ফলাফল শূন্য

মুহম্মদ শামসুল হক :

(প্রথম পর্ব) : সুদীর্ঘকাল অসামান্য যশ ও সুখ্যাতির সঙ্গে রাজত্ব করার পর ইংল্যান্ডের সাবেক প্রজাবৎসল রাজা লিয়র বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন। বল-বীর্য হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা রোগব্যাধিও শরীরে স্থায়ী পালঙ্ক পেতে বসেছে। মনের রাজ্যেও পরিবর্তনের ঢেউ জেগেছে। সুবিশাল সাম্রাজ্যের প্রজাসাধারণের দেখভালের দায়িত্ব তিন কন্যা গনেরিল, রেগান ও কর্ডেলিয়ার ওপর ন্যস্ত করে জীবনের বাদবাকি অংশটুকু ধর্ম-কর্মে মনোনিবেশের সিদ্ধান্ত নিলেন পলিতকেশ রাজা লিয়র। শুরুতে ডাকলেন নিজের বড় কন্যা ও আলবেনির ডিউকের বধূ গনেরিলকে। বিপত্নীক ও বর্ষীয়ান পিতা লিয়রের প্রতি গনেরিলের মমত্ববোধ ও ভালোবাসার কথা জানতে চাইলেন। বাকপটিয়সী ও মিথ্যাচারিণী গনেরিল সভাসদদের উপস্থিতিতে বলল, পিতার প্রতি তার মমত্ববোধ ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার বর্ণনায় ভাষা হার মানতে বাধ্য। ন্যুব্জ দেহ এবং কুব্জ পৃষ্ঠ লিয়র কন্যা গনেরিলের অতিশয়োক্তি ও বাগ্মিতায় বিগলিত হয়ে বিশাল সাম্রাজ্যের এক-তৃতীয়াংশ তাকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এরপর ডাক পড়ল লিয়রের দ্বিতীয় কন্যা কর্নওয়ালের ডিউকের স্ত্রী চরম বিশ্বাসঘাতক, বাকবাগীশ-শঠ ও ধুরন্ধর রেগানের। রেগান বলল, পিতার প্রতি ভালোবাসার প্রশ্ন করে লিয়ন রেগানের সহজাত পিতৃভক্তি, শ্রদ্ধা ও অপরিমেয় শ্রদ্ধাকে চরমভাবে অপমানিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন, স্বামী-সংসার সবকিছুর চেয়ে রেগান তার পিতা লিয়রকে অধিক ভালোবাসে। রেগানের বুদ্ধির মারপ্যাঁচে বিমুগ্ধ লিয়র তাকেও বিশাল সাম্রাজ্যের এক-তৃতীয়াংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এবার ডাক পড়ল মায়ের অবর্তমানে লিয়রের পরম আদর-যত্ন এবং অকৃত্রিম স্নেহবাৎসল্যে বেড়ে ওঠা অকপট সত্যভাষিণী ছোট কন্যা কর্ডেলিয়ার। সত্যের পূজারি কর্ডেলিয়া বলল, মায়ের অবর্তমানে তোমার স্নেহবাৎসল্য এবং আদর-যত্নে আমার বড় হওয়া এবং বেড়ে ওঠা। জন্ম এবং তোমার অপত্য স্নেহ-মমতার জন্য আমি তোমার কাছে চিরঋণী। তোমার স্নেহ-ভালোবাসা, আদর-আহ্লাদের ডোরে আবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পরিণত বয়সে আমাকে অন্যের সঙ্গে সংসার সাজাতে হবে, সংসারে নতুন মুখের আগমন ঘটবে। তখন সংসারধর্ম পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তোমার প্রতি ভালোবাসা-ভক্তি-শ্রদ্ধা ও সেবা-শুশ্রƒষায় ব্যাঘাত ঘটা অস্বাভাবিক নয়।

