প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভেচ্ছা স্বাগতম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, জনগণের নেত্রী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজা শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন। তিনি অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটি আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। জানা গেছে, এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করবেন। আপনাকে নিউইয়র্কে শুভেচ্ছা এবং সুস্বাগতম।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর এবারের অংশগ্রহণ নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বৈঠক এবং আলোচনা করবেন। তার মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে প্রতি বছর এই সেপ্টেম্বর মাসে আসেন জাতিসংঘে। প্রত্যেকবার বাংলায় ভাষণ দেন। বিশ্বসভায় মাতৃভাষায় ভাষণ দান প্রথম শুরু করেন তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭৪ সালে। সেই ধারা তিনি অব্যাহত রেখেছেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যাঁরা মাতৃভাষা বাংলার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই-আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তাঁদের আত্মা নিশ্চয়ই খুশি হবে জাতিসংঘে বাংলার রাষ্ট্রনায়ক এবং সরকারপ্রধানদের বাংলায় ভাষণ দেয়ায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন প্রতি বছরই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অত্যন্ত উজ্জ্বল করে তোলে। কেননা তিনি এখন দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। তিনি কেবল বাংলাদেশকেই একটি উন্নত দেশে পরিণত করেননি, তিনি জাতিসংঘের এসডিজি (সাসটেনেইবল ডেভেলপমেন্ট গোলস) অর্জন করে বিশ্বের একজন অগ্রগণ্য রাষ্ট্রনায়কের সম্মান অর্জন করেছেন। যা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের আসনকে অনেক উঁচুতে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সব কিছু ছাপিয়ে তাঁর জাতিসংঘ সফর নিউইয়র্ক আসা, নিউইয়র্কতো বটেই, সমগ্র উত্তর আমেরিকা, এমন কি ইউরোপে বসবাসরত অনেক বাঙালিকে উদ্দীপ্ত এবং উজ্জীবিত করে তোলে। তিনি শুধু স্বদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে বিশ্বজুড়ে নন্দিত। তিনি গণতন্ত্রের মানসকন্যা। তাঁর উপর দেশের ১৬ কোটি মানুষের আস্থা। তাঁর উপস্থিতি তাই বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্ককে এক ভিন্নমাত্রা দান করে। বাঙালি কমিউনিটি গর্বিত, উদ্বেলিত ও উজ্জীবিত হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী প্রাণের বাঁধভাঙা আবেগ ও আকুতি প্রকাশের প্রেরণা সৃষ্টি করে।
আমরা প্রার্থনা করি, প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বনেত্রী, উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বিশ্বসভায় তাঁর সফর সফল হোক। তার অবস্থান সুখকর ও শান্তিময় হোক। আমরা, প্রবাসী যারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ও সম্ভ্রম খোয়ানো মা-বোনদের শ্রদ্ধা করি, তারা সব সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করি। বাংলাদেশের যে কোনো সাফল্যে উচ্ছ¡সিত হই। আনন্দিত হই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জনগণের নেত্রীই কেবল ভাবি না, প্রবাসবান্ধব নেত্রীও মনে করি। তাই আমাদের সমস্যা-সংকট, অভাব-অভিমান, আকুতি তাঁকে জানাতে একটুও দ্বিধাবোধ করি না। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর মত জনগণের একজন নেত্রীর কাছেই তো নিঃসংকোচে, নির্দ্বিধায় জানানো যায় জনগণের মনের কথা। আজ যা আমরা আপনাকে জানাতে চাই প্রবাসী কমিউনিটির পক্ষ থেকে, তার মধ্যে অনেক কথাই বারবার আপনাকে বলা হয়েছে। এ এমন কোনো দাবি নয়, যার উদ্দেশ্য আপনার সফরকে নিরানন্দময় করে তোলা, ভারী করে তোলা।
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ বিভিন্ন সময় আমেরিকা সফরে আসেন। জাতিসংঘের প্রধান দফতর নিউইয়র্কে বিধায় অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যারাই আসেন এ দেশে, তাদের প্রায় সবাইকেই নিউইয়র্কে অবস্থান করতে হয়। তাদের কাছেও প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সবিনয়ে তুলে ধরা হয়। আমাদের এসব দাবির পেছনে আরো একটি বড় কারণ- যারা স্বদেশ থেকে এখানে আসেন, তাদের অধিকাংশই স্বদেশের প্রতি প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। স্বদেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকার পেছনে প্রবাসীদের অবদানের কথা তারা স্বীকার করেন অকুণ্ঠ চিত্তে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পেছনে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের অবদান, সে কথাও বলতে তারা দ্বিধা করেন না। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে যেমন দেশের পাশে দাঁড়ান প্রবাসীরা, তেমনি বিনিয়োগের আহ্বানেও সাড়া দেন প্রবাসীরা।
