পুলিশের বরখাস্ত পরিদর্শক ই-অরেঞ্জের সোহেল রানার ভারতে সাজা

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ঢাকার বনানী থানার বরখাস্ত পরিদর্শক সোহেল রানাকে সাজা দিয়েছেন ভারতের একটি আদালত। বর্তমানে তিনি আলীপুরের প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে আছেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে হাইকোর্টে দেওয়া প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

২১ জানুয়ারি শনিবার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে প্রতিবেদন এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বনানী থানার পরিদর্শক ই-অরেঞ্জের সোহেল রানার সাজা হয়েছে ভারতে। তবে এই প্রতিবেদন এখনো এফিডেভিট করা হয়নি। এফিডেভিট করে হাইকোর্টে দাখিল করা হবে।’

এর আগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ, অরেঞ্জ বাংলাদেশ ও রেড অরেঞ্জের প্রতারণার বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে রিপোর্ট দেয়। তবে গত বছরের ৩ নভেম্বর তাকে দায়সারা বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। ওই সময় অসন্তোষ প্রকাশ করে ৩০ দিনের মধ্যে আবারও যথাযথভাবে প্রতিবেদনের দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ই-অরেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া মেহজাবীনের ভাই বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। ওই সময় পৃথক প্রতিবেদন দেয় দুদক এবং পুলিশ।

গত বছরের ৩ নভেম্বর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের প্রতারিত করে সোহেল রানাদের ব্যাংকিং লেনদেন ছিল ৬৭৫ কোটি টাকার ওপরে। তার মধ্যে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয় দেখা গেছে ২৩৩ কোটি টাকার মতো। এই টাকার মধ্যে বেশির ভাগ টাকাই সোহেলের বোন মেহজাবিন, ভগ্নিপতি মাসুকুর রহমান এবং তার স্ত্রী নাজনীন নাহার বিথি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে উত্তোলন করেছেন। এই বিষয়ে গ্রাহকদের ১১টি মামলার মধ্যে ৯টিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। বিএফআইইউর প্রতিবেদনে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাই আবারও নতুন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আর সোহেল রানা ভারতে গ্রেপ্তার আছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছেন তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে।’

এর আগে ই-অরেঞ্জ থেকে পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার ৫৪৭ গ্রাহকের পক্ষে ছয়জনের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে প্রতিবেদন চান।

ঠিকানা/এনআই