প্রবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস পালন

ঠিকানা রিপোর্ট : দেশের ন্যায় প্রবাসেও যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাস, জাতিসংঘে বাংলাদেশ দূতাবাস, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেট, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অঙ্গ সংগঠন, বাংলাদেশ সোসাইটি, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক, জালালাবাদ এসোসিয়েশন, বিয়ানীবাজার সমিতিসহ প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে। অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিলো প্যারেড, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা একটি দেশ পেয়েছি। যে দেশের পাসপোর্ট নিয়ে আমরা প্রবাসে। কোন কোন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসা করা হয়। আবার কোন কোন অনুষ্ঠানে সরকারের কঠোর সমালোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং সঠিক পথেই বাংলাদেশ চলছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আবার অন্যরা বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংকট হচ্ছে গণতন্ত্রের সংকট। এই সংকট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আর বেরিয়ে আসতে হলে সবার আগে প্রয়োজন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৮ উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে স্থায়ী মিশনে জাতীয় পতাকার আনুষ্ঠানিক উত্তোলন এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।

বিকেল ৬টায় মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বিদেশী অতিথিদের জন্য দিবসটি উপলক্ষে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সেফ দ্য ক্যাবিনেট রাষ্ট্রদূত ফ্রান্টিসেক রুজিক্কা, জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্ড সাপোর্ট এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ব্রাজিল, কানাডা, সৌদিআরব, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, ফিলিপাইন, বেলজিয়াম, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কিউবাসহ প্রায় শতাধিক দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি/উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক এবং জাতিসংঘ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেন। এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

আমন্ত্রিত বিদেশী মেহমানদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, “এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ আমরা জাতীয়ভাবে উন্নয়নের বেশ কিছু মাইলফলক অর্জন করেছি। প্রথমবারের মতো এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন এরমধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই অর্জন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। ইতোমধ্যেই আমরা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। আগামী মাসে ফ্লোরিডার কেপ কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপন করা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১”।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার, মাথাপিছু আয়ের ক্রমবৃদ্ধি, দারিদ্র্য সীমা হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও রপ্তানী আয় বৃদ্ধিসহ নানাবিধ ইতিবাচক অর্থনৈতিক উপাত্ত তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূতের বক্তৃতায় উঠে আসে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, পদ্মাসেতু ও অন্যান্য মেগা প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনে সক্ষমতা বিনির্মাণ এবং আইসিটি সহ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সাফল্যের কথা।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের অংশগ্রহণের ৩০ বছর পূর্ণ করছি। এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা শান্তি বিনির্মাণ, টেকসই শান্তি, অভিগমন ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের কর্মকান্ডে সুদৃঢ় ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিরোস্লাভ লাইচ্যাক এর বক্তব্য পাঠ করে শোনান তাঁর শেফ দ্য ক্যাবিনেট রাষ্ট্রদূত ফ্রান্টিসেক রুজিক্কা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ বিস্ময়কর অগ্রগতির পথে। বাংলাদেশের এই সাফল্য বিশ্ববাসীর জন্য একটি শুভ বার্তা। গর্বের বিষয়”।

বিদেশী মেহমানগণের সকলেই বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রা, বিশেষ করে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের অসামান্য সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তাঁরা প্রত্যাশা করেন আগামী দিনে সকল চ্যালেঞ্জ সফলতার সাথে মোকাবিলা করে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানটিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, জেনোসাইড-৭১ ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র-এর সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরীসহ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতি কর্মী, নাট্যকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতা-কর্মী ও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সোসাইটি
শিশুদের মনোজ্ঞ কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করলো বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক। ২৫ মার্চ রোববার ৮৬ স্ট্রিট, হুইটনি এভিনিউর নিজস্ব কার্যালয়ে মহান স্বাধীনতার ৪৭ বছর উদযাপনে আরো ছিল গান ও আলোচনা। বাংলাদেশ সোসাইটির কুইন্স শাখার বাংলা স্কুলের শিক্ষিকা পারভীন সুলতানা তার ৩০ জন শিক্ষার্থী এবং ব্রুকলিন বাংলা স্কুলের শিক্ষিকা ফারজিন রাকিবা তার ১০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সোসাইটি ভবনে উপস্থিত হন। এ সময় প্রতিটি শিশুই বাংলাকে ভালোবেসে নিজ নিজ কবিতা শুনিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা মনিকা রায় বলেন, আমরা সত্যি আনন্দিত যে, আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মকে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তাদের মধ্যে বপন করতে পেরেছি। এখন ওরা নিশ্চয় এগিয়ে যাবে স্বমহিমায়। অনুষ্ঠানে গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করেন চন্দন চৌধুরী, মনিকা রায়, বাবলী হক, এবং খাইরুল ইসলাম সবুজ। বক্তব্য রাখেন সভাপতি কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহীম হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী। আরো উপস্থিত ছিলেন আব্দুল খালেক খায়ের, আবুল কালাম ভূঁইয়া, রিজু মোহাম্মদ, নাদির এ আইয়ুবসহ অন্যরা।