আজন্মের সত্যভাষিণী পরম আদুরে কন্যার অকপট সত্য ভাষণে ভীমরতি ধরা পলিতকেশ রাজা লিয়র তেলেবেগুনে চটে গেলেন। সুযোগ বুঝে চরম মিথ্যাচারিণী ও ধড়িবাজ বড় কন্যা গনেরিল এবং রেগান নবীতিপর বৃদ্ধ লিয়রের ক্রোধের প্রজ্জ্বলিত আগুনে ঘি ঢালল। হিতাহিতজ্ঞানশূন্য রাজা লিয়র সেই মুহূর্তেই পরম আদুরে কন্যা কর্ডেলিয়াকে একবস্ত্রে রাজপ্রাসাদ ও রাজধানী ত্যাগের নির্দেশ দিলেন। রাজা লিয়রের চিরবিশ্বস্ত এবং পরমহিতৈষী সহচর আর্ল অব কেন্ট বাস্তবতা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করা সত্ত্বেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লেন। রাজা লিয়রের চরম অপরিণামদর্শী ও ভুল সিদ্ধান্তে অশ্রুসিক্ত নয়নে আর্ল অব কেন্ট ভাগ্যবিড়ম্বিতা কর্ডেলিয়ার প্রতি নির্নিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন এবং মনে মনে তার মঙ্গল কামনা করলেন। কর্ডেলিয়ার অকপট সত্যবাদিতায় বিমুগ্ধ ফ্রান্সের রাজা কোনো ধরনের যৌতুক এবং চাহিদা ছাড়াই নিঃশর্তভাবে কর্ডেলিয়াকে বিয়ে করার প্রস্তাব করলেন। ফ্রান্সের রাজার সাহসিকতা ও সততায় বিমুগ্ধ কর্ডেলিয়া সবার উপস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজাকে স্বামী হিসেবে বরণ করে নিলেন। স্বামীসহ রাজপ্রাসাদ ত্যাগের পূর্বমুহূর্তে অশ্রুবিগলিত নয়নে কর্ডেলিয়া পিতার পদযুগল চুম্বনপূর্বক তার আশীর্বাদ ভিক্ষা করলেন। বুকের ওপর পাথরচাপা দিয়ে পলিতকেশ লিয়রও অশ্রুসিক্ত বদনে কন্যা কর্ডেলিয়াকে বিদায় দিলেন। কর্ডেলিয়া স্বামীসহ অতি দ্রুত রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করলেন এবং যাওয়ার মুহূর্তে পিতার প্রতি নিজেদের বর্ণিত ভালোবাসার বাস্তব নিদর্শন স্থাপনের জন্য বড় দুই বোনকে সবিনয়ে অনুরোধ জানালেন। উত্তরে গনেরিল ও রেগান বলল, নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বাড়তি হিতোপদেশের প্রয়োজন নেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে কর্ডেলিয়ার রাজপ্রাসাদ ত্যাগের পর থেকেই বয়োবৃদ্ধ লিয়রের জীবনে দুর্বিপাকের ঘূর্ণিঝড় পুঞ্জীভূত হতে শুরু করল। বার্ধক্যজনিত রোগব্যাধির সঙ্গে অশ্রুসিক্ত কর্ডেলিয়ার বিদায়স্মৃতি লিয়রের মানসপটে অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মতো অহর্নিশ বয়ে যেতে শুরু করল। অন্যান্য রোগব্যাধির সঙ্গে ক্ষুধামান্দ ও অনিদ্রা লিয়রকে মৃত্যুর পূর্বাভাস দিতে লাগল। সাম্রাজ্য বণ্টনের দ্বিতীয় দিবসে রাজ্যশূন্য রাজা লিয়র শতাধিক দাস-ভৃত্য-অমাত্য সমভিব্যহারে হাজির হলেন বড় কন্যা আলবেনি ডাচ গনেরিলের প্রাসাদে। বুকভরা আশা ছিল কন্যা তাকে দেখামাত্র আকাশের চাঁদ হাতে পাবে এবং আনন্দে আত্মহারা হয়ে তার পদপ্রান্ত চুম্বন করবে। কিন্তু পিতা-কন্যার চার চোখের প্রথম সাক্ষাতে বৃদ্ধ লিয়রের যাবতীয় আশা-আকাক্সক্ষা কর্পূরের মতো হাওয়ায় মিশে গেল। কোনো ধরনের ভণিতা ছাড়াই ক্রুদ্ধা গনেরিল বলল, ‘বাবা, তুমি তো এখন রাজা নও, এমনকি সামান্য ভিটেমাটির মালিক প্রজাও নও; অন্যের অনুকম্পানির্ভর নেহাত পরাশ্রয়ী জীব। লাজলজ্জার মাথা খেয়ে লোক-লস্করের বিশাল বহর নিয়ে অন্যের বাড়িতে এসেছ মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য। এক বেলা আহারের পর তোমার লোক-লস্কর এক-চতুর্থাংশে নামিয়ে আনতে হবে; অন্যথা তোমাকেও নিয়মিত খাবার দেওয়া হবে না। গনেরিলের নিষ্ঠুর আচরণে অপরিণামদর্শী লিয়রের পাকা ধানে মই পড়ল এবং কর্ডেলিয়ার প্রতি রূঢ় আচরণ এবং গনেরিলের শঠতার নিকট শোচনীয় পরাজয়ের জন্য বোবা কান্নায় ফেটে পড়লেন।

