প্রবাসীদের আনন্দ-উল্লাস কেড়ে নিল করোনা

ঠিকানা রিপোর্ট : করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এখনো করোনার তাণ্ডব চলছে। প্রায় তিন মাস ঘরে বন্দী থাকার পর নিউইয়র্কবাসী গত ৮ জুন ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পায়। অর্থাৎ ৮ জুন থেকে নিউইয়র্কের লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয় নানা প্রতিষ্ঠান। এখনো নিউইয়র্কের পার্টি হল ও রেস্টুরেন্টের ভেতরে খাওয়া বন্ধ। যে কারণে রেস্টুরেন্টের মালিকেরা নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো এবং মেয়র বিল ডি ব্লাজিওর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। নিউইয়র্কের পার্ক ও সমুদ্রসৈকতগুলো সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বনভোজন করার অনুমতি নেই নিউইয়র্ক সিটিতে। নিউইয়র্কে যারা বসবাস করেন, তাদের বছরের অর্ধেক সময় শীতের মধ্যে থাকতে হয়। তারা অপেক্ষা করেন সামারের জন্য। সামার এলেই তারা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনেক সংগঠন রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রায় ৩০০ নথিভুক্ত সংগঠন রয়েছে। নথিভুক্তির বাইরেও অনেক সংগঠন রয়েছে। এই সংগঠনগুলো সামার এলেই বিভিন্ন পার্কে বনভোজনের আয়োজন করত। সংগঠন ও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার কারণে প্রতি সপ্তাহেই কয়েকটি করে বনভোজন হতো। বিশেষ করে, সপ্তাহের শনি ও রোববার ছিল যেন বনভোজনের জন্যই নির্ধারিত। বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, এস্টোরিয়া থেকে বনভোজনের বাসগুলো ছেড়ে যেত। শনি ও রোববার সকালে দেখা যেত বিশাল লাইন। এবার সেই চিত্র নেই। এই কঠিন প্রবাসজীবনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বছরের একটি দিন আনন্দ-উৎসবে কাটান। মহামারি করোনা এবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সব আনন্দ-উৎসব কেড়ে নিয়েছে। তবে জন্মদিন ও ছোটখাটো পার্টি চলছে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ও আপস্টেটে পার্টি হলে ৫০ জনের অনুমতি দেওয়া আছে। আবার অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে বিভিন্ন পার্কে গিয়ে সীমিত আকারে আনন্দ-উৎসব করার চেষ্টা করছেন। কেউবা যাচ্ছেন নায়াগ্রা ফলসে। তবে পার্টিগুলোতে ৫০ জনের অনুমতি থাকলেও অধিকাংশ পার্টিতে ৫০ জনের বেশি লোকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। বনভোজন না হওয়ার কারণে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত। এমনিতেই করোনায় রেস্টুরেন্টে নেই ব্যবসা। তার ওপর নেই বনভোজন। অনেক ব্যবসায়ী অপেক্ষা করে থাকেন রমজানের ইফতার পার্টি এবং বনভোজনের ব্যবসার জন্য। এবার তাও হলো না। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা কঠিন সংগ্রাম করছেন। তারা এবার ব্যবসা করতে পারেননি। তাদের রেগুলার ব্যবসা তো নেই-ই, সেই সাথে কোনো পার্টির ব্যবসাও নেই। তারা বলেন, বনভোজন ও ইফতার পার্টিতে তারা অতিরিক্ত আয় করতেন, যা দিয়ে সারা বছরের ব্যবসার মন্দাটা কাটিয়ে নিতেন। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে সেটা ছিল অতিরিক্ত ব্যবসা। তারা আরো বলেন, এভাবে আর কয়েক মাস চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে তাদের চলে যেতে হবে। তারা আশা করছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মেয়র ও গভর্নর রেস্টুরেন্টের ভেতরে বসে খাওয়ার অনুমতি দেবেন।