আর প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো প্রবাসীদের অবদানের কথা সবসময় উচ্চকণ্ঠে স্বীকার করেন। তাইতো আপনার সামনে আমাদের আবদার বলেন, অভিযোগ আর দাবি বলেন, সহজভাবে তুলে ধরার সাহস জোগায়। কিন্তু শেষ হিসেবে যখন প্রবাসীদের কোনো দাবিই পূরণ হতে দেখা যায় না, কোন আকুতিই কারো মর্মস্পর্শ করে না, তখন আমাদের মন বেদনার্ত হয়। তার পরও আমরা আশা ছাড়ি না। বারবার বলি, এই বিশ্বাস নিয়ে- আমরাতো আপনারই মানুষ। আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই আজকের মৌখিক আশ্বাস, আজকের অপূর্ণতা ও হতাশা এক দিন ঠিকই বাস্তবে রূপ নেবে। পূরণ হবে প্রবাসীদের প্রত্যাশা। আমাদের প্রত্যাশা এমন কোনো অসম্ভব বা অযৌক্তিক নয়। সাধারণ দশজন বাঙালির মতো আমাদের চাওয়াও খুবই সাধারণ। দেশের মানুষের মোটা ভাত-মোটা কাপড়ের প্রত্যাশার মতো।
হে আমাদের প্রিয় নেত্রী, আমরা স্বদেশ কাতরতায় আক্রান্ত থাকি সব সময়। এক মুহূর্তের জন্যও নিজেদেরকে স্বদেশ-বিচ্ছিন্ন ভাবতে পারি না। আমরা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত শুনলে, তা যেখানেই হোক, দাঁড়িয়ে যাই শ্রদ্ধায়। জাতীয় পতাকা কোথাও উড়তে দেখলে ভালোবাসার আবেশে চোখ বন্ধ হয়ে আসে। একসময় নিউইয়র্ক-ঢাকা রুটে সেই পতাকা উড়িয়ে চলতো বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট। আমাদের জন্য বিকল্প পথে স্বদেশ ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও শুধু স্বদেশ কাতরতার জন্য বাংলাদেশ বিমানেই যাতায়াত করতো অধিকাংশ বাঙালি। সেই বিমান আকস্মিক এক দিন বন্ধ হয়ে গেল। কী কারণ বুঝতে পারলো না প্রবাসী বাঙালিরা। শুধু অনুভব করলো বুকের ভেতর বেদনা। সে বেদনা বুকে নিয়ে আজও প্রত্যাশায় প্রবাসীরা- কবে যেন আবার চালু হয়! এ দিকে বাংলাদেশে শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দুর্গতি আজও সম্পূর্ণভাবে গেল না।
আমাদের মনে ক্ষীণ আশা, এক দিন আমরা বাংলাদেশের লাল-সবুজের পাসপোর্ট পাবো দ্বৈত নাগরিক হিসেবে। তার জন্য লালফিতার জটিলতা সহজ হবে। বৈষম্যের বেড়াজাল ছিন্ন হয়ে আমরাও সমমর্যদায় প্রতিষ্ঠিত হবো। প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এক দিন জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের জন্য অন্তত ১০টি আসন সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা রাখবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এ দাবি অনেকদিন আগেই তুলেছিলেন প্রবাসীদের অকৃত্রিম বন্ধু, এক সময়ের সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। সে প্রত্যাশা আজও প্রবাসীরা হৃদয়ে লালন করেন। আপনি প্রবাসীদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিশ্চয়ই উদ্যোগ নেবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কথা উঠেছে। এখানকার প্রবাসীদের সেই আশা আদৌ পূরণ হবে, নাকি কথার কথা হয়ে থাকবে, এখনো জানে না কেউ। তবে ব্যক্তিগতভাবে আপনি নজর দিলে সবই বাস্তবে রূপ নেবে- এ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আপনি চাইলে নিউইয়র্কে সোনালী ব্যাংকের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করাও অসম্ভব হবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী মনের এসব ভাবনা আপনি শুধু গুরুত্ব দেবেন না, দরদ নিয়ে, ভালোবাসা নিয়ে তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবেন, আমরা বিশ্বাস করি। তবে কমিউনিটি-বান্ধব একটি সংবাদপত্রের দায়িত্ব হিসেবে আপনার গোচরে আনা ‘ঠিকানা’ তার কর্তব্য জ্ঞান করে। সেই অনুভব থেকেই এ চেষ্টা, আপনার মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলা উদ্দেশ্য নয়। আপনার সফর নিরানন্দময় হোক, সে প্রয়াসও নয়। আপনার সফর আনন্দময় হোক, সফল হোক- এ আমাদের একান্ত আন্তরিক প্রার্থনা। স্বদেশে-প্রবাসে আমাদের আশা-আকাক্সক্ষা-স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য একমাত্র আপনিই আমাদের আশার বাতিঘর।
আমরা জানতে পেরেছি, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে আপনার শুভ জন্মদিন উদযাপন করা হবে। ঠিকানা এবং প্রবাসী কমিউনিটির পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে আপনাকে জানাই- ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ’!