ফল রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো বড় বাজারে রপ্তানি বন্ধ ও অন্য বাজারগুলো মন্থর হওয়ায় ফল রপ্তানিকারকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে হতাশা ছিল, সম্প্রতি তা কেটে উদ্যম গতি ফিরতে শুরম্ন করেছে বলে যখন জানা যাচ্ছে, তখন নিশ্চিতভাবেই তা ইতিবাচক। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়- মূলত নতুন বাজার তৈরি ও ইইউর শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় এ খাতে এখন জোয়ার বইছে। রপ্তানি উন্নয়ন বু্যরোর (ইপিবি) হিসেবে, প্রথম পাঁচ মাসেই পুরো অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফল রপ্তানি হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, পুরো অর্থ বছরের লক্ষ্যমাত্রা প্রথম পাঁচ মাসেই অর্জিত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত্ম ইতিবাচক। অগ্রগতির এই বিষয়টিকে আমলে নিয়ে যেন ফল রপ্তানির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে সেই লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরম্নরি।
তথ্য মতে, প্রথম পাঁচ মাসের এ সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট রপ্তানিকৃত ফলের আয় ২ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার বা ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। যা অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এক কোটি ১২ লাখ টাকার বেশি। উলেস্নখ্য, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় দুই মিলিয়ন ডলার বা ১৬ কোটি টাকা। এতে জুলাই-নভেম্বর মেয়াদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে এই পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭৮ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া গত অর্থবছরের একই সময়ে মোট আয় ছিল শূন্য দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার বা ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সে হিসাবে এ সময়ে প্রবৃদ্ধি ৫১১ শতাংশ। অথচ এর আগের সময়ে ফল রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক ধারায়।
প্রসঙ্গত বলা দরকার, ইইউতে রপ্তানি বন্ধ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা আমেরিকাসহ অন্য দেশগুলোয় বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। এসব দেশের মূলধারার বাজারগুলো ধরার চেষ্টাও চালিয়েছেন। বিশ্বের অন্য দেশগুলোতেও বাজার বৃদ্ধির সম্ভাবনায় ব্যবসায়ীদের হতাশা লাঘব হয়েছে। উলেস্নখ্য, দীর্ঘদিন ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফল রপ্তানি বন্ধ থাকলেও গত ৪ অক্টোবর থেকে আবার কিছু পণ্য রপ্তানির অনুমতি মিলেছে। এই তালিকা রয়েছে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের আওতার তিনটি ফল- পেয়ারা, জারালেবু ও আনারস। কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের বাইরে রয়েছে ১৭ ধরনের ফল। বলা দরকার, ফল রপ্তানির শুরম্ন থেকে ব্যবসায়ীরা চেষ্টা করছেন প্রবাসী বাঙালিদের চাহিদা মেটানোর। আর তখন এ খাতের রপ্তানি ছিল সীমিত পরিসরে। পাশাপাশি মূলধারার বাজারে প্রবেশের চেষ্টাও করছিলেন ব্যবসায়ীরা। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আমেরিকা ও কানাডায় রপ্তানি করলেও বাংলাদেশের ফল রপ্তানির বড় বাজার হয়ে উঠেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোটভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো। প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি আয় ছিল এসব দেশ থেকে। কিন্তু গুণগত মানের দোহাই দিয়ে ইইউ দীর্ঘদিন বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত ফল ফেরত পাঠায় এবং বারবার সতর্ক বার্তা পাঠায় যাতে পোকা, ব্যাকটেরিয়ামুক্ত ও সতেজ পণ্য রপ্তানি করা হয়।
আমরা সরকার সংশিস্নষ্টদের বলতে চাই, ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এবারে যে প্রবৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এলো তা আমলে নিতে হবে। মান নিশ্চিত করাসহ রপ্তানি বৃদ্ধি এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে কোনো সংকট সৃষ্টি হলে তার সমাধানও নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যগুলোকে আমলে নিয়ে আরও বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখা দরকার, রপ্তানি আয় একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত্ম জরম্নরি। ফলে সার্বিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে সংশিস্নষ্টরা অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা জারি রাখবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।