প্রবাসীদের নিয়ে নানা রকম প্রতারণার ফাঁদ

ধান্ধায় ব্যস্ত অনেকে ॥ খুলছেন নতুন দোকান

ঠিকানা রিপোর্ট: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীরা রয়েছেন। উন্নত জীবনের আশায় তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। তাদের প্রেরিত অর্থে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল। বাংলাদেশের প্রতিটি সরকার প্রবাসীদের দুঃখ- দুর্দশা লাঘবের কথা বললেও এখনো পর্যন্ত প্রবাসীদের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এমন কি প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে গিয়েও শান্তিতে থাকতে পারেন না। তাদের জয়গা- সম্পত্তি, বাড়ি ঘর সন্ত্রাসীরা দখল করে নেয়। এমন বহু ঘটনা আছে প্রবাসী বাংলাদেশেীদের সম্পদ বেদখল হয়ে গিয়েছে। দেশে বেড়াতে গেলে এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয় প্রবাসীদের হয়রানি। চাঁদাবাজীর কথা না বলাই ভাল। সম্পত্তির কারণে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু সেই সব ঘটনার কোন বিচার হয়নি। আবার অনেকে প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসেছেন। সরকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কিছু করেনি। প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থেও কথা বলে গত কয়েক বছরে নতুন নতুন ধান্ধা শারু হয়েছে। তারা এনআরবির কথা বলে নতুন নতুন দোকান খুলছেন। সেই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক আসলে প্রবাসীদের নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ অনুষ্ঠান করেন। আবার ইদানিং কেউ বাংলাদেশে আবার কেউবা প্রবাসে অনুষ্ঠান করছেন। তাদের স্লোগান প্রবাসীদের স্বার্থের কথা থাকলেও ভিতরে ভিতরে তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। এ সব অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কোন সম্পৃক্ততা থাকে না। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কমিটিতে নেয়া হয় না। তারা তাদের পাটর্নারদের নিয়ে কমিটি করেন। মূল কথা হচ্ছে তারা সরকারের কাছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। প্রবাসীদের স্বার্থের কথা বলে দেশে এবং প্রবাসে চাঁদাবাজি করছেন।
অতি সম্প্রতি ব্রিজ টু বাংলাদেশ নামে একটি কোম্পানি এন আর বি নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশে একটি কনফারেন্স করতে যাচ্ছে যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে টাকা কামানো। হিউস্টন কমুনিটির কিছু সুযোগ সন্ধানী নেতা যারা ব্যাবসা বা বাণিজ্যের সাথে কোনো সম্পৃততা নেই তারাই দেশে গভর্নমেন্টের কিছু লোককে ভুল বুঝিয়ে এন আর বি নাম ব্যবহার করে এই কনফারেন্স করতে যাচ্ছে। কনফারেন্সটি আগামী ২৬ ও ২৭ এ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় করতে যাচ্ছে । বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই কনফারেন্সের পুরা খরচ বাবদ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে ম্যাক্স গ্রুপ নামক একটি বাংলাদেশী কোম্পানি । প্রশ্ন হচ্ছে কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের একটি লোকাল কোম্পানি কোটি কোটি টাকা খরচ করছে এন আর বি দেরকে নিয়ে । এদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে গভর্নমেন্টের কাজ এই সিন্ডিকেটের মাধমে বের করে নেয়া । ব্রিজ টু বাংলাদেশ আরো প্রচার করছে যে প্রধানমন্ত্রী এই কনফারেন্স উদ্বোধন করবেন এবং সব বড় বড় মন্ত্রীরা এখন এই কনফারেন্সে আসার জন্য লাইন ধরেছেন । এদিকে অনেক এন আর বি ইঞ্জিনিয়ার্স এই কনফারেন্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন । শোনা গেছে মাত্র ৫০ জনের মতো লোক এই কনফারেন্সে এখন পর্যন্ত রেজিস্টার করেছে যার বেশিরভাগ এর অর্গানাইজিং কমিটির সাথে জড়িত । অনেক এন আরবি প্রবাসী এই কনফারেন্সের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই রকম বিতর্কিত কনফারেন্স থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেন। ম্যাক্স গ্রুপ এবং ব্রিজ টু বাংলাদেশের আসল উদ্দেশ্য গভর্নমেন্টের কাজ বাগানো । কোন ( ঈঙঘঊ ) ২০১৯ নামে যে কনফারেন্স আগামী ফেব্রুয়ারী ২৬ এন্ড ২৭ এ ঢাকার প্যান পেসিফিক হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ সরকারের অনেক সংস্থার লোগো ব্যবহার করা হয়েছে কোনো পারমিশন ছাড়া । সরকারের বিভিন্ন সংস্থা যাতে কোনো প্রকার প্রতারনার শিকার না হয় তার জন্য সতর্ক থাকা দরকার । এ ধরণের এন আরবি কনফারেন্স এর আগেও হয়েছে যা কমিউনিটিকে বিভক্তি ছাড়া কিছুই লাভ হয়নি ।
এদিকে একই ধান্ধার উদ্দেশ্যে গত ২৬ জানুয়ারি নিউইয়র্কের জ্যামাইকার একটি পার্টি হলে আরেকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানেও বিতর্কিত ব্যক্তিদের মঞ্চে বসানো হয়। তারাও প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থের কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তারা সরকারের উন্নয়নে সহযোগিতা করতে চান বা উন্নয়নে অশিংদার হতে চান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা আসলে সরকারের উন্নয়নে সহযোগিতা নয় নিজেদের উন্নয়নে কাজ করতে চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রবাসবান্ধব সরকারের সুযোগ নিয়ে অতিসম্প্রতি এই সব ধান্ধাবাজরা নতুন ধান্ধা শুরু করেছেন। এদের কাজ থেকে সরকারের দূরে থাকা উচিত। অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, সরকার যদি সত্যি সত্যি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য কিছু করতে চান তাহলে তা প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা উচিত।