প্রবাসীদের অভিনন্দন মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করলেন ড. মোমেন

ঠিকানা রিপোর্ট : পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের একদিন পরই মার্কিন নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের কথা জানালেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মন্ত্রী হিসেবে গত ৮ জানুয়ারি প্রথমবার মন্ত্রণালয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে মার্কিন নাগরিক হয়েছিলাম। আমি সেটি প্রত্যাহার করেছি।
ড. মোমেন বলেন, দৃঢ় ভিত্তি, বিশ্বাস ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে আমরা বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলো সঙ্গে অংশীদারিত্ব চাই। রূপরেখা অর্জনের জন্য যে বিনিয়োগ দরকার সেটির ক্ষেত্রে আমরা সহায়ক ভূমিকা পালন করবো, অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করবো। আমরা ইতোমধ্যে অর্থতৈনিক কূটনীতির উদ্যোগ নিয়েছি। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ড. একে মোমেনকে প্রবাসীদের অভিনন্দন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত এবং সফল কুটনীতিক ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং আব্দুস সোবহান গোলাপ। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন। এই তিন প্রার্থীর মধ্যে সিলেট এক আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং মাদারিপুর থেকে জয়লাভ করেন আব্দুস সোবহান গোলাপ। বেবি নাজনীন নির্বাচনে পরাজিত হন।
ড. এ কে আব্দুল মোমেন শুধু এমপিই নির্বাচিত হননি, তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী করায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠন এবং নেতৃবৃন্দ ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন যোগ্য ব্যক্তিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূল্যায়ন করেছেন। তারা আরো বলেন. ড. মোমেন একজন সফল কূটনীতিক। এ ছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে দীর্ঘ দিন থেকে আন্দোলন- সংগ্রাম করেছেন। তারা বলেন, ড. মোমেনই একমাত্র ব্যক্তি যিনি প্রবাসে থেকেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। তার এই নিয়োগে আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত। তারা বলেন, নিউইয়র্কের গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী ড. এ কে মোমেনকে বলেছিলেন, আপনাকে আমার প্রয়োজন, আপনি দেশে চলে আসুন। প্রধানমন্ত্রীর আহবানে ড. এ কে মোমেন প্রবাসের সুন্দর জীবন ছেড়ে দেশে চলে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কথা রেখেছিলেন, যে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে মূল্যায়ন করেছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসীদের কোন কন্ঠ ছিলো না, এবার আমরা একটি মন্ত্রণালয় পেয়েছি।
ড. এ কে মোমেনকে অভিনন্দন জানান বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, দি অপটিমিস্টের কর্মকর্তা রফিক উদ্দিন চৌধুরী রানা, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, সভাপতি ডা. ফেরদৌস খন্দকার, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক জেড চৌধুরী জুয়েল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি সৈয়দ বসারত আলী, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাখাওয়াত বিশ্বাস, আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া প্রমুখ।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ড. এ কে মোমেনকে অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো প্রমাণ করেছেন তার সরকার প্রবাস বান্ধব সরকার। তিনি একজন যোগ্য এবং সফল কুটনীতিককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও ড. এ কে মোমেনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ড. মোমেন যোগ্য লোক, যোগ্য লোককেই প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ড. মোমেন দীর্ঘদিন থেকেই আমাদের সাথে আন্দোলন- সংগ্রামে ছিলেন। তিনি ক্যারিয়ার কুটনৈতিক ছিলেন না, তারপরের প্রধানমন্ত্রী তাকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি তার মেধা দিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন, যা অতীতে দেখা যায়নি। সারা বিশ্বের বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তিনি দেশকে অনেক দিয়েছেন, আরো দেবেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ড. এ কে মোমেন শুধু বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী নন, প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতিনিধি এবং গর্বও বটে। আশা করি তিনি দলমর্তের উর্ধ্বে উঠে প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ রক্ষা করবেন এবং তাদের পাশে থাকবেন।
নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ড. মোমেনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী করার জন্য। তিনি ড. মোমেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ড. মোমেন দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে আমাদের সাথে আন্দোলন- সংগ্রাম করেছেন। তিনি অবশ্যই আমাদের গর্ব। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়ে তাকে সম্মানিত করেননি, প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও সম্মান জানিয়েছেন।