পুলিশের তাড়া খেয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার মৃত্যু

পিরোজপুর : পুলিশের তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে পিরোজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান বাবরের (৩৫) মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরের শেখপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাবর পিরোজপুর পৌরসভার উত্তর নামাজপুর গ্রামের মৃত আনছার উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। তিনি সপরিবারে শহরের বাইপাস সড়কের বাসায় বসবাস করতেন। ২০১৪ সালের পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন তিনি।
বাবরের স্ত্রী ডালিয়া বেগম ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ডালিয়া অভিযোগ করেন, পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ পিরোজপুর শহরের শেখপাড়া ও মধ্যরাস্তা এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করতে কয়েকদিন ধরে অভিযান চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় সদর থানার একদল পুলিশ শেখপাড়া এলাকায় বাবরের বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় তিনি বাসার সামনে ছিলেন। পুলিশ আটক করতে গেলে তিনি দৌড়ে পালাতে গিয়ে বাড়ির পেছনের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পুকুরে পড়ে যান। এ সময় পুলিশ তার স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। পরে পরিবারের লোকজন অচেতন অবস্থায় বাবরকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, রাত ১০টায় বাবরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
বাবরের মামা নেছারউদ্দিন শেখ অভিযোগ করেন, কোনো কারণ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ বাবরকে তাড়া করে।
বাবরের মৃত্যুতে পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নূরুজ্জামান বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন গভীর শোক প্রকাশ এবং পুলিশি আচরণে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা পিরোজপুরে আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজ করেনি। তার পরও পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জিয়াউল হক বাবরের মৃত্যুর সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরে পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না।