পরাশ্রয়ী জীবনের অভিশাপ, আহার-নিদ্রায় অনিয়ম এবং সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তার ফলে দুই দিনের মাথায় লিয়র নতুন আবাসের চিন্তা শুরু করলেন। সৌভাগ্যবশত এ সময় লিয়রের সারা জীবনের বিশ্বস্ত অনুচর ও পরামর্শদাতা আর্ল অব কেন্ট গনেরিলের প্রাসাদে হাজির হলেন এবং লিয়রের নিকট নিজেকে কেইয়াস ছদ্মনামে পরিচয় দিলেন। লিয়রের প্রতি কন্যা গনেরিলের নির্মমতাকে ছদ্মবেশী কেইয়াস দ্য কার্ট ইজ ড্রইং দ্য হর্স (গাড়ি ঘোড়া টানে প্রবাদে) আখ্যায়িত করে লিয়রকে ভেঙে না পড়ার পরামর্শ দিলেন। এদিকে ছয় মাস গনেরিলের প্রাসাদে পরম আদর-আতিথ্যে কাটানোর স্বপ্ন নিয়ে আসা রাজা লিয়রকে লাঠি-জুতায় আদর শুরু করে ষষ্ঠ দিবস সাতসকালে অর্ধচন্দ্র দিয়ে তাড়িয়ে দিলেন তারই পরম আদুরে কন্যা নাম্নী বাঘিনী গনেরিল। অগত্যা কেইয়াস ও দুজন অনুচরসহ বর্ষীয়ান লিয়র মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের আশায় পা বাড়ালেন দ্বিতীয় কন্যা রেগানের প্রাসাদ অভিমুখে। দুর্ভাগ্যক্রমে গনেরিলের চেয়ে লিয়রের দ্বিতীয় কন্যা রেগান শঠতা, কপটচারিতা, ধড়িবাজি ও নিষ্ঠুরতায় কয়েক গুণ বেশি সিদ্ধহস্ত ছিল। তাই লোকমুখে নিজ প্রাসাদে পিতার আগমন বার্তা শোনামাত্রই ঝাঁটা হস্তে পিতা ও তার লোকজনকে খেদানোর জন্য প্রস্তুতি নিল রেগান। পিতাকে দেখামাত্রই গৌরচন্দ্রিকায় সময়ক্ষেপণ না করে লিয়রের উদ্দেশে একগাল বিষবাষ্প উদ্গিরণ করল রেগান। লিয়রকে বলল, ‘দারিদ্র্য ও অসহায়ত্ব তোমার সাধারণ বিবেক-বুদ্ধিকেও গ্রাস করেছে। লজ্জা-শরমের বালাই থাকলে মেয়ের আশ্রয়ে লোক-লস্কর নিয়ে আসতে না। নিজ কৃতকর্মের জন্য গনেরিল ও তার স্বামীর নিকট ক্ষমা চেয়ে তাদের আশ্রয় প্রার্থনা করাই তোমার উচিত।’

