প্রার্থীতা ঘোষণা করেই আলোড়ন মিতার

বদরুন নাহার মিতা আলেক্সজান্দ্রিয়া ওকাসিও

ঠিকানা রিপোর্ট: আমেরিকার কংগ্রেস নির্বাচনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন নিউইয়র্কের নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি আলেক্সজান্দ্রিয়া ওকাসিও। তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতা জোসেফ ক্রাউলির বিরুদ্ধে। নির্বাচনের সময় মোটেও মনে হয়নি জোসেফ ক্রাউলি নতুন প্রজন্মের এই প্রতিনিধির কাছে পরাজিত হবেন। জোসেফ ক্রাউলিকে হারিয়ে আলেক্সজান্দ্রিয়া ওকাসিও পুরো আমেরিকার রাজনীতিতে আলোচিত হয়েছিলেন। এবার আলেক্সজান্দ্রিয়া ওকাসিওর বিরুদ্ধে প্রার্থীতা ঘোষণা করেই আলোড়ন তুলেছেন বাংলাদেশী বশোদ্ভ‚ত আমেরিকান, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং কম্যুনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ বদরুন নাহার খান মিতা। ইতিমধ্যেই বদরুন নাহার খান মিতাকে নিয়ে ইৈ চৈ শুরু হয়েছে। আমোরিকার মূল মিডিয়া তাকে জেঁকে ধরেছে। প্রতিদিনই কোন কোন মিডিয়া তার সাক্ষাতকার নিচ্ছে। সেই সব সাক্ষাতকারে বদরুন নাহার খান তার প্রার্থীতার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছেন। সেই সাথে বর্তমান কংগ্রেসওম্যান আলেক্সজান্দ্রিয়া ওকাসিওর সমালোচনা করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আলেক্সজান্দ্রিয়া ওকাসিও অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কিন্তু নির্বাচনের পর তাকে আর এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না।

নিউইয়র্ক : বদরুন নাহার খান মিতার ফান্ড রেইজিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। 

রাজনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মিতা বলেন, আমি আগে কখনো রাজনীতি করিনি। এবার শুরু করলাম। কোথাও না কোথাও থেকে আমাদের শুরু করতে হবে। তিনি ঠিকানার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি প্রবাসী বাংলাদেশী, ইমিগ্র্যান্ট, মুসলিম কম্যুনিটির স্বার্থে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, কোথাও আমাদের কোন প্রতিনিধি নেই, আমরা নতুন প্রজন্মকে সেই পথ দেখিয়ে যেতে চাই। অন্য দেশ থেকে আগত ইমিগ্র্যান্টরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করছে, আমরা বাংলাদেশ থেকে আগতরা কেন পারবো না আমাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে। আমরা যদি মূল ধারার রাজনীতির সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে না পারি তাহলে আমরা মেন্যুতেই থেকে যাবো। তিনি বলেন, আমরা মেন্যুতে থাকতে চাই না, আমরা টেবিলে থাকতে চাই। আরেক প্রশ্নের জবাবে ওকাসিওর সমালোচনা করে মিতা বলেন, আমি সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চাই। সবার শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই, আমি বয়স্কদের সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশী কম্যুনিটি বদরুন নাহার খান মিতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা সভা- সমাবেশ এবং ফান্ডরেইজিং করে যাচ্ছেন।

নিউইয়র্ক : বক্তব্য রাখছেন বদরুন নাহার খান মিতা।


বদরুন নাহার খান মিতাকে নির্বাচনের আহ্বানে নিউইয়র্কে ফান্ডরেজিং ডিনার

মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশী প্রতিনিধি প্রেরণের প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক্ট ১৪ এর কংগ্রেসওম্যান পদপ্রার্থী বদরুন নাহার খান মিতার ফান্ডরেজিং ডিনার অ্যান্ড রিসেপশান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেসে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন অব মৌলভী বাজার-আইএমএফ, নিউইয়র্ক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আয়োজক সংগঠনের কর্মকর্তা নজরুল হক, মঞ্জুর চৌধুরী জগলুল এবং হারুন আলীর পরিচালনায়
অনুষ্ঠানে কংগ্রেসওম্যান প্রার্থী বদরুন নাহার খান মিতা ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মূলধারার রাজনীতিক মোহাম্মদ এন মজুমদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন, মূলধারার রাজনীতিক আব্দুস সহিদ, মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল চৌধুরী, বিশিষ্ট রাজনীতিক আবদুর রহিম বাদশা, শিক্ষাবিদ শেখ আল মামুন, বিশিষ্ট রিয়েলটর মইনুল ইসলাম, সিপিএ আহাদ আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট রুহুল আমিন সিদ্দিকী, আলমাস আলী, শাহান খান, ফখরুল ইসলাম, বাছির খান, আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরী জাকি, হাসান আলী, নজরুল ইসলাম, ইমাম জাকি আহমেদ, আবদুল মুসাব্বির, বুরহান উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, সারোয়ার চৌধুরী, ফিজা ফজিলাতুন্নেসা, জালাল চৌধুরী প্রমুখ।

নিউইয়র্ক : বক্তব্য রাখছেন মইনুল ইসলাম। 

নিউইয়র্কে বসবাসরত মৌলভীবাজারবাসী ছাড়াও কমিউিনিটি নের্তৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী যোগ দেন এ অনুষ্ঠানে। ইউএসএনিউজঅনলাইন’র।

ফান্ডরেজিং সমাবেশে মিসেস মিতা বলেন, অভিবাসীদের অনেক সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অভিবাসী সমাজের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশী কমিউনিটিসহ ইমিগ্রেন্টদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া আদায়ে তিনি সদা সোচ্চার থাকবেন।
তাকে সমর্থনের জন্য তিনি বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

নিউইয়র্ক : সম্মাননা প্রদান। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বদরুন খান মিতার পাশে দাঁড়াতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে তার বিজয়। নির্বাচিত হলে তিনি ইউএস কংগ্রেসে অভিবাসী সমাজের কন্ঠস্বর হিসেবে জোরালো ভ‚মিকা রাখবেন। সে অধিকার ভোগের জন্যে প্রয়োজন সকলের সচেতনতা। এজন্য বসে থাকলে চলবে না, প্রয়োজন ভোট কাস্ট করা।
ফান্ডরেজিং ডিনারে বাংলাদেশী কমিউনিটির বেশ ক’জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।