জালালাবাদ এসোসিয়েশন

জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনক এর উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে ২৫ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় এসোসিয়েশন কার্যালয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক ডাঃ জিয়া উদ্দিন আহমেদ। এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল খানের সভাপতিত্বে ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব কয়ছর রশীদের পরিচালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এম এ বাছিত, বিশিষ্ট কমিউনিটি লীডার এমাদ চৌধুরী, এসোসিয়েশনের ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য একলিমুজ্জামান নুনু,জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী, কমিউনিটি লীডার এডভোকেট নাসির উদ্দিন ,মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটির সভাপতি ফজলু মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান আনা মিয়া,তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জুয়েল, এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল, সহ সভাপতি ও উদযাপন কমিটির আহবায়ক মোশাররফ আলম, সহ সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান শেফাজ, কোষাধ্যক্ষ আতাউল গনি আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসাইন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিলেট সদর থানা এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ বাবু, কুলাউড়া এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন জালাল, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুল মতিন, শামীম আহমেদ, আকবর হোসেন স্বপন, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ,মুমিত চৌধুরী তানিম প্রমুখ৷
এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি সফি উদ্দিন তালুকদার ,সহ সভাপতি শাহ আলাউদ্দিন, ক্রীড়া সম্পাদক বুরহান উদ্দিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মানিক আহমেদ, মহিলা সম্পাদিকা সুতিপা চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য পারভেজ আহমেদ, শাব্বির হোসেন, সৈয়দ লোকমান হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে একাত্তরের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠংানে ছায়ানটের শিল্পী তাসনিম জাহান সহ সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুতিপা চৌধুরী ,লুসি,সুলতানা ডলি প্রমুখ৷ কবিতা আবৃত্তি করেন ডাঃ জিয়া উদ্দিন ও আনোয়ারুল হক লাভলু।

যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ

গত ২২ মার্চ জ্যাকসন হাহটসের পালকি পার্টি হলে জাকজমকপূর্ণ পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা মোমতাজ শাহনাজের সভাপতিত্বে ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা জুুই ইসলামের পরিচালনায় উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ ও স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাহিদা বেগম হ্যাপি, গীতা থেকে পাঠ করেন সাংগঠনিক সম্পাদিকা সবিতা দাস, পরে সকল শহীদের স্বরণে একমিনিট নিরবতা পালন সহ জাতীয় সংগীতের পর প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পিছনে নারীদের ভূমিকা ও ক্ষমতায়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিদেশে এই ব্যস্ত জীবনে সংসার ছেলেমেয়ে কাজ সব সামলিয়ে দেশের জন্য মহিলারা যে ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার ভূয়সী প্রসংসা করেন এবং তাদের সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য সকলকে আহবান জানান। বিশেষ অতিথি ড. সিদ্দিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহিলারা মায়ের জাতি। তাদের স্থান সকলের উপরে। প্রধান বক্তা তাঁর বক্তব্যে মহিলা আওয়ামী লীগের বন্ধ পথগুলোকে অতিক্রম করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করেন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সেলিনা আজাদ, রওশন বেগম, জাহানারা আলী, কুষ্টিয়া মহিলা আওয়ামীলীগের প্রাক্তন সভাপতি নূরজাহান বেগম (বেগম রোকেয়া পদক প্রাপ্ত), আওয়ামীলীগের প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক মোঃ সোলেয়মান আলী, বিশিষ্ট সাংবাদিক নিনি ওয়াহিদ, স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন আজমল, সবিতা দাস, লাইলী বেগম, রফিকুল ইসলাম, মিতা রহমান, জুলি রত্মা, রেহানা পারভিন, সানজিদা সুমী, নাজমা আক্তার, ওয়াহিদা হক মিতু, আফরোজা গুলনাহার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, শরিফ কামরুল আলম হীরা সদস্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, এম লতিফুল রহমান (পিএস প্রতিমন্ত্রী), মাজেদুল ইসলাম (এপিএস প্রতিমন্ত্রী), এম মোল্লা মাসুদ, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এম,এ, হাসান, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগ, অজান্তা ভৌমিক সদস্য যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ, দেওয়ান বজলু, ড. আব্দুল বাতেন, লীলা চৌধুরী, রুমা ইসলাম, রেবেয়া সুলতানা, কানিজ ফাতেমা, ফজলে আলী, সরিফ ফরিদুর জামান,মুক্তিযোদ্ধা সরাব সরকার, মোঃ আনিছুর রহমান, মোঃ মোস্তফা, শামীমা সুলতানা, ইসাক মোল্যা। বক্তব্যের শেষে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য়. ৩য়, ৪র্থ স্থান অধিকারীদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির হাত দিয়ে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। নতুন প্রজন্মের পুরস্কার প্রাপ্তরা রাইসা আলী, সুসমিতা দেবনাত, সামিয়া আলী ও সুব্রজিত।