উত্তপ্ত কড়াই থেকে প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে উত্তরণের আকস্মিকতায় বিস্ময়বিমূঢ় ও চরম ক্ষুব্ধ লিয়র উন্মাদ বনে গেলেন। লিয়র প্রলাপের সুরে বকতে লাগলেন, ‘হে জগদীশ্বর, আমার চরম বেইমান-বিশ্বাসঘাতক দুই কন্যাকে সমুচিত শাস্তি দেওয়ার জন্য আমি তোমার দরবারে প্রার্থনা জানাচ্ছি। হে বিশ্ববিধাতাÑভূমিকম্প, বজ্রপাত এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে তাদের সমূল বিনাশ কামনা করছি।’ বলতে না বলতেই সূচিভেদ্য অন্ধকার চারদিক আচ্ছাদিত করে ফেলল এবং মুহুর্মুহু বজ্রপাতে সমগ্র সাম্রাজ্য থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। সেই বর্ণনাতীত ভীতিবিহ্বল পরিবেশ এবং সূচিভেদ্য অন্ধকারের মধ্যে উন্মাদ লিয়র প্রাসাদ থেকে একাকী বেরিয়ে রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে লাগলেন। লিয়রের সারা জীবনের পরম বিশ্বস্ত অনুচর আর্ল অব কেন্ট বা ছদ্মবেশী কেইয়াস ছাড়া সেই চরম যুগসন্ধিক্ষণে শিরে সংক্রান্তি নিয়ে কেউই লিয়রের পেছনে ছোটার প্রয়োজন বোধ করল না। সেই গাঢ় অন্ধকারে দিগি¦দিকজ্ঞানশূন্যের মতো বহুদূর অতিক্রমের পর অবশেষে তারা একটি পরিত্যক্ত পর্ণ কুটিরের সন্ধান পেলেন। সেই কুটিরে বহু কষ্টে রাত যাপনকালে কেইয়াস নিজের ছদ্মবেশ খুলে ফেলে নিজেকে লিয়রের সম্মুখে তার চিরপরিচিত আর্ল অব কেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। অবশেষে রাতের শেষ প্রহরে আর্ল অব কেন্ট উন্মাদপ্রায় গুরুতর অসুস্থ রাজা লিয়রকে বহু কষ্টে নিজ আলয়ে নিয়ে আসেন এবং তার সেবা-শুশ্রƒষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

পরবর্তীতে আর্ল অব কেন্ট রাজা লিয়রের প্রতি তার দুই কন্যার পাশবিক আচরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিশোধ গ্রহণের বার্তা নিয়ে কর্ডেলিয়ার প্রাসাদে হাজির হলেন। সবিস্তারে সবকিছু জানার পর কর্ডেলিয়ার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলো। আর্ল অব কেন্ট ও কর্ডেলিয়া তার স্বামীর নিকট করজোড়ে মিনতি জানালেন ফ্রান্সের সামরিক বাহিনীর সাহায্যে গনেরিল ও রেগানের সাম্রাজ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের সমুচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য। তার পূর্বে আর্ল অব কেন্টের প্রাসাদে কর্ডেলিয়া অসুস্থ পিতা লিয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে পিতা-কন্যা পরস্পরকে উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ফেটে পড়লেন।

যাহোক, ফ্রান্স বাহিনীর আক্রমণের খবর পেয়ে গনেরিলের স্বামী ডিউক অব আলবেনি এবং রেগানের স্বামী ডিউক অব কর্নওয়াল এক বিশাল বাহিনীসহ প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করল। এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ফ্রান্স বাহিনী পরাজিত হলো এবং বুড়ো রাজা লিয়র ও কর্ডেলিয়া বন্দী হলেন। কারাগারে কর্ডেলিয়াকে খুন করা হলো এবং কন্যার মৃতদেহ দেখার পর বুড়ো লিয়র গগনবিদারী আর্তনাদ করে বললেন, ‘হে বিশ্ববিধাতা, তোমার বিশাল সাম্রাজ্যে লাখ লাখ কুকুর-বিড়াল-বন্য প্রাণী অবাধে বিচরণ এবং বেঁচে থাকার সুযোগ পাচ্ছে। অথচ রাজা লিয়র এবং তার ভাগ্যহত কন্যা কর্ডেলিয়ার মাথা গোঁজার ঠাঁই তুমি রাখলে না।’ এরপর তার প্রাণহীন দেহ কর্ডেলিয়ার মৃতদেহের পাশে লুটিয়ে পড়ল। এদিকে লিয়রের বড় কন্যা গনেরিল ও মেজো কন্যা রেগান একই ব্যক্তি আর্ল অব গ্লুসেস্টারের সঙ্গে গোপন প্রণয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ল। খবরটি রাষ্ট্র হওয়ার পর আর্ল অব আলবেনি নিজ স্ত্রী গনেরিল এবং বিধবা শ্যালিকা রেগানকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে তাদের পাপের সমুচিত প্রায়শ্চিত্ত নিশ্চিত করলেন।

লেখক : সহযোগী সম্পাদক, ঠিকানা, নিউইয়র্ক।

১৮ অক্টোবর ২০২২, (বাকি অংশ আগামী সপ্তাহে)