পুতিনই সাবেক রুশ গুপ্তচরকে হত্যার হুকুম দেন

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন গত ১৬ মার্চ বলেছেন, চলতি মাসের প্রথমদিকে স্যালিস বারিতে সাবেক রুশ গুপ্তচরের ওপর যে বিষাক্ত রাসায়নিক হামলা হয় তা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে বলে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে সুস্পষ্ট সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। খবর-নিউইয়র্ক টাইমস।

এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নেতাকে সরাসরি জড়িত করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের গুরুতর অবনতি বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

উল্লেখ্য, এ মাসের ৪ তারিখে সাবেক রুশ গোয়েন্দা কর্নেল সার্গেই স্ক্রিপাল ও তার ৩৩ বছর বয়স্কা কন্যা ইউলিয়কে নোভিচক নামে এক অতি উচ্চমাত্রার রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা হত্যাচেষ্টা করা হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুতিন সম্পর্কে এই মন্তব্যের আগে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড থেকে বলা হয়েছিল যে, তারা পুতিনের কট্টর সমালোচক ও ব্যবসায়ী বোরিস বেরেজোভস্কির রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে পুনরায় তদন্ত করবেন। ২০১৩ সালে লন্ডনে বেরোজোভস্কির মৃত্যু হয়েছিল। এরও আগে ২০০৬ সালে ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থী পুতিনবিরোধী সাবেক রুশ গোয়েন্দা আলেকজান্ডার লিটভিনেনকোকে মারাত্মক তেজষ্ক্রিয় পদার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করা হয়।

এভাবে বিগত কয়েক বছরে রুশ প্রশাসন তথা পুতিনবিরোধী সমালোচকরা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক নির্বিচারে গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ইউক্রেনেও ঘটেছে। তবে কেবল ব্রিটেনেই এক ডজনের বেশি পুতিনবিরোধী মানুষজন বিগত কয়েক বছরে গুপ্তহত্যার শিকার হওয়ায় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে।

গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত থেরেসা মে প্রশাসন কিছুটা রাখ-ঢাক করে মস্কো সরকারকে এসব গুপ্তহত্যা সম্পর্কে অভিযুক্ত করে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছিল। ব্রিটিশ সরকার সরাসরি কূটনৈতিক সংঘাত পরিহারের জন্য এই মর্মে তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে যে, হয় মস্কো সরকার এই হামলার নিন্দেশ দাতা অথবা তাদের উদ্ভাবিত মারাত্মক রাসায়নিক পদার্থ অন্য কোনো দুষ্কৃতকারীর হাতে পড়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

এই ধরনের বক্তব্য প্রদানের ফলে কূটনৈতিক তৎপরতায় আগের অবস্থায় ফিরে আসার পথ খোলা থাকে। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসন যেভাবে সরাসরি পুতিনকে গুপ্তহত্যার আদেশ দাতা বললেন তাতে কূটনৈতিক যোগাযোগের ঈষত উন্মুক্ত দরজাটিও বন্ধ হয়ে গেল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। জনসন বলেন, পুতিন সেই ব্যক্তি যার নির্দেশনায় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের রাস্তায় রাস্তায় প্রথমবারের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তার এই মন্তব্যের কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, আমরা বিভিন্ন সূত্রে নানাভাবে বোঝাতে চেয়েছি যে, এই ঘটনায় (স্ক্রিপাল হত্যা চেষ্টা) আমাদের কোনো যোগসূত্র নেই। তার পরও এর সঙ্গে আমাদের প্রেসিডেন্টের (পুতিন) নাম জড়িয়ে কথা বলা শুধু দুঃখজনক নয় বরং তা কূটনৈতিক শালীনতার ক্ষমাহীন লঙ্ঘন।’

এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মার্চ মস্কো প্রশাসন জানিয়েছে যে, তারা স্ক্রিপালের বিষ প্রয়োগ ও নিকোলাই গ্লুশকভ হত্যা তদন্তের লক্ষ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এর মতো ক্ষমতাসম্পন্ন আইসিআর নামে এক কমিটি নিয়োগ করেছে। উল্লেখ্য, স্ক্রিপালকে বিষ প্রয়োগের পর গ্লুশকভ নামে এক ব্যবসায়িক নির্বাহীকে তার লন্ডনস্থ বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এই মুহূর্তে ব্রিটেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্যদের সঙ্গে মিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টগড়ার জন্য তৎপর রয়েছে। এর আগে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছিল। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে কথা বলেন। অস্ট্রেলীয় ‘পাঁচ চক্ষু’ (ফাইভ আইস) বিশিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর অন্যতম। বাকি দেশগুলো হচ্ছে- ব্রিটেন, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশ নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান করে থাকে।