পুলিশের বল প্রয়োগের ঘটনা তালিকাভুক্তিতে অনিয়ম

ঠিকানা রিপোর্ট: বেয়াড়া অপরাধী বা সিভিলিয়ানকে নিয়ন্ত্রণে আনার অজুহাতে পুলিশের ঘুষি মারা, টেসারের ব্যবহার এবং মরিচের পানি ছিটানোর মত পুলিশ কর্মকর্তাদের বল প্রয়োগের ঘটনা কমই তালিকাভুক্ত করা হয়। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল ফিলিপ কে ইউরে ১১ ফেব্রুয়ারি এ জানিয়েছেন।
পুলিশ বিভাগের ফোর্স রিপোর্টিং সিস্টেমের (বল প্রয়োগ পদ্ধতির) কম্পিটিউরাইডজ ফোর্সড ইউজুড (কম্পিউটারে ধারণকৃত বল প্রয়োগের) অ্যারেস্ট রিপোর্ট ( গ্রেপ্তার প্রতিবেদনের) , প্রিজনার ইঞ্জুরিজ (কয়েদীদের আঘাতপ্রাপ্তি) এবং অন্যান্য ডক্যুমেন্ট অডিট করে দেখা গেছে যে কর্মকর্তাগণ হাঁ এর স্থলে ভুলক্রমে না ব্যবহার করেছে। সঠিকভাবে ও বিশদভাবে ডক্যুমেন্ট সংরক্ষণের ব্যর্থতার দরুণ পুলিশ কর্মকর্তাদের বল প্রয়োগের ঘটনা কমই নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং তাদের আচরণের কাঙ্খিত পরিবর্তনও চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে সমগ্র সিটি জুড়ে কমিউনিটির সাথে পুলিশ কর্মকর্তাদের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও বহুলাংশে ব্যাহত হচ্ছে এবং পুলিশের কর্মকান্ডের প্রতি জনগণের আস্থার ভিতও কাঙ্খিত স্তরে পৌঁছতে পারছেন না বলে ইন্সপেক্টর জেনারেল ইউওে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
ইউরের অনুসন্ধানটি হচ্ছে ২০১৫ সালের অডিটের ফলো-আপ। ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে লাথিমারা থেকে গুলি করা পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের যাবতীয় বলপ্রয়োগের ঘটনা সঠিকভাবে নথিভুক্ত না করার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল। সিটি পুলিশ বিভাগের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকাল থেকেই ইউরে কর্মকর্তাদের আচরণের উন্নয়নে যত্নশীল ছিলেন এবং দেখতে পান যে অদ্যাবধি কাঙ্খিত উন্নয়ন সাধিত হয়নি।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, কিছু সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় থ্রেট (ভীতি), রেসিস্ট্যান্স ( বাধা) ও ইঞ্জুরি ( আঘাত- টিআরআই) ফরম পরিপূর্ণ করেন নি। আবার প্রতিপক্ষের বাধার মুখে অপরিহার্যভাবে বল প্রয়োগ করা সত্ত্বেও অ্যারেস্ট রিপোর্টে কেউ কেউ কোন নোট রাখেননি। ইউরের প্রতিবেদনে যে সকল সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: ফোর্স ফরম পূরণের কোন ডেডলাইনের উল্লেখ না থাকা; কি ধরনের ঘটনার বেলায় ফরম পূরণের দরকার হয় সে ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বিধান্বিত মনেবৃত্তি এবং ঘটনার অনুপুঙ্খ বর্ণনার ঘাটতি। ইউরের টীম ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের মে থেকে জুলাইর ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করেছেন।
অপরাধ পরিসংখ্যানের এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সহকারি প্রধান ম্যাথৌ পন্টিলোকে ইউরের প্রতিবেদন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, উল্লেখিত সময়ে রিপোর্টিং প্রক্রিয়া ছিল নিতান্ত প্রারম্ভিক স্তরে। তাই এটি সর্বোচ্চ ৬০% থেকে ৬৫% চাহিদা মিটাতে সক্ষম ছিল। বর্তমানে এটি ৯০% চাহিদা পূরণে সক্ষম। তিনি আশাবাদী যে নিকট ভবিষ্যতে সব কিছু পুরোপুরি রেকর্ড করা সম্ভব হবে।