পুরস্কার বিতরন শেষে জাতিসংঘ বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সবশেষে যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা মোমতাজ সাহানাজ প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সকল নেত্রী, সাংবাদিকসহ উপস্থিত সবাইকে স্বাধীনতার সংগ্রমী শুভেচ্ছা ও ধ্যনবাদসহ সকলকে ডিনারের আহ্বান জানিয়ে সভায় সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
নিউইয়র্কে প্রজন্ম ’৭১ ও বাংলাদেশ ক্লাব

লুৎফা শাহানা জানান, বাংলাদেশের ৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ২৪ মার্চ, শনিবার, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল স্বাধীনতার কবিতা উৎসব, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ি পার্টি হলে এর আয়োজনে ছিল প্রজন্ম ’৭১ ও বাংলাদেশ ক্লাব ইউএসএ।
বাংলাদেশ ক্লাব যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি নুরুল আমিন বাবুর সভাপতিত্বে এবং প্রজন্ম ’৭১ যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি শিবলী সাদেক শিবলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর পরপরই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এ সময় অতিথি ও আগত মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে সম্মান জানান আয়োজক কমিটি।

অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি ও স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন নীরা কাদরী, মাহফুজ হায়দার, পারভিন সুলতানা, লুবনা কাইজার, মুজিব বিন হক, শামস আল মমীন, মিশুক সেলিম, আনোয়ার সেলিম, জাহাঙ্গীর শাহ নেওয়াজ ডিকেন্স, সৈয়দা পারভিন আক্তার, ফাসির কবির কাব্য, লিউনা মুহিত ও শামীম আরা। দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন নিপা জামান, মিলন কুমার রায়, মোহর খান, রুবীনা শিল্পী, স্বর্ণা, রওশন বেগম, সম্পা জামান ও হেরা।

গান ও কবিতার মাঝে মাঝে বক্তারা তাদের বক্তব্যে নতুন প্রজন্মকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকাকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা ছিলেনÑ যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, প্রধান বক্তা ছিলেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জনাব শাহীন, যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, জাকারিয়া চৌধুরী, আবদুল বাতেন, খোরশেদ আনোয়ার বাবলু, সামসুদ্দিন আজাদ, জাকারিয়া চৌধুরী, হুসনে আরা হাসি, মোজাহিদুল ইসলাম, শিরিন বকুল, কামাল হোসেন মিঠু, ওবায়দুল্লা মামুন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য স্বাধীনতা অর্জন করি তাঁকে রাজাকার আলবদররা নৃশংসভাবে সপরিবাওে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই খুনীদের বিচার করে ফাঁসী কাষ্ঠে ঝুলিয়েছেন। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের শিখরে আসীন। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে গর্বিত সদস্য। এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে বারবার নির্বাচিত করতে হবে।

