পুতিনের সামনে পাঁচ চ্যালেঞ্জ

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : চতুর্থ মেয়াদের প্রেসিডেন্সিকালে পুতিন রাশিয়ার ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তোলার জন্য কী কী করবেন এবং কতটা সফল হবেন, সেটা বলার সময় এখনো হয়নি। তবে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য তাঁকে কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, সেটা এখনই ভাবছেন বিশ্লেষকরা। অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পুতিনের সামনে থাকা পাঁচটি অন্যতম চ্যালেঞ্জকে সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি।

জনবলের অভাব : ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর থেকে রাশিয়ায় ৫০ লাখের বেশি মানুষ কমে গেছে। বিশাল এই দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১৪ কোটি ৬৯ লাখ। দেশটিতে জন্মহার হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুহার কমছে। জনসংখ্যা কমতে থাকায় এখানকার শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর অভাব দেখা দিচ্ছে এবং এর ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই অর্থনীতির গতি হ্রাস পাচ্ছে।

পেনশনভোগীর চাপ : রাশিয়ায় নারীদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৫৫ বছর এবং আর পুরুষদের জন্য বয়সটা ৬০। একদিকে জনসংখ্যা কমতে থাকা এবং অন্যদিকে এই বয়সে অবসরে চলে যাওয়া, দুয়ে মিলে অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়া দূরে থাকা, উল্টো সরকারের ওপর পেনশনভোগীদের পাওনা নিশ্চিত করার চাপ বাড়ছে।

বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি : রাশিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির কথা পুতিন নিয়মিতই বলেন। বাস্তবে এ ব্যাপারে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্রো অ্যাডভাইজরির প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস ওয়েফার বলেন, ‘রাশিয়ার আরো বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা দরকার, একটা অনুকূল প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা দরকার।’

বৈচিত্র্য সৃষ্টি : জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ রাশিয়া এই পণ্যটার ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল। ফলে তেল উত্তোলন বাড়লেও এর দামের মারাত্মক ওঠানামা রাশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আলফা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মনে করে, হাইড্রোকার্বনজাত পণ্যের ওপর প্রচ- নির্ভরশীলতা রাশিয়ার অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য রোবটিকস, স্মার্ট টেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোগকে উৎসাহিত করার দিকে রুশ সরকারে মনোযোগ দেওয়া দরকার বলে মনে করেন ক্রিস ওয়েফার।

উৎপাদন বৃদ্ধি : রাশিয়ার বর্তমান অর্থনৈতিকব্যবস্থা ‘খুবই অকার্যকর’ বলে মনে করেন ওয়েফার। তিনি বলেন, ‘এর খানিকটা দায় হলো সোভিয়েতকালীনব্যবস্থার, যা এখনো এ অর্থনীতিতে বজায় আছে এবং আরো খানিকটা দায় ২০০০-১৩ মেয়াদে জ্বালানি তেল থেকে আসা সম্পদ, যা দিয়ে অর্থনীতি সহজেই এগিয়েছে। এ ব্যবস্থার মধ্যে প্রচুর অকার্যকারিতা আছে। সেগুলো শুধরে নেওয়া গেলে অর্থনীতিতে দারুণ গতি আসতে পারে।’ সূত্র : এএফপি।