প্রেমেই পতন মুগাবের

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : গণতান্ত্রিক শাসন ক্ষমতার উল্টোপিঠে স্বৈরতন্ত্রের ছায়া। বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শাসন করছিলেন দেশ। ছিলেন মাত্রাছাড়া ভোগবিলাসী; তা সত্ত্বেও সব মেনে নিয়েছিলেন জনগণ। জনপ্রিয়তাও ছিল আকাশচুম্বী। সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছিল; কিন্তু হঠাৎ অপ্রত্যাশিত এক প্রেমেই সব শেষ হয়ে গেল। জনরোষ, বিক্ষোভ আর চাপের মুখে ২০১৭ সালে পদত্যাগে বাধ্য হন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। কিন্তু জনতার এ ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু চার দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা মুগাবে নন। ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেস মুগাবে। ভালোবাসার আতিশয্যে ফার্স্টলেডি গ্রেসকেই নিজের জায়গায় অর্থাৎ জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট বানানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চরম বিলাসী আর দুর্নীতিপরায়ণ এই নারীকে মেনে নিতে পারেননি জিম্বাবুইয়ানরা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছরের মাথায় ৯৫ বছর বয়সে মারা গেছেন মুগাবে। এখন রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি ও ভাগ-বাটোয়ারা করে ভোগ করার কারণে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন তার স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে। নিজের চেয়ে বয়সে ৪১ বছরের ছোট গ্রেসকে মুগাবে বিয়ে করেছিলেন ১৯৯৬ সালে।

সেই সময় গ্রেস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন টাইপিস্ট ছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় মুগাবের হাত ধরেই তিনি উঠে আসেন জিম্বাবুয়ের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। ২০১৪ সালে তাকে ক্ষমতাসীন জানু পি-এফ পার্টির নারী শাখার প্রধান করা হয়। এরপর তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করার কথা শোনা যাচ্ছিল। নিজেও লড়াইয়ে নেমেছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়ার সঙ্গে। ফলে শেষ পর্যন্ত নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট মুগাবে। আর সেটাই শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। ৪১ বছরের বড় রবার্ট মুগাবের সঙ্গে প্রেম শুরু করেন গ্রেস। মুগাবে তখন বিবাহিত থাকলেও স্ত্রী স্যালি অসুস্থ ছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি মারা যান। ১৯৯৬ সালে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রেসকে বিয়ে করেন মুগাবে। গ্রেসের সংসারে তার তিন সন্তান। শেষ জীবনে স্ত্রী গ্রেস, মেয়ে বোনা এবং দুই ছেলে রবার্ট জুনিয়র ও বেলারমাইন চাতুঙ্গা তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠে। বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বরাবর সমালোচিত গ্রেসকে নিয়ে প্রায়ই লন্ডন, প্যারিস আর রোম যেতেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে ঘুরে ঘুরে প্রচুর কেনাকাটা করতেন গ্রেস। এতে তার কোনো ক্লান্তি ছিল না। একবার এক দোকানেই ৬০ হাজার ডলার খরচ করেছিলেন তিনি। আর তাই এক সময় তার নামই হয়ে যায় ‘গুসি গ্রেস’। মুগাবের সঙ্গে মিলে এভাবে জিম্বাবুয়ের জনগণের প্রায় ১০০ কোটি ডলার উড়িয়েছেন।