জনাব শাহীন প্রবাসে প্রজন্ম ৭১, এবং বাংলাদেশ ক্লাব, ইউইসেএর এমন একটি চমৎকার আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, প্রবাসীরা নানাভাবে বালাদেশকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি
বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইন্ক মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। স্বাধীনতা দিবসের প্রেক্ষাপটে ল’ সোসাইটির সভাপতির অফিসে ২৫ মার্চ রাত আটটায় এই আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচকগণ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ’ল সোসাইটি ইইউএস ইনক এর সভাপতি এডভোকেট কাজী শামসুদ্দোহা এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এডভোকেট লুৎফর রহমান হিমেল। অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত ৩০ লক্ষ শহীদের বিদেহী আতœার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে ল’ সোসাইটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ড

বস্টন থেকে প্রতাপ চন্দ্র শীল জানান, বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা দিবস। গভীর শ্রদ্ধা ও দেশাত্মবোধের মধ্যে দিয়ে গত ২৪ মার্চ শনিবার বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ড (বেইন )মহান একুশ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেন। স্থানীয় প্রশাসনের আইনি জটিলতার কারনে গত মাসের নির্ধারিত সময় ও স্থানে মহান একুশ উদযাপন সম্ভব না হওয়ায় বেইন এবছর মহান একুশ এবং স্বাধীনতা দিবস একই সাথে উদযাপন করেন। স্থানীয় কমিউনিটি আক্টিভিস্ট ইসরাত সায়রা মুনের পরিচালনায় ম্যাসাচুসেট ক্যামব্রিজ স্থানীয় স্কুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলেওয়াত করেন ডাঃ আবদুল হাকিম। গীতা পাঠের ঘোষিত জৈনক ব্যক্তি মহোদয়ের অনুপস্থিতির পর পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ করে শুনান ফাল্গুনী বডুয়া।

এর পরই হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ড (বেইন) ২০১৮-১৯ সালের নতুন কার্যকরী কমিটির পরিচিতি । নব নির্বাচিত সদস্যরা হলেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নুমান চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন মাহমুদ, জেনারেল সেক্রেটারি মাহাবুব খোদা ( খোকা), অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ কাউসারুল হক, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, কালচারাল সেক্রেটারি রেফায়া জামান প্রিয়া, ট্রেজারার ফাল্গুনী বডুয়া, মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান চৌধুরী, এডুকেশন সেক্রেটারি রোকেয়া জাহান এলিজা, স্পোর্টস সেক্রেটারি ওমর এফ সামি, এক্সিকিউটিভ মেম্বার মনিকা রহমান, পঙ্কজ দাস ও রাজিবুর রহমান।

মহান একুশ ও স্বাধীনতায় সকল শহীদের সন্মান জানিয়ে অনুস্টানে আগত অতিথিদের সন্মানে, আয়োজক সকল কর্মকর্তাসহ সহযোগী সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নুমান চৌধুরী। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদ ও ৫২র ভাষা শহীদের স্বরণে মঞ্চে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা ঞ্জাপন করেন বেইনের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটি। এরপর স্থানীয় অন্যান্য সংগঠন, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড আর্কিটেস, বস্টন বাংলাদেশ বিজনেসেস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্রোগ্রেসিভ এলাইনস অব নর্থ আমেরিকা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বস্টন বাংলাদেশ বুডিস্ট এসোসিয়েশন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি এল্যামনাই এসোসিয়েশান, নিউ ইংল্যান্ড যুব দল, ফলরিভার ব্যান্ডএর কর্মকর্তাগণ পৃথক পৃথক ভাবে সকল শহীদের উদ্দেশ্য পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ভাষা আন্দোলনের আলোকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বেইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন মাহমুদ।

এর পরই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনে ছিলেন টিংকু বডুয়া, স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে রেফায়া জামান, প্রিয়া, যাহীন, উর্বানা, অহনা, ঐশী, ইশা, দীনা, আবড়ার, স্বপ্নিল, সুস্মিত, নিদিভা, আর্শিয়া, আনুশেয়, আরিভা অন্যতম। অতিথি শিল্পী সনিয়া খান ও প্রিয়া ইসলামের পরিচালনায় বাংলা আইডলের শিল্পীদের পরিবেশনা উপস্থিত সুধীরা উপভোগ করেন। এছাড়া অতিথি নৃত্য শিল্পীদের মধ্য ফারহানা চৌধুরী ববি ও কানিজ তাজিয়া আহমেদ নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরি করেন বেইনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ইমাম। সমগ্র অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করেন বস্টন বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন। উল্লেখ্য ১৯৭১ সালে ৭ মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বেইন নামক সংগঠনের জন্ম।

