পৃথিবীতে আর জন্মাবে না সাদা গণ্ডার

ঠিকানা ডেস্ক : কিছু মৃত্যু পাখির পালকের থেকেও হালকা। আর কিছু মৃত্যু পাহাড়ের মতো ভারী। মাও সে তুং-এর সেই অমোঘ বাণীই যেন মনে পড়ে যায় সুদানের মৃত্যুর ক্ষেত্রে। যাকে দেখে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিল গোটা পৃথিবী, সেই স্বপ্নকে কফিন বন্দি করেই পার্থিব দুনিয়া ছাড়ল ৪৫ বছরের সুদান।

কেনিয়ার যে বন্য পরিবেশে সুদান এতদিন পর্যন্ত দাঁপিয়ে বেড়িয়েছে, সেই ‘পেজেতা’তেই ২৪ ঘণ্টার লড়াইয়ের শেষে নিজেকে মৃত্যুর কাছে সঁপে দিলেন এই গ্রহের শেষ সাদা পুরুষ গণ্ডার। সুদানের মৃত্যুতে নির্বংশ হয়ে গেল সাদা গণ্ডারের বিরলতম প্রজাতি।

প্রজাতিটি নির্বংশ হতে চলেছে, কারণ সুদানের ঔরসে সন্তান লাভ করতে পারেনি ২৭ বছরের নাজিন এবং ১৭ বছরের ফাতু। সাদা গ-ারের নক্ষত্রবলয়ে নাজিন এবং ফাতুই শেষ দুই সদস্য। সম্পর্কের বিচারে নাজিন সুদানের মেয়ে আর ফাতু ওর নাতনি। আর সে কারণেই, পৃথিবীতে সাদা গণ্ডারের বংশেও দাঁড়ি পড়ল। পৃথিবী হারাল তার বিরলতম বন্য সৌন্দর্যকে।

জানা গেছে, অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিল সুদান। যে বিরল রোগ এই বিরলতম সাদা গ-ারটির শরীরে বাসা বেঁধেছিল তার কোনও সুরাহাই পেল না দিকপাল চিকিৎসকরা। দেশ-বিদেশের তাবড় থেকে তাবড়রা সুদানকে সুস্থ করার প্রচেষ্টায় রাতদিন এক করে ফেললেও শেষ রক্ষা হল না। বয়সের কারণেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল সুদান। শরীরে তৈরি হয়েছিল অনেক জটিলতা, শক্তি হারাচ্ছিল সুদানের অস্থিগুলিও। সঙ্গে দেখা দিয়েছিল চর্মরোগ।

জীবনের শেষ ২৪ ঘণ্টা সব থেকে বেশি কষ্ট পেয়ে অবশেষে মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের শেষ সাদা পুরুষ গণ্ডারের। কেনিয়ার বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, গত ১৯ মার্চ থেকে উঠে দাঁড়াতেই পারেনি সুদান। এরপরই কেনিয়ার ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সম্মানের মৃত্যুই দেয়া হবে তাকে। আর সেই মতো ‘ইথোনেসিয়া’ পদ্ধতিতে সুদানের যন্ত্রণাহীন মৃত্যু ঘটানো হয়।

কেনিয়ার ওই চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সুদানের শরীর থেকে কিছু জিনগত উপদান সংগ্রহ করা হয়েছে। যা দিয়ে পরবর্তীকালে সেলুলার প্রযুক্তির সহায়তায় নাজিন এবং ফাতুকে মা করার চেষ্টা করা হবে।