ভব। আমি ঢাকায় গিয়ে এ বিষয়ে সন্দ্বীপের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সাথে বসতে চাই। প্রবাসীদের সাথেও বসবো। শিগগিরই এই ইস্যুতে কাজ শুরু করতে চাই।

সন্দ্বীপের রহমতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কাসেম ব্রুকলিনে নির্মাণ ব্যবসার সাথে জড়িত। বাংলাদেশে সরকারের সবশেষ সিদ্ধান্তে তিনি ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ করছেন। জানালেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামী ক’মাসের মধ্যেই চালু হতে যাচ্ছে পিপলস ব্যাংক।

দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সাথে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের উপায় হচ্ছে নৌ-পথ। কয়েকটি ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করলেও যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিক এবং মানসম্মত নয়। আবুল কাসেম বললেন, এ পরিস্থিতিতে শুধু সরকারের দিকে না চেয়ে আমাদেরও অনেক কিছু করার আছে। সন্দ্বীপের শিল্পপতি, ব্যবসায়ীরা জাতীয় পর্যায়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। প্রবাসীদের অনেকের কাছে অলস অর্থ পড়ে আছে। তারা বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছেন। সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌ-রুটে বিনিয়োগের সুযোগ আছে এবং ভালো মুনাফা করা সম্ভব। পেশাদারী মনোভাব নিয়ে এ রুটে বিনিয়োগ করা গেলে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত যেমন হবেন না, তেমনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও থাকবে না।

আবুল কাসেম বলেন, সরকার আমাদের জায়গা দেবে। নদী এবং ভূমি। আমরা অর্থ দেবো। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারসহ বাংলাদেশে বহু প্রকল্প সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ফসল বলে উল্লেখ করে তিনি এ প্রকল্পের জন্য বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানান। তার মতে, বিওটি (বিল্ট, অপারেট, ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে ২৫-৩০ বছর কিংবা এরও বেশি সময় ধরে এ ঘাট থেকে আয়ের বণ্টন হবে সরকার এবং অর্থ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। মেয়াদশেষে, ঘাটের মালিক হয়ে যাবে সরকার। ঘাটে অবকাঠামো থেকে শুরু করে জলযান আর সেবা ব্যবস্থার সবকিছুতে বিনিয়োগ করবে বেসরকারি উদ্যোক্তারা। মেয়াদশেষে সরকার চাইলে নতুনভাবে চুক্তি করে ঘাট পরিচালনা করা যাবে।

এ ধরনের প্রকল্প সফল হবে কি? জানতে চাইলে আবুল কাসেম বলেন, পরিকল্পনা ভালো হলে, ফল ভালো হবে। বছরভিত্তিক ইজারাচিন্তা করলে পরিস্থিতি পাল্টাবে না। সবার আগে প্রয়োজন, যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদের আগ্রহ।
-ফেসবুক থেকে।