সেই থেকে আজ পর্যন্ত চরম দুঃসাহসিকতার সাথে বিশ্বের বুকে দেশের বাইরে প্রথম সংগঠন হিসাবে বেইন সমগ্র বাঙালি জাতি ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আজ সেই সংগঠন কেন যেন এক অজানা সংকীর্ণতায় দেশের জাতীয় অনুষ্ঠান উদযাপনেও দেশের সেই মহান স্থপতির নামটা পর্যন্ত স্মরণ করাকে অপ্রয়োজন ভাবেন। নাকি সমঝোতার ভেড়াজালে বেইন আষ্টে বন্দি এক নির্বাক প্রতিষ্ঠান। বেইনের এই আত্মদ্রোহ নিউ ইংল্যান্ডে বসবাসরত অনেককেই নীরবে কাঁদিয়ে যায় বারংবার।

টেক্সাস
হিউস্টন থেকে বুলবুল সিনহা জানান, গত ২৫ মার্চ দুপুরে স্থানীয় মহারাজা রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে উদযাপন করা হলো বাংলাদেশের ৪৮ তম মহান স্বাধীনতা দিবস। সম্মিলিতভাবে আয়োজক ছিলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টেক্সাস শাখা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হিউস্টন শাখা। প্রথমেই মঞ্চে আসন গ্রহন এবং মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা। স্টেট আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু নাসেরের সভাপতিত্বে এবং সিটি আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাদত হোসেন পরাগের উপস্থাপনা এবং পরিচালনায় মঞ্চে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ডক্টর এস এম নেওয়াজ এবং নিশান খান।সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সিটি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান, স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম বরকত এবং সেরনিয়াবাত। বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাপ্নিক খান, জুলফিকার কার্নি, জহুরুল ইসলাম, মোর্শেদ আলম সোহেল,জামিল মারুফ,নাদিম ভূইয়া অপু প্রমুখ। মঞ্চ ডেকোরেশনে ছিলেন জহির উদ্দিন মাহমুদ বাবলু ।আলোচনা সভার পর ছিলো স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা। শিল্পী স্বপ্না বীনার গান সবাইকে মুগ্ধ করেছে। আর নতুন প্রজন্মের পরিবেশনা ছিলো অসাধারণ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিলো সবাইকে দুপুরের খাবার পরিবেশন। এখানে খাবার পরিবেশনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন আহমেদ ওয়ালীউল্লাহ বাচ্চু।

কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন

নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহত্তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাংলাদেশের ৪৮তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জ্যামাইকার কিং কাবাব রেস্টুরেন্টে গত ২৫ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় সংগঠনের সভাপতি মো: আনোয়ার উদ্দিনের সভাপতিত্বে ‘স্বাধীনতার চার যুগে পদার্পণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো: এনামুল হকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি, বোর্ড অফ ট্রাস্ট্রি সদস্য ফার্মাসিস্ট মো: আবদুল আওয়াল সিদ্দিকী, সাবেক সভাপতি, বোর্ড অব ট্রাস্ট্রি সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রকৌশলী এ.কে.এম আশরাফুল হক, সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা বোর্ড অফ ট্রাস্ট্রি সদস্য হাবিব রহমান হারুন, সাবেক উপদেষ্টা ও সাধারণ সম্পাদক, বোর্ড অফ ট্রাস্ট্রি সদস্য মো: জাইদুল কবীর খান সারোয়ার, উপদেষ্টা ু তারক চন্দ্র পন্ডিত, সহ সভাপতি, জয়ন্ত শর্মা বিশ্ব, সহ সভাপতি মো: হুমায়ুন কবীর, সভাপতি মীনা ইসলাম, সহ সভাপতি আলী আহসান আকন্দ শামীম, সহ সাধারণ সম্পাদক মো: জাবির হোসেন তাকবীর, সহ সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রশিদ সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আলাউদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মো: বদরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ফয়সাল কবীর, দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুয়েল, কার্যকরী সদস্য মো: মেজবাহ উদ্দিন মুকুল, কার্যকরী সদস্য আশরাফুল আলম হিমেল, কার্যকরী সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম, কার্যকরী সদস্য রফিউল করিম খান সাজ্জাদ, কার্যকরী সদস্য মো: সাইফুল ইসলাম, মো: নজরুল ইসলাম, মো: আলী আকবর প্রমুখ।

বক্তারা উন্নয়নের পাশাপাশি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবী সহ দুর্নীতি দূরীকরণ, অবিলম্বে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস প্রণয়নের জোর দাবী জানান। আলোচনা সভার শুরুতেই সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সদ্য নির্বাচিত কিশোরগঞ্জ জেলা বারের সভাপতি এডভোকেট অধ্যক্ষ এম.এ.রশিদ কে অভিনন্দন জানানো হয়। সংগঠনের সভাপতি মো: আনোয়ার উদ্দিন নৈশ ভোজের মাধ্যমে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সাজুফতা সাহিত্য ক্লাব নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কের অন্যতম সাহিত্য সংগঠন সাজুফতা সাহিত্য ক্লাব নিউইয়র্ক স্বাধীনতার কবিতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। স্থানীয় সময় ২৫শে মার্চ রোববার কবি জুলি রহমানের আবাসস্থলে স্বাধীনতার কবিতা অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় প্রয়াত কবি রফিক আজাদকে। সাজুফতা সাহিত্য ক্লাব নিউইয়র্ক’র সভাপতি কবি জুলি রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে ভিন্ন আমেজের এ অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন কবি এবি এম সালেহ উদ্দিন। প্রথমে কবি শহীদ কাদরীর কবিতা পাঠ করেন নীরা কাদরী। একাধারে স্বরচিত কবিতায় থাকেন কবি রওশন হাসান, হাবীব ফয়েজী, মেহের চৌধুরী, কামরুন্নাহার রীতা, সাধন সিকদার, মাকসুদা আহমদ, মাসুম আহমদ, ড. দলিলুর রহমান, জুলি রহমান, ছন্দা বিনতে সুলতানা। আবৃত্তি শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্কের বলিষ্ঠ কন্ঠ গোপন সাহা, লুবনা কাইজার, মোঃ ইলিয়াস হোসেন এবং নতুন প্রজন্মের জনম। বাচিক শিল্পীগণ রফিক আজাদের কবিতা কন্ঠে ধারণ করেন এবং তাদের বলিষ্ঠ কন্ঠে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে অনন্য প্রাঞ্জল।

সর্বশেষ আকর্ষণ জুলি রহমানের গীতি কাব্য। ঘরের ইঁদুর কাটে দাওয়া নাম যে রাজাকার। এতে তবলায় সংগত করেন আরিফ এবং গানে আহমদ বাবলা সহ জুলি রহমান ও মেহের চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম এবং সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ’র সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, কথাশিল্পী নাসরীন চৌধুরী। কমিউনিটি নেতা আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদারের বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে টেলিকনফারেন্সে যোগ দেন কবি জুলি রহমানের বড় ভাই কবি ড. দলিলুর রহমান। তিনিও অসাধারণ আবৃত্তি করেন টেলিকনফারেন্সে।

অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশী আমেরিকানস

নিউইয়র্কে উৎসব আমেজে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসের ৪৭ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন করেছে অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশী আমেরিকানস। স্থানীয় সময় ২৫ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় বাঙালী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুল পার্টি হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানমালায় ছিল আলোচনা, আবৃত্তি ও সাইটেশান প্রদান।

অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশী আমেরিকানস’র চেয়ারম্যান হাসান আলীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মামুন আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন এলায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার – অ্যাসাল’র প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দীন, বিশিষ্ট কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ড. শওকত আলী, ডা. মোহাম্মদ বিল্লাহ, আমেরিকান-বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন ইনকের সভাপতি আবদুস শহীদ, বাংলাবাজার জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, মূলধারার নারী নেত্রী মাজেদা উদ্দিন, ডা. খালেদা বিল্লাহ প্রমুখ।

অতিথিরা ছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি এক্টিভিস্ট কেরামত আলী, মোবাশ্বির চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান চৌধুরী, আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মূলধারায় বিশেষ অবদানের জন্য মাফ মিসবাহ উদ্দীন, ড. শওকত আলী, ডা. মোহাম্মদ বিল্লাহ ও হাসান আলীকে নিউইয়র্ক স্টেট এসেম্বলীর সাইটেশন প্রদান করা হয়।

শেষে স্বাধীনতার কবিতা পড়ে শোনান কবি জুলি রহমান। অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশী আমেরিকানস’র সদস্যরা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী এতে অশ নেন। অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিল সিদ্দিকিয়া ফাউন্ডেশন ও হাসান আলী ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আমেরিকার মূলধারার সাথে বাঙালিদের সেতুবন্ধন রচনার জন্য হাসান আলীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশী প্রবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে। শিল্প সংস্কৃতিতেও বাংলাদেশীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশীরা কর্মঠ জাতি হিসেবে নিজেদের স্থান করে নিয়েছেন। বহুজাতিক সংস্কৃতির এই সমাজে বাংলাদেশী কমিউনিটি দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের জয়জয়কার।
বক্তারা প্রবাসে বাংলাদেশ নিয়ে নেগেটিভ কথা না বলে পজিটিভ বাংলাদেশকে তুলে ধরার আহ্বান জানান। যার যার অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্যও অনুরোধ জানান।

বক্তারা বলেন, আমাদের ঈদ হলিডেসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক অর্জন হয়েছে। এ অর্জনগুলো এমনিতে আসেনি। এর জন্য আমরা দাবি তুলেছি, অনেক সংগ্রাম করেছি। অনেক সাধনার পর এগুলো পেয়েছি। আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মূলধারার রাজনীতিতে কমিউনিটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আলী বলেন, মূলধারার সহযোগী সংগঠন হিসেবে তার সংগঠনটি নতুন প্রজন্ম ও মূলধারায় বাংলাদেশকে তুলে ধরাসহ কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে যাবে।

জাতীয় পার্টি যুক্তরাষ্ট্র শাখা

গত ২৫ মার্চ রোববার সন্ধ্যা ৭ টায় জ্যাকসন হাইটস্থ খাবার বাড়ী পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির উদ্যোগে বাংলাদেশের ৪৭তম মহান স্বাধীনতা দিবসের এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হাজী আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবু তালেব চৌধুরী চান্দুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র উপদেষ্টা সৈয়দ শওকত আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা গিয়াস মজুমদার, জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা এডভোকেট নাহিনা শান্তা, উপদেষ্টা আব্দুর নূর বড় ভূইয়া। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমেদ, সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য জসিম উদ্দিন চৌধুরী, সহ সভাপতি খন্দকার আলী নাছিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান চৌধুরী, যুব বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব হাসান সোহাগ, যুব বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক শফি আলম, জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি আব্দুল কাদির লিপু, সাধারণ সম্পাদক একেএম খায়রুল আলম, জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক শিল্পী শাহনাজ বেগম, সদস্য বাবলী হক, জাতীয় শ্রমিক পার্টির সহ সভাপতি আবিদুর রহমান, নিউইয়র্ক সিটি সভাপতি শুভংকর গাঙ্গুলী, নিউইয়র্ক স্টেট সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ হানিফ, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান মিলন ও সদস্য ফারহাদ সোলায়মান।

সভার শুরুতে শহীদদের প্রতি ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয় এবং নিহত সকল মুক্তিযোদ্ধার রুহের মাগফেরাত কামনা করে পরম করুণাময়ের দরবারে মোনাজাত করা হয়।

স্বাধীনতার স্বাদ আমরা এখনো পাই নি, যেদিন ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মোচন করে স্বনির্ভর একটি বাংলাদেশ হবে, যেখানে থাকবে না কোন অভাব অনটন। এই স্বাধীনতার মাসে আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের সোপানে পর্দাপণ করেছি।

বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার এই মাসে আমাদের সকলকে শপথ নিতে হবে পল্লীবন্ধু হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এর হাতকে শক্তিশালী করে আগামী দিনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় পর্দাপণ করে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা পালন করবো।