ফাহিম-উমরের মৃত্যুরহস্য উদঘাটন হবে কবে?

ঠিকানা রিপোর্ট : বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা, নতুন প্রজন্মের আইকন এবং পাঠাও’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ খুনের রহস্য এখনো উদঘাটন হয়নি। এই হত্যামামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ আগস্ট।
এদিকে নিউজার্সির খ্যাতনামা রাটগার্স ইউনিভার্সিটি থেকে এবারই প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেলসহ গ্র্যাজুয়েশন করা ওমর সালেহের মরদেহ হাডসন নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে। এখ নপর্যন্ত এরও কোনো কুলকিনারা হয়নি।
গত ১৩ জুলাই ম্যানহাটনে নিজের লাক্সজারি এ্যাপার্টমেন্টে খুন হন ফাহিম সালেহ। খুনের একদিন পর ১৪ জুলাই নিউইয়র্ক পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। ফাহিম সালেহের বন্ধুরা যোগাযোগ করে তাকে পাচ্ছিলেন না। যে কারণে তারা নিউইয়র্কে বসবাসরত তার খালার বাসায় ফোন করেন। ঐ অবস্থায় খালাতো বোন ফাহিম সালেহের বাসায় যান এবং তার লাশ দেখতে পান। তিনিই পুলিশকে কল দিয়েছেন। ফাহিম সালেহের নামাজে জানাজা গত ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের পোকেস্পিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। ফাহিম সালেহের জানাজায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের কারণেই জানাজায় কঠোর নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। কোনো মিডিয়ার সাথে তাদের পরিবারকে কথা বলতে নাকি বারণও করা হয়েছে। কিন্তু কেন? ফাহিম সালেহকে হত্যার অভিযোগে তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারি ডেভো হ্যাসপিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১৭ জুলাই হ্যাসপিলকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলে পাঠিয়েছে। তবে হ্যাসপিলের আইনজীবী দাবি করেছেন, তার মক্কেল নির্দোষ। তিনি আরো বলেছেন, মামলাটি মাত্র শুরু হলো। আরো অনেক রহস্য বেরিয়ে আসবে। এই মামলাটি জটিল এবং আরো বিস্তৃত।
এদিকে ফাহিম সালেহের মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ আগস্ট। অন্যদিকে ফাহিম সালেহের মৃত্যুও রহস্য নিয়ে এখনো জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই বলেছেন, ঘটনাটিকে যত সহজভাবে দেখা হচ্ছে আসলে তা এত সহজ নয়। বেশ কিছু প্রশ্ন জনমনে রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম শুধু কী অর্থের জন্যই ফাহিমকে খুন করা হলো? মাত্র ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলেকে ফাহিম কীভাবে তার সহকারি হিসেবে নিয়োগ দিলেন? খুনর দায়ে গ্রেফতার হ্যাসপিল কীভাবে ফাহিমের বাসায় প্রবেশ করে? নিউইয়র্ক সিটির পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী হ্যাসপিল দুই দিনে দুই বার ফাহিমের বাসায় ঢুকেছে। একবার খুনের দিন ১৩ জুলাই এবং খুনের পরের দিন ১৪ জুলাই। ২.৫ মিলিয়ন ডলারের ঐ লাক্সারি অ্যাপর্টমেন্টের সিকিউরিটি হ্যাসপিল ভেদ করলো কীভাবে? পালিয়েই বা গেল কীভাবে?
এদিকে কয়েকজন বন্ধুর সাথে স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ-উল্লাস করতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান উমর সালেহ (২৩)। কিন্তু তার আনন্দ- উল্লাস করা হলো না। গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে বেলা একটায় সালেহের লাশ উদ্ধার করা হয় হাডসন নদী থেকে। নিউজার্সির খ্যাতনামা রাটগার্স ইউনিভার্সিটি থেকে এবারই প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেলসহ গ্র্যাজুয়েশন করা ওমর সালেহ মা-বাবার সাথে বাস করছিলেন নিউজার্সির এডিশন সিটিতে। সহপাঠীদের সাথে ৩ জুলাই বাসা ছাড়েন সালেহ। পরদিন হাডসন নদী থেকে সালেহের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার ঠিক ৫ ঘণ্টা আগে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর লাশও উদ্ধার করা হয় ৫০ ফুট ব্যবধানে।
পুলিশ জানায়, এই তরুণী থাকতেন ম্যানহাটনে। তার নাম এলিজাবেথ লীন। তবে উভয়ে পরস্পরের পরিচিত ছিলেন বলে অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে। মৃত্যুর এক মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত উমর সালেহের মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। জানা গেছে, এখনো তদন্ত চলছে।
এদিকে, ৮ জুলাই বাদ জোহর নিউজার্সির এডিসন সিটিতে মসজিদ আল ওয়ালিতে সালেহের জানাজা শেষে নিকটস্থ মার্লবরো গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
হাডসন কাউন্টি প্রসিকিউটর ইসথার সোয়ারেজ জানিয়েছেন, পানিতে ডুবে তারা মারা গেছেন, নাকি তাদের ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুটি মৃত্যুই কোনো না কোনোভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উল্লেখ্য, লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের কর্মকর্তারা প্রাথমিক দৃষ্টিতে মনে করেছিলেন যে তারা আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং সালেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে মনে করেই বিস্তারিত তদন্তে নেমেছে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা।
হাডসন কাউন্টি প্রসিকিউটরের পক্ষ থেকে তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্যে সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেউ যদি কিছু দেখে থাকেন তবে ২০১-৯১৫-১৩৪৫ নম্বরে ফোন করতেও অনুরোধ করা হয়েছে। সালেহের বড়ভাই একই এলাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তার মাও স্কুল শিক্ষিকা বলে জানা গেছে। সালেহের পিতা মোহাম্মদ কাইয়ুম জানান, মৃত্যুর কারণ এখনো জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে তারা জোর তদন্ত চালাচ